বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮
Fri, 11 May, 2018 06:22:27 AM
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ স্থগিত
নতুন বার্তা ডেস্ক

ঢাকা: প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু- ১’ এর উৎক্ষেপণ ২৪ ঘণ্টা পিছিয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিট থেকে ৪টা ১৪ মিনিটের মধ্যে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হবে বলে জানিয়েছে আমেরিকার বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টা ৪৭ মিনিটে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটির আমেরিকার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশ পানে যাত্রা শুরুর কথা ছিল। সব প্রস্তুতি সেরে উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল; কিন্তু মিনিট খানেক আগে সমস্যা দেখা দেয়ায় স্যাটেলাইটটি আর ওড়েনি লঞ্চ প্যাড থেকে।

উৎক্ষেপণ স্থগিতের পর স্পেসএক্স এক টুইট বার্তায় বলেছে, ‘ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া এক মিনিট আগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজ থমকে যেতে হয়েছে। রকেট এবং পেলোড ভালো অবস্থায় আছে। আগামীকাল স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৪ মিনিটে আবারও উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে একটি দল কাজ শুরু করেছে।’

ঠিক কী কারণে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হলো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি স্পেসএক্স। তবে, রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সামান্য ত্রুটির কারণে ২৪ ঘণ্টা পিছিয়ে গেল বঙ্গবন্ধু–১ উৎক্ষেপণ।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দেখতে উপস্থিত ছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়, তারানা হালিম, জুনাইদ আহমেদ পলকসহ অন্যরা

কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, ‘উৎক্ষেপণের ঠিক দুই মিনিট আগে এটি কম্পিউটারের কন্ট্রোলে চলে যায়। হয়ত কিছু সমস্যায় আপতত উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়েছে। আগামীকাল ঠিক একই সময় পুনরায় উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।’

উৎক্ষেপণ দেখতে কেনেডি স্পেস সেন্টারে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি তার ফেইসবুকে লিখেছেন, “উৎক্ষেপণের শেষ মিনিট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে। কম্পিউটারের হিসাবে কোনো কিছু স্বাভাবিকের বাইরে ধরা পড়লে তা উৎক্ষেপণ কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। আজকে উৎক্ষেপণের মাত্র ৪২ সেকেন্ড আগে তা বন্ধ করে দেয়। স্পেসএক্স আবার সব কিছু পরীক্ষা করবে এবং আগামীকাল একই সময়ে আবার উৎক্ষেপণের চেষ্টা করবে।”

রকেট উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেয়া হয় না, তাই এ রকম হওয়াটা ‘খুবই স্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেন জয়।

সরকার ২০১৫ সালে ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট প্রকল্প গ্রহণ করে এবং এটি নির্মাণে একই বছরের নভেম্বরে ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া কোম্পানির সঙ্গে ২৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করে। স্যাটেলাইটের জন্য মোট ব্যয় দুই হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা, এরমধ্যে এইচএসবিসি ঋণ হিসেবে এক হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা সরবরাহ করছে। যদিও বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট বিদেশ থেকে ক্রয় করা হয়েছে এবং এটি উৎক্ষেপণও বিদেশ থেকেই করা হবে তবে দেশ থেকেই এই স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতিমধ্যেই গাজীপুরের জয়দেবপুরে এবং রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় একটি করে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

উৎক্ষেপণ সফল হলে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবার সমপ্রসারণ করা সম্ভব হবে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। স্যাটেলাইটভিত্তিক টেলিভিশন সেবা ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজেও এ স্যাটেলাইটকে কাজে লাগানো যাবে।

নতুন বার্তা/কেকে


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top