জাতীয়হোমপেজ স্লাইড ছবি

ভাইরাল সংস্কৃতি: ইতিবাচক না নেতিবাচক?

মাহমুদুর রহমান: ফেসবুকে ইদানীং সবচেয়ে পরিচিত শব্দ হলো ‘ভাইরাল’। কেউ ভাইরাল হতে চায় আর কেউ ভাইরাল করতে চায়। ভাইরালের উপরেই চলছে দেশ। কিন্তু কি এই ভাইরাল?

ভাইরাস আমাদের শরীরে প্রবেশ করলে তা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে, ছড়িয়ে পড়ে সারা শরীরে। রোগগ্রস্ত হয় শরীর। একই রকম কাজ করে কম্পিউটার ভাইরাস। অর্থাৎ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আজকাল কোন বিষয়, কোন ঘটনা, ভিডিও-অডিও সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকেই বলে ভাইরাল হওয়া।

উদাহরণ স্বরূপ, কোথাও একটি মেয়েকে উত্যক্ত করা হচ্ছে এটি ভিডিও করে ইন্টারনেটে আপলোড করে দেওয়ার পর একের পর এক শেয়ারের মাধ্যমে তা পৌঁছে যাবে অনেকের কাছে। কিংবা কোন পুলিশের ঘুষ নেওয়ার ছবি, ভিডিও, নেতার ফোনালাপের রেকর্ডিং একই ভাবে ছড়িয়ে যাওয়ার নামই ভাইরাল হওয়া।

নিঃসন্দেহে বিষয়টি আজকের দিনে এসে স্বাভাবিক, কেননা যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন অন্য পর্যায়ে চলে গেছে। একটা ক্লিকের মাধ্যমে খবর পৌঁছে যায় সহস্র মানুষের কাছে। এবং কোন চিত্তাকর্ষক টপিক হলে তা মানুষ শেয়ার করবেই। তথ্য জানার অধিকারও সবার আছে। সেক্ষেত্রে ভাইরাল হয়ে নানা খবর মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া একটা ভালো লক্ষণ।

কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা কোন জিনিসগুলো ভাইরাল করছি?

সাধারনত দেখা যায় নানা নৃশংসতা, নেগেটিভ আইডিয়া, পরকীয়ার সংবাদ, নায়িকার বিচ্ছেদ, সেলিব্রিটির অশ্লীল ভিডিও, এসবই ভাইরাল করা হচ্ছে। কেননা মানুষ এসব বিষয়ে অদ্ভুত কোন আগ্রহ অনুভব করে। এবং এসব ছড়িয়ে পড়ে একের কাছ থেকে অন্যের কাছে। ফলে আমাদের সমাঝে ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণা, বিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি।

আসলে ভাইরাল হওয়ার ব্যপারটা খারাপ না কিন্তু আমরা এখনও সেটাকে সুন্দর বা ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারছি না। পারছি না বললেও ভুল হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, কোটা, সড়ক আন্দোলন এসব নানা ক্ষেত্রে ইন্টারনেট, ফেসবুক থেকে আমরা সহায়তা পেয়েছি। এখনও কোথাও কোন রোগীর জন্য রক্ত দরকার হলে পোস্ট শেয়ার করে করে আমরা সাহায্য পাই। কিন্তু সে বিষয়গুলো যতোটা ভাইরাল হওয়া প্রয়োজন ততোটা হয় না। যদি করতে পারি, তাহলে ভালো হবে।

আমাদের আসলে খারাপ টা বাদ দিয়ে ভালোটা বেছে নিতে হবে। ভালোটাকে ভাইরাল করতে হবে। আজকাল জনপ্রিয়তা পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় ভাইরাল হওয়া। তাই কেউ কেউ নানা অসদুপায় অবলম্বন করে ভাইরাল হতে চায়। এদের ভাইরাল হওয়ার এই চেষ্টাকে যদি বন্ধ করতে পারি, এবং ভালো কোন আইডিয়া, কাজ ইত্যাদিকে ভাইরাল করতে পারি তাহলে ভাইরাল জিনিস থেকে আমাদের লাভ হবে।

যেমন বইয়ের ফেরিওয়ালা পলান সরকার, দেশের ভেতর ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা সেবা দেওয়া বৃদ্ধা জহিরন, বই পড়া কর্মসূচী এসব বিষয়কে যদি আমরা সামনে তুলে আনি, বেশি বেশি শেয়ার করি, তাহলে এসব থেকেও অনেকে উপকৃত হবে। ট্র্যাফিক অ্যালার্ট, রক্ত সংগ্রহ ইত্যাদি বিষয়, প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিক, জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে নানা ভিডিও তৈরি করে সেসব যদি ভাইরাল করা যায় তাহলে মানুষের মাঝে সচেতনতা আসবে। ভাইরাল সংস্কৃতির মাধ্যমে আমরা অনেক ভালো কাজ করার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারবো।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker