মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭
webmail
Tue, 12 Sep, 2017 10:35:50 PM
রুপা হত্যা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
নতুন বার্তা ডটকম

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে রুপার হত্যার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জমা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রূপার মৃত্যু হয়েছে মাথায় আঘাতের কারণে। আর মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার সিভিল সার্জনের কাছে জমা দেয়া এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রূপার মৃত্যু হয়েছে মাথায় আঘাতজনিত কারণে। আর মৃত্যুর আগে জোরপূর্বক ধর্ষণের আলামতও পাওয়া গেছে।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধুপুরের অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, ময়নাতদন্তের সময় সংরক্ষিত রূপার সোয়াব, দাঁত ও পরিধেয় বস্ত্র ডিএনএ পরীক্ষায় পাঠানোর জন্য টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে মঙ্গলবার আবেদন করা হয়েছিল। আদালত এগুলো ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন।

বুধবার সকালে এগুলো পরীক্ষার জন্য সিআইডির পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। এর রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই এ মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে। কোন আইনের কোন কোন ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হবে -আইনগত সে দিকগুলো দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মাহবুব আলম জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ডিএনএ পরীক্ষা করে আনা হবে।

গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণ করে। পরে তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই রূপার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।রূপার ভাই হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় এসে লাশের ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করেন। পরে লাশ তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেন তিনি।

৩১ আগস্ট রূপার লাশ উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তার লাশ সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫) এবং সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেফতার করে। পুলিশের কাছে তারা রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে।

২৯ আগস্ট বাসের তিন সহকারী শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর এবং সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তারা সবাই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছে।

নতুন বার্তা/কেকেআর


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top
    close