জাতীয়

উপমহাদেশে যত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড

মাহমুদুর রহমান: অনাদিকাল হতেই নানা কারনে গুপ্তহত্যা হয়ে আসছে। আধুনিক সময়ও এ থেকে মুক্ত নয়। মতবিরোধ, ক্ষমতার লোভ এবং অন্যান্য কারনে নানা সময়ে পৃথিবীর জনপ্রিয় ও ক্ষমতাবান মানুষদের হত্যা করা হয়েছে। উপমহাদেশেও এমন রাজনৈতিক হত্যা কিংবা গুপ্তহত্যা কম হয়নি। এখানে তেমন কিছু জনপ্রিয় নেতার হত্যা সম্পর্কে জানবো আমরা।
মহাত্মা গান্ধী: ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী তথা মহাত্মা গান্ধীর মতো জনপ্রিয় নেতা হয়ত কেউ ছিলেন না। ইংরেজদের কাছ থেকে ভারতের স্বাধীনতার আন্দোলনে তার ছিল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। কেবল তাই নয় ভারতের মানুষের মাঝেও তাঁর প্রভাব কম ছিল না। কেউ কেউ তাকে বসিয়েছিলেন ঈশ্বরের আসনে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠও ছিল। গোপনে গোপনে তাঁকে অনেকে অপছন্দও করতেন। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি মাস। ভারত স্বাধীন হয়েছে কেবল কয়েক মাস। মহাত্মা গান্ধী সেদিন নতুন দিল্লীর বিরলা ভবনে (বিরলা হাউস) রাত্রিকালীন পথসভা করছিলেন। সেই সময় নাথুরাম গডসে নামক এক ব্যক্তি মহাত্মাকে গুলি করেন। নাথুরামের গডসের সঙ্গে হিন্দু মহাসভার যোগাযোগ ছিল। হিন্দু মহাসভা বিভিন্ন কারনে গান্ধীর মতের বিরোধী ছিল। মৃত্যুর পূর্বে মহাত্মা গান্ধী ‘হে রাম’ তথা ‘হায় ঈশ্বর’ কথাটি উচ্চারণ করেন।
বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমান: আমাদের জাতির পিতা, স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তান আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন দেশের নাবিক। সারাজীবন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং মানুষের মুক্তির জন্য খেটে যাওয়া মানুষটি প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। কেবল দেশে নয়, বিশ্বের দরবারে তিনি পরিচিত হয়েছিলেন তাঁর সাহস আর ব্যক্তিত্বের জন্য। কিন্তু তাঁর মানুষেরাই বিশ্বাসঘাতকতা করে বসলো। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য তাদেরই পিতাকে হত্যা করলো নির্মম ভাবে। কেবল বঙ্গবন্ধু নয়। সেদিন তাঁর সঙ্গে শহীদ হয়েছিল পুরো পরিবার। এক মুহূর্তে অনাথ হয়ে পড়ে একটি জাতি। ভাগ্যগুণে বেঁচে গিয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর বোন শেখ রেহানা। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুকে পূর্বেই সতর্ক করা হয়েছিল যে কিছু একটা ষড়যন্ত্র চলছে। জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আমার মানুষ আমাকে মারবে না”।
ইন্দিরা গান্ধী: মহত্মা গান্ধীর পর ভারতে যদি কেউ তুমুল জনপ্রিয় হয়ে থাকেন, তবে তিনি ইন্দিরা গান্ধী। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর কন্যা ইন্দিরা অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করেন। ১৯৪১ সালে দেশে ফিরে তিনি পিতার সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে পিতার সহকারী হিসেবেও কাজ করেন। লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর পর ১৯৬৬ সালে ইন্দিরা ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৭১ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তিনি চার মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, এটিই তাঁর জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়। কিন্তু তাঁর প্রতিও অনেকে বিরূপ ছিল। নানা কারনের মধ্যে একটি হলো ১৯৭৫ সালে জরুরী অবস্থা জারি এবং ১৯৮৪ সালের জুনে তাঁর নির্দেশে ভারতীয় সেনা, শিখদের পবিত্র স্বর্ণমন্দিরে অপারেশন চালায়। সেই বছরই ৩১ অক্টোবর, নিজ শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন ইন্দিরা গান্ধী।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker