জাতীয়

বিদ্যুৎ খাতে সরকারের আকাশ ছোঁয়া সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিদ্যুৎ ছাড়া একটা দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন একেবারেই অসম্ভব-অকল্পনীয়। কোনো দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ও পূর্বশর্ত হচ্ছে এই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিশ্চয়তা বিধান করা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ বা নিশ্চয়তা না থাকলে শিল্প-কলকারখানা সচল থাকে না। জ্বালানি (তেল-গ্যাস) ছাড়া বাস বা যানবাহনের চাকা ঘোরে না, বিমানের পাখাও মেলে না আকাশে। কৃষি উৎপাদনও সম্ভব নয় বিদ্যুৎ ছাড়া। বিদ্যুৎ ছাড়া মানুষের দৈনন্দিন জীবন যেমন অচল, ঠিক তেমনি দেশের সার্বিক উন্নয়ন-অগ্রগতি, উৎপাদন, সমৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতেও বিদ্যুৎ এর আবশ্যকতা রয়েছে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও এ খাতে সরকারের সাফল্য অভাবনীয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ৪৯৪২ মেগাওয়াট। এ প্রেক্ষাপটে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানাবিধ উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। সরকার কর্তৃক প্রণীত পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্লান অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৪ হাজার মেগাওয়াট। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন বাজেটের আকার ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে ৯ গুণের বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ বাজেট বৃদ্ধির সুফল এখন জনগণের কাছে সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সংখ্যা ২৭ থেকে ১২১টিতে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৭৫৩ মেগাওয়াটে। সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ২০০৯ সালের ৩২৬৮ মেগাওয়াট থেকে বর্তমানে ২০০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বিগত ৯ বছরে নতুন করে ১ লাখ ৯৫ হাজার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা ২ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখে এবং সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর পরিমাণ ৪৭ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতে শুধু সংখ্যাগত উন্নয়নেই জোর না দিয়ে এ খাতের গুণগত মানোন্নয়নেও সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়েছে। এতে বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লস ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে। বিগত ৯ বছরে বিদ্যুৎ খাতের বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতাও দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker