জাতীয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জন আজ থেকে

ঢাকা:দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার পুরোটাই জাতীয়করণ, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবিলম্বে এমপিওভূক্তকরণ, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদেরও ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধিসহ, বৈশাখী উৎসব ভাতা প্রদান, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে ফান্ডের ঘাটতি পূরনের লক্ষ্যে প্রতি বছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখার দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি আজ মঙ্গলবার থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জনসহ পুরো মার্চ মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এদিকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অষ্টম দিনের মতো আমরণ অনশন করেছেন। টানা এই কর্মসূচির পাশেই জাতীয়করণের দাবিতে গতকাল প্রতীকী অনশন করেছেন তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও আদর্শে বিশ্বাসী নয়টি শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক মোর্চা। কিছুদিন আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই মোর্চা বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের ডাকে শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশন পালন আজ নবম দিনে পা রাখলো। ফোরামের ডাকে ১০ জানুয়ারি থেকে প্রথমে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি, পরে ১৫ জানুয়ারি থেকে তাঁরা আমরণ অনশন করছেন।

লিয়াজোঁ ফোরামে দাবি, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে গতকাল চারজন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। প্রাথমিক ও হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা শেষে তাঁরা কিছুটা সুস্থ হলে আবার অনশনে যোগ দেন। এ নিয়ে গত সাত দিনে এক শ শিক্ষক-কর্মচারী অসুস্থ হয়েছেন।

তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা প্রেস ক্লাবের সামনে গতকাল সারাদিন প্রতীকী অনশন পালন করেন। তাঁরা বলেছেন, দাবি আদায় করতে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে আগামী দু-এক দিন তাঁরা অনশন করবেন। এরপরও দাবি আদায় না হলে তাঁরা আমরণ অনশনে যাবেন।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।

সমিতির সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শর্ত পূরণ করলেও তা জাতীয়করণ করা হয়নি। এই ধরনের ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন ১৬ হাজার ৩৩৬ জন।

নতুন বার্তা/এমআর

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker