জাতীয়হোমপেজ স্লাইড ছবি

স্বাধীনতার চার যুগ: বাংলাদেশ পৃথিবীর বিস্ময়

বাশার আল আসাদ: যুদ্ধ, ধ্বংস আর স্বজন হারানোর দুঃসহ বেদনার মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে ৪৯ বছর আগে দক্ষিণ এশিয়ার নবীনতম এই দেশটির যখন জন্ম হয় তখন বিশ্বে একে ডাকা হতো ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’বলে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিদের তিনশ বছরের শাসন-শোষণে প্রায় নিঃশেষিত এই ভূখন্ড একদিন বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হবে তা কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি। কিন্তু সেই দুঃসাধ্যকে বাস্তবে পরিণত করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষই এ ভূমির সেরা সম্পদ। তারাই বদলে দিয়েছে বাংলাদেশের উন্নয়নের চাকা।

জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঈর্ষণীয়:
জিডিপির প্রবৃদ্ধি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী জুলাই মাসে সমাপ্ত হতে যাওয়া বাংলাদেশের চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের দেশজ উৎপাদন জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সরকার। এটা হবে এ খাতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। চলতি অর্থ বছরে গড় মাথাপিছু আয়ও বেড়ে ১৯০৯ মার্কিন ডলারে দাঁড়ানোর কথা। গত অর্থ বছরে জিডিপি এর প্রবৃদ্ধি ৭.৮৬ শতাংশ এবং গড় মাথাপিছু আয় ১৭৫১ ডলার ছিল।

হার মানতে না জানা কৃষক:
কৃষি ও কৃষক বাংলাদেশের প্রাণ। বন্যা, খরা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। প্রায় ক্ষেত্রেই তারা পান না সহায়তা। এতসব প্রতিকূলতার মাঝেও বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন কৃষকরা। অতি জনবহুল বাংলাদেশে সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করা স্বাধীনতার পর একটা বড় চ্যালেঞ্জই ছিল। আবার ৪৯ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১১ কোটি। খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন বাড়ানোটা কম চ্যালেঞ্জের বিষয় নয়। এ ক্ষেত্রে বিস্ময়কর সফলতা দেখিয়েছেন বাংলাদেশের কৃষকরা। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) তথ্য অনুসারে, আম উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সপ্তম,ধান উৎপাদনে চতুর্থ,মাছ উৎপাদনে ৫ম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অবস্থান অষ্টম। আর মোট ফল উৎপাদনে বিশ্বে ২৮তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে নারীর নজরকাড়া অবদান:  নারীর অগ্রগতির নানা সূচকে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ১৪৪টি দেশের নারী-পুরুষ সমতায় বিভিন্ন অবস্থান নিয়ে প্রতিবছর এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই তালিকায় বাংলাদেশ ৪৭, মালদ্বীপ ১০৬, ভারত ১০৮, শ্রীলঙ্কা ১০৯, নেপাল ১১১, ভুটান ১২৪ ও পাকিস্তান রয়েছে ১৪৩তম অবস্থানে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও নারীর অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। নারীর কর্মসংস্থানও বেড়েছে সমানতালে। তৈরি পোশাক খাতে বর্তমানে কর্মরত আছে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক, যার ৯০ শতাংশই নারী। বিদেশে কর্মসংস্থানে বাংলাদেশের নারীদের সংখ্যা গত এক দশকে প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে।

স্যানিটেশনে ‘একশ’তে একশ:
সুস্থ জাতি গঠনে স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর জন্য রোল মডেল। ২০১৭ সালেই স্যানিটেশনে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ খোলা জায়গায় পায়খানার হার শূন্যে নামিয়ে এনেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো দেশ এই অবস্থানের ধারেকাছেও নেই।

উন্নয়নের রূপকল্প বিদ্যুৎ, মেট্রোরেল ও পদ্মা সেতু:
গত কয়েক বছরে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদন, যোগাযোগ ও বন্দরের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পদ্মা সেতু এখন স্বপ্ন নয় বাস্তব। ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাকে আরোগতিশীল করার জন্য মেট্রোরেল তৈরির কাজ চলছে। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পায়রা ও কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে আরও দুটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। দেশজুড়ে একশ বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ৪০ বিলিয়ন বিদেশি বিনিয়োগ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker