জাতীয়

কেন ৩৭৪ জন রোহিঙ্গাকে নিতে চায় মিয়ানমার?

ঢাকা: প্রথম ধাপে বাংলাদেশের দেয়া আট হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা থেকে মাত্র ৩৭৪ জনকে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার৷ মিয়ানমার কি আবার কালক্ষেপনের কৌশল অবলম্বন করছে? নাকি বাংলাদেশের তরফেও কোনো ত্রুটি ছিল?

বুধবার দুপুরে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই ৩৭৪ জনের তালিকা পাঠিয়েছে মিয়ানমার৷ ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মো. খোরশেদ আলম সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত আর কিছু জানাননি৷

একমাস আগে সম্পাদিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ আট হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা দেয় মিয়ানমারকে৷ তাদের তথ্য ফরমের চাহিদা পুরণ করেই ওই তালিকা পাঠানো হয়৷ কিন্তু মিয়ানমার বলছে, তালিকায় অনেক সমস্যা আছে৷ ছবি ও ফিঙ্গার প্রিন্ট নেই৷ যাচাই-বাছাই শেষে মিয়ানমার ৩৭৪ জনকেই পুনর্বাসনের উপযোগী বলে নিশ্চিত করেছে৷ এবং তাদের রাখাইনের অধিবাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে৷

রিলিফ, রিহেবিলেটেশন অ্যান্ড রিফিউজি কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মিয়ানমার শুরুতে বলেছিল, ওরা যেভাবে চেয়েছে, সেভাবে হয়নি৷ কিছু অবজারভেশন দিয়েছিল৷ ওদের চাহিদা অনুযায়ী সেসব তথ্য আমরা দিয়েছি৷ তারা ৩৭৪ জনকে ক্লিয়ার করেছে৷ বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন আছে বলে বলছে৷ ওদের ডিটেইল পেলে তখন আমরা বলতে পারবো আসলে তারা কী বলতে চাইছে৷ তখন আমরা দেখবো৷’

বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তথ্যে কোনো ঘাটতি ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘‘একটি নির্দিষ্ট ফরম ছিল৷ তাতে যেসব তথ্যের কথা বলা হয়েছে, আমরা তা পাঠিয়েছি৷ এখন ওরা ঠিক কী সমস্যার কথা বলছে, তা পেলে আমরা সেগুলো দেখতে পারবো৷’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘ফেরত নিলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে কিনা সেটা পরের ব্যাপার৷ আর এটা ওরা দেখবে৷ আমাদের দিক থেকে সে ব্যাপারে কিছু করার নেই৷’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে বলছে, ‘‘এই ৩৭৪ জন ৯০টি পরিবারের সদস্য৷ যাদের যাচাই-বাছাই করা হয়েছে, তাদের ভেতরে এক বা একাধিক জনকে আরসার সদস্য বলে সন্দেহ করছে তারা৷ তবে তাদেরকেও তারা ফেরত নিতে চায়৷’

চুক্তি অনুযায়ী, এখন তাদের জাতিসংঘের কোনও সংস্থার মাধ্যমে ফেরত পাঠাতে হবে৷ এজন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করে ফেলেছে৷ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ফিজিক্যাল অ্যারেজমেন্ট চুক্তিতে বলা হচ্ছে, তালিকা হস্তান্তরের দুই মাসের মধ্যে সম্ভব হলে তারা সম্পূর্ণ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ করবে৷ যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যাবে৷ তবে চুক্তির শর্তানুযায়ী রোহিঙ্গাদের ফেরত যেতে হবে স্বেচ্ছায়৷

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পরিচয় নিশ্চিত হতে এবার এক জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে৷ তাতে ব্যক্তি নয়, পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ আর তাতে ছবি ও

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker