শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
webmail
Tue, 12 Sep, 2017 02:10:43 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বার্তা ডকটম

কক্সবাজার: বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে গণনা শুরু করেছে আজ। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেদেশের সেনাবাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনের ভয়ে বহু রোহিঙ্গা নারী–পুরুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

প্রতিদিনই কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ক্যাম্পে আসছে। তাদের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত নয় ঢাকা।

সোমবার দিবাগত রাতে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে নিবন্ধন শুরুর প্রথমে রোহিঙ্গা নারী রুবিয়া খাতুন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হন।

তবে সোমবার দিনে এই নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর কথা ছিল। দাফতরিক জটিলতার কারণে নিবন্ধন কার্যক্রম পরে শুরু হয়।

তালিকা তৈরির সেলের প্রধান কর্নেল শফিউল আজম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে গণনা ও তালিকাভুক্ত শুরু হয়েছে। এই কাজ এখন চলবে। তালিকা ভুক্তের সময় ১০ আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি নেওয়া হবে। কর্নেল শফিউল আরও জানান, তাদের মিয়ানমারের ঠিকানা, নাম, পিতা-মাতার নামসহ নানা বিষয়ে তথ্য নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর– বিজিবি, জেলা প্রশাসন, পাসপোর্ট অফিস এবং আইওএম যৌথভাবে তথ্য সেলে সঙ্গে এই কাজে সহায়তা করছে। কোন রোহিঙ্গা যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, সেই দিকেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

নিবন্ধনের জন্য কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প ছাড়াও অন্যান্যস্থানে আরও ১৫-২০টি নিবন্ধন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

নিবন্ধনের ফলে এবার আসা ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সম্পর্কে তথ্য সরকারের কাছে থাকবে। পাশাপাশি নিবন্ধনের পর রোহিঙ্গাদের যে কার্ড দেয়া হবে, তা দিয়ে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবেন।

এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে খোলা কন্ট্রোলরুমের ইনচার্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) খালেদ মাহমুদ জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় ২০০ নতুন ঘর তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব ঘরে সাময়িকভাবে রোহিঙ্গাদের রাখা হবে।

তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে এখানে এক হাজার ৬০০ পরিবার অবস্থান করছে। পরবর্তী সময় আরও ঘর নির্মাণ করে সব রোহিঙ্গাকে একসঙ্গে একই এলাকায় রাখা হবে।'

উল্লেখ্য, মিয়ানমার সেনাদের বর্বরতায় গত ২৫ আগস্টের পর থেকে প্রতিদিন অন্তত ১৫ হাজার রোহিঙ্গা দেশ ছাড়ছে। গত ১২ দিনে ৪ লাখের অধিক নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে টেকনাফ-উখিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।

নতুন বার্তা/এমআর


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top