চলতি হাওয়াজাতীয়হোমপেজ স্লাইড ছবি

মহালয়া ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র

মাহমুদুর রহমান: দুর্গাপূজার সূচনা মানেই ‘মহালয়া’। আর মহালয়া বললেই যে নামটি সবার আগে চলে আসে সেটি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। ১৯৩১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত তাল গলায় ষষ্ঠীর ভোর চারটায় তার গলায় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ প্রচারিত হয় আকাশবাণী কলকাতা হতে।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি সম্প্রচারক, নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ১৯৩০-এর দশক থেকে সুদীর্ঘকাল অল ইন্ডিয়া রেডিওতে বেতার সম্প্রচারকের কাজ করেছেন। এই সময় তিনি একাধিক নাটক রচনা ও প্রযোজনাও করেন।

১৯৩১ সালে তার গলায় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ প্রচারিত হলে তা এতো জনপ্রিয় হয় যে পরপর প্রতি বছর তা চলতে থাকে। বীরেন্দ্র ১৯৩০ সালে বেতারে যোগ দেন। সেখানে তিনি বেশকিছু শ্রুতি নাটক সম্পাদনা করেন। পরের বছর দেবী দুরগার বন্দনায় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। এই অনুষ্ঠানটির গ্রন্থনা করেছিলেন বাণীকুমার ভট্টাচার্য এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন পঙ্কজকুমার মল্লিক। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভাষ্য ও শ্লোকপাঠ করেন।

বীরেন্দ্রর উদাত্ত কণ্ঠস্বর এবং আবেগ মানুষের মাঝে এতই প্রভাব ফেলে যে পরের বছরও অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয়। কালে কালে দুর্গাপূজার সূচনা যেন এই দেবী বন্দনা ছাড়া মানুষের নিকট অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। আজও দুর্গাপূজা শুরু হয় এই অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে। কলকাতার লেখকদের, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজ দেখলেও দুর্গাপূজার সূচনা বলতে বীরেন্দ্রর মহিষাসুরমর্দিনী বোঝায়।

কিন্তু এরই মাঝে কিছু ঘাত প্রতিঘাত এসেছিল। ১৯৭৬ সালে বেতার কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় এবার নতুন কিছু করা প্রয়োজন। প্রায় ৪৫ বছর যাবত একই কণ্ঠে মহালয়া হয়ে আসছে, কিন্তু সময়ের বদলের সঙ্গে সঙ্গে এখানেও বদল প্রয়োজন। কিন্ত প্রশ্ন আসে জনপ্রিয় বীরেন্দ্রর জায়গায় কাকে দিয়ে এ অনুষ্ঠান করানো সম্ভব।

বাঙালির নিকট তখন অতি জনপ্রিয় একটি মানুষ ছিলেন। তিনি উত্তম কুমার। সিদ্ধান্ত হয় তাঁকে দিয়েই মহালয়া করানো হবে। হলও তাই। কিন্তু মহানায়কের এই কীর্তি মানুষের মনে সেই ছোঁয়া আনতে পারল না যা এনেছিলেন বীরেন্দ্র। সে বছর মানুষ মহালয়া শুনে আক্রোশে ফেটে পড়ে। তারা বীরেন্দ্রকে ফিরিয়ে আনার দাবী জানায়।

সেই একবারই অন্যথা হয়েছিল। এ ছাড়া ১৯৩১ থেকে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠেই দেবী বন্দনা শোনা যায়। প্রায় নব্বই বছর হতে চললো বীরেন্দ্রর এই কীর্তির। বীরেন্দ্র নেই কিন্তু তাঁর কণ্ঠ এবারও বেজেছে মহালয়ায়।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker