জাতীয়হোমপেজ স্লাইড ছবি

রোজার ইতিহাস

মাহমুদুর রহমান: ইসলামের পাঁচটি রুকন বা খুঁটির মধ্যে একটি হলো রোজা। রমজান মাসে তিরিশ কিংবা উনত্রিশ দিন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা রোজা পালন করে। আল্লাহ্‌ কুরআনে বলেন, “ রোজা আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেবো”।

ইসলামে অবশ্য পালনীয় হলেও এর মানে এই নয় যে, ইসলাম ধর্ম হতেই রোজা সূচনা। ইসলাম আগমনের বহু বছর পূর্ব হতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নানা উদ্দেশ্যে উপোস করে থাকতো। ভারতে মুনি ঋষিদের ইতিহাস পুরাণে চোখ রাখলে এরকম দেখা যাবে। তবে সঙ্গে এর সরাসরি সংযোগ নেই। কিন্তু সেমেটিক ধর্মগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে ইসলামের পূর্বেও রোজা বা রোযা সদৃশ কিছু ধর্মীয় রীতি পালন করা হতো।

রোজা শব্দের অর্থ বিরত থাকা। এই বিরত থাকা হলো পানাহার সহ ইন্দ্রিয়পরায়নতা থেকে বিরত থাকা। বর্তমান সময়ে এসে অনেকের কাছেই রোজা মানে কেবল সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকা। কিন্তু ইসলাম অনুসারে রোজা এ কথা বলে না। আরবি ‘সাওম’ শব্দ দ্বারা মুসলিমদের যে ধর্মীয় রীতি রোজা হিসেবে আমাদের কাছে পরিচিত তার সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম আছে।

ইসলামের পূর্বে খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী মানুষেরা যেভাবে উপবাস করতো এর সঙ্গে বর্তমান রোযার গঠনগত কিছু মিল আছে। এছাড়া ইহুদী ধর্মেও এরকম বিধান পালন করা হতো বলে জানা যায়। কিন্তু রোজার ইতিহাস তারও আগে থেকে শুরু হয়।

তাফসিরের বর্ণনায় রয়েছে, আদম (আ.)-এর সৃষ্টির পর তাঁকে ‘নিষিদ্ধ ফল’ আহার বর্জনের যে আদেশ দিয়েছেন- এটাই মানব ইতিহাসের প্রথম সিয়াম সাধনা। ইতিহাসে আরো পাওয়া যায়, আদম (আ.) সেই রোজা ভাঙার কাফফারা স্বরুপ ৪০ বছর রোজা রেখেছিলেন।

আর ওই নিষিদ্ধ ফলের প্রভাব আদম (আ.)-এর পেটে ৩০ দিন বিদ্যমান ছিল বলে আদম (আ.)-এর শ্রেষ্ঠ সন্তান মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতকে আল্লাহ তাআলা এক মাস রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিহাসে এ-ও পাওয়া যায়, ওই ফলের প্রভাবে হজরত ইব্রাহিম (আ.) থেকে শুরু করে হজরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সব যুগে ৩০টি রোজা ফরজ ছিল।

রোযা যে ইসলাম আগমনের পূর্বেও ছিল, সে সম্পর্কে আল্লাহ্‌ নিজেই কুরআনে বলেছেন,  “হে যারা ঈমান এনেছ তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে করে তোমরা তাক্ওয়া অবলম্বন করতে পার”। (সূরা বাকারা: ১৮৩)

পরবর্তীতে মহানবী হযরত মোহম্মদ (সঃ) এর আগমন এবং ইসলামের পরিপূর্ণতার সঙ্গে সঙ্গে মুসলিমদের অন্যান্য অবশ্য কর্তব্য তথা ফরজ হিসেবে আল্লাহ্‌ তাদের সাওম পালনের নির্দেশ দেন। মোহম্মদ (সঃ) এর মাধ্যমে এর বিস্তারিত নিয়মও মুসলমানদের জানিয়ে দেওয়া হয়।

রোজা ফার্সি শব্দ। নানা সময়ে উপমহাদেশে ফার্সি শব্দের প্রচলনের কারণে, সাওম আমাদের কাছে রোজা নামে পরিচিত। নাম যা-ই হোক, মহানবীর জানানো নিয়ম অনুসারে সারা বিশ্বের মুসলিমরা রোজা পালন করে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker