জাতীয়হোমপেজ স্লাইড ছবি

ঈদ উদযাপন : দেশে বিদেশে

মাহমুদুর রহমান: গেল খুশির ঈদ। মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে খুশির দিন এই ঈদ-উল-ফিতর। নানা দেশের মুসলমানরা মোটামুটি একই রকম ভাবে ঈদ উদযাপন করলেও দেশ ভেদে কিছু বৈচিত্র্য রয়েছে। আজ আমরা দেশে দেশে পালিত ঈদ সম্পর্কে জানবো।

সৌদি আরব: আরব থেকে ইসলামের সূচনা, তাই আরবের কথাই আগে বলি। সৌদি আরবে মুসলমানদের বিভিন্ন গোত্র বিদ্যমান। গোত্র ভেদে উৎসবের ভিন্নতা এবং মিল দুটোই দেখা যায়। ঈদ উপলক্ষ্যে সৌদির মানুষেরা তাদের বাড়িটি খুব সুন্দর করে সাজান। এ সময় তারা তাদের সাদা রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেন। শিশুদের জন্য অনেকেই চকোলেট ও অন্যান্য উপহার পকেটে রাখেন। এমনকি দোকানিরাও শিশুদের মিষ্টি জাতীয় চকোলেট, টফি উপহার দেন।

মিসর: পিরামিডের দেশ মিসরের মানুষ একে অন্যকে ঈদ মোবারক বলার মাধ্যমে ঈদ উৎসব শুরু করেন। সকাল সকাল তারা মসজিদে ছুটে যান ঈদের নামাজ আদায় করতে। তবে মিসরীয়দের রয়েছে ঈদের এক নিজস্ব খাবার। বাদাম ও চিনির দিয়ে বানানো ‘কাহক’ নামের মজাদার এ খাবারটি ছেলে-বুড়ো সব মিসরীয়র পছন্দ। ঈদের তিন দিনের ছুটি উদযাপন করার জন্য মিসরীয়রা দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় হাজির হন।

তুরস্ক: তুরস্ক পৃথিবীর অন্যতম মুসলিম রাষ্ট্র এবং মুসলিম শক্তি। উৎসবকে তুর্কিরা বলে ‘বৈরাম’। এককালে খেলাফত বর্তিত হওয়া এই রাষ্ট্র ঘটা করেই ঈদ পালন করে। ঈদের সময় এখানে ‘সেকের বৈরামি’ বা মিষ্টি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সবচেয়ে ভালো পোশাকটি পরে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি মেখে মসজিদে উপস্থিত হন তুর্কিরা। অন্যান্য আনন্দের সাথে পৌর কতৃপক্ষ গরিবদের জন্য সংগৃহীত তহবিল হতে দান করে। এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় কনসার্ট। কনসার্ট থেকে সংগৃহীত টাকাও বিলিয়ে দেওয়া হয় গরিবদের মধ্যে।

তিউনিসিয়া: আফ্রিকান নানা দেশে রয়েছে অনেক মুসলমান। তাদের কাছেও ঈদ আসে। তিউনিসিয়ানরা একে অন্যকে বিস্কুট উপহার দিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঈদ-উল-ফিতরের উৎসব তারা পালন করে তিন দিন ধরে। মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তিউনিসিয়ান পুরুষরা তাদের ঈদ উদযাপন শুরু করেন। আর এ সময় মহিলারা ব্যস্ত থাকেন মুখরোচক খাবার প্রস্তুতির কাজে। ঈদ উপলক্ষে শিশুরা তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে নতুন জামা এবং খেলনা উপহার পেয়ে থাকে।

ভারত-পাকিস্তান: বহুদিন ধরে বৈরি ভাবাপন্ন দুই রাষ্ট্র কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তাদের উৎসবে আচরণে মিল রয়েছে। হিন্দুপ্রধান হলেও ভারতে রয়েছে অনেক মুসলিম এবং পাকিস্তানের সাথে ভারতের মুসলিমদের ঈদ উৎসবে মিল রয়েছে। উপমহাদেশীয় সংস্কৃতির মতোই ঈদ উপলক্ষে মুসলিমরা নতুন পোশাক কেনেন এবং উপহার দেন আত্মীয় স্বজনকে। ঈদের দিন বেড়াতে যান একে অন্যের বাড়িতে। ভারত-পাকিস্তানের মুসলমানরা ঈদ উপলক্ষে বিশেষ কাওয়ালি আয়োজন করে। আধুনিক সময়ে এসে অবশ্য কনসার্ট সে জায়গা দখল করেছে। সেমাই আর নামাজের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মতোই এই দুই দেশেও ঈদ উৎসব শুরু হয়। এবং গুরুভোজনের আয়োজন উল্লেখ্য। গরু, খাসি, মুরগীর মাংস। বিরিয়ানি, পোলাও সহ নানা মিষ্টি খাবার ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে দেয়।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker