জাতীয়প্রযুক্তিহোমপেজ স্লাইড ছবি

আমরা কতটুকু নিরাপদ সাইবার ক্রাইম আইনে?

এনামুল সাদিক: সাইবার অপরাধ হলো ভার্চুয়াল জগতে কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্মানহানি, কিংবা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি করা। এ ধরনের অপরাধ একটি জাতির নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বাস্থ্য হুমকির কারন হতে পারে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও প্রকট হচ্ছে সাইবার ক্রাইম। প্রতি বছর বাড়ছে অপরাধের মাত্রা। হ্যাকিং, তথ্য চুরি থেকে শুরু করে ডার্ক ওয়েবে মানি লন্ডারিংসহ নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে অপরাধীরা। হলি আর্টিজান হামলা ও বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাকিংয়ের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে সবাই। বাংলাদেশে সিআইডি ও ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি ডিভিশন আলাদাভাবে কাজ করছে এসব বিষয়ে। কিন্তু আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির দুনিয়ায় পাল্লা দিতে কতোটা প্রস্তুত তাঁরা?

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে কোনো মিথ্যা বা অশ্লীল কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয় অথবা রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়, তাহলে এগুলো হবে অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা। এছাড়াও ২০১৮ সালে সরকার ডিজিটাল আইন চালু করেন। সাইবার ক্রাইম আইনের চেয়ে ডিজিটাল আইন ২০১৮ আরো শক্তিশালী। এই আইনের ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল মাধ্যমে আক্রমণাত্মক ভয়ভীতি দেখান, তাহলে তাকে তিন বছরের জেল ও তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া হবে।

ডিজিটাল আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনো ধরনের তথ্য-উপাত্ত, যে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করে, তাহলে সেটা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে এবং এ অপরাধে সেই ব্যক্তি ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন৷ ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ধর্মীয় বোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করে, তাহলে তার ১০ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা হবে৷ শুধু আইন দ্বারা কি আর সমস্যা সমাধান হবে? কিছু দিন আগে বিবিসি বাংলা একটা নিউজ করেছে, বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ ব্যাংক সাইবার হামলার আতংকে আছে। প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়, সেই মোতাবেক মানুষ বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের আপডেট না করলে, যেকোনো সময় যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয় উল্লেখ যে,এ ধরণের আপগ্রেডেড প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষ জনবল থাকাও জরুরি। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহৃত আপনার একাউন্ট প্রতিনিয়ত আপডেট করতে হবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো সাইবার ক্রাইম সম্পর্কে সবসময় সচেতন থাকতে হবে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker