জাতীয়হোমপেজ স্লাইড ছবি

বসন্ত উৎসবের ইতিবৃত্ত

” আমি তো দুরন্ত ফাল্গুন গোটা গায়ে মেখে
তোমার জন্য বসে আছি
মনে মনে মাদল বাজাচ্ছি আর
গোধূলির রঙ দেখছি দিগন্তে ”

উপরের কবিতার মতো প্রেম ও প্রকৃতির অপূর্ব সম্মেলন নিয়ে নাগরিক জীবনে এসেছে বসন্ত! বসন্ত মানেই রঙিন ফুলেদের মিছিল! রমণীর চুলে ফুলের গহনা আর বাসন্তী শাড়ি! বসন্ত মানেই নতুন স্বপ্নে বিভোর হয়ে এগিয়ে যাওয়া শুরু! ধূসর নাগরিক জীবনে বসন্ত উৎসব এক অবিরল রঙের ধারা। কিন্তু এই বসন্ত উৎসব শুরু হলো কিভাবে? এই প্রশ্ন আমাদের সবার মনেই! আসুন জেনে আসি প্রশ্নের উত্তর।

বসন্ত উৎসব শুরুর ইতিহাস

মধ্যযুগে সম্রাট আকবর বাংলা বর্ষপঞ্জী হিসেবে আকবরি সন বা ফসলী সনের প্রবর্তন করেন। সেসময় ১৪টি উৎসব পালনেরও রীতি প্রবর্তিত হয়। এর অন্যতম ছিলো বসন্ত উৎসব। সেসময় বাংলার সকল সম্প্রদায়ের মানুষই বসন্ত বরণে বিভিন্ন লোকজ উৎসব ও মেলায় অংশ নিতেন। পহেলা ফাল্গুনে বসন্ত উদযাপনের রীতিও ঐতিহ্যবাহী।

আরেকটি সূত্র থেকে জানা যায়, ১৯০৭ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট ছেলে শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুরু করেছিলেন ঋতুরঙ্গ উৎসব। সেদিন শান্তিনিকেতনের প্রাণ কুঠিরের সামনে শুরু হয় এ উৎসব। এখন অবশ্য সেদিনের প্রাণকুঠি শমীন্দ্র পাঠাগার হিসেবে পরিচিত। সেই ঋতুরঙ্গ উৎসবই আজকের বসন্ত উৎসব। আগে বসন্তের যেকোনো দিন অনুষ্ঠিত হতো এ উৎসব। পরবর্তীকালে অবশ্য বসন্ত পূর্ণিমার দিনই অনুষ্ঠিত হয় এ উৎসব। এ উৎসব অবশ্য ঋতুরাজ বসন্তে স্বাগত জানানোর উৎসব।

বাংলাদেশিদের নিজস্ব সত্ত্বা জেগে ওঠে এই বসন্তের ঋতুতেই, ১৯৫২’র ভাষার দাবীতে যখন বাংলার মানুষ পথে নেমেছিলো, গুলি খেয়েছিলো, জহির রায়হানের সঙ্গে দৃঢ় প্রত্যয়ে বলেছিলো, আগামী ফাগুনে আমরা দ্বিগুণ হবো। প্রতিবাদস্বরূপ বাঙালি আপন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে আগ্রহী হয়। ষাট দশক থেকেই পহেলা ফাল্গুনে হলুদ শাড়ি পরা নতুনভাবে শুরু হয় বলে জানা যায়। তবে অনেক আগে থেকেই ছোটখাটোভাবে একেক জায়গায় এই উৎসব পালন করা হতো।

বাংলাদেশে বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়। সেই থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker