জাতীয়হোমপেজ স্লাইড ছবি

একজন জাদুকরের জন্ম না হলে

তানভীর রাফি:  ১৩ নভেম্বর একজন জাদুকরের জন্মদিন। আজ এই জাদুকরের জন্ম না হলে, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলা  সাহিত্য কোন প্রাণ খুঁজে পেতো না। এই জাদুকরের জন্ম না হলে, বেশীরভাগ বাঙালি আবার নতুন করে বই খুলে পড়ার জন্য কোন উদ্দীপনা পেতো না। এই জাদুকরের জন্ম না হলে, হয়তো একুশে বইমেলা এত জনপ্রিয় হতো না।

এই জাদুকরের জন্ম না হলে, বাঙালি তরুণ সমাজ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন করে জানতে পারতো না। ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাস পড়ে চোখ থেকে থেকে অশ্রু ঝড়াতো না। এই জাদুকরের জন্ম না হলে, কেউ আবার নতুন করে ‘তুই রাজাকার’ উচ্চারণ করার সাহস আর উদ্দীপনা খুঁজে পেতো না।

এই জাদুকরের জন্ম না হলে, বইয়ের প্রচ্ছদ অঙ্কনকারী শিল্পীর তুলিতে কোন প্রাণ থাকতো না। এই জাদুকরের জন্ম না হলে, আজিজ সুপার মার্কেটে কোন প্রকাশক প্রেস-প্রিন্টারে কালো কালির ব্যবহারের কোন সূত্র খুঁজে পেতো না। এই জাদুকরের জন্ম না হলে, বাঙলা সিনেমা জগতে এক নতুন কোন অধ্যায়ের দেখা পেতো না।

এই জাদুকরের জন্ম না হলে, ঈদের দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় চ্যানেল আইয়ের পর্দায় সবাই মুগ্ধতায় তাকিয়ে থাকতো না। এই জাদুকরের জন্ম না হলে, কাল্পনিক একটা নাটকের চরিত্র নিয়ে বাঙালি আন্দোলন-মিছিল করতে নামতো না। এই জাদুকরের জন্ম না হলে, আসাদুজ্জামান নূরের নাম কখনো বাকের ভাই হতো না। একটি কাল্পনিক নাটকের জন্য মানুষ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতো না।

এই জাদুকরের জন্ম না হলে, জাহিদ হাসান আর মাহফুজ আহমেদের মত বড় বড় অভিনেতার অভিনয় দর্শক মুদ্ধ নয়নে আলোকপাত করতো না। ডা. এজাজ আর ফারুকের মত চরিত্রের অভিনয় দেখে দর্শক হাসিতে গড়াগড়ি খেতো না। চ্যালেঞ্জার মত একজন অচেনা মানুষকে অভিনয় শিল্পী বনে যেত পারতো। এসব তারই সৃষ্টি। এই জাদুকরের জন্ম না হলে, কুদ্দুস বয়াতির মত বাউল শিল্পীর কোন হদিস খুঁজে পেতো না বাঙলাদেশ। এই.আই টুটুলের গাওয়া ‘চান্নি পসর রাতে’ গান শুনে হয়তো মানুষের চোখের কোনায় অশ্রুও জমতো না।

এই জাদুকরের জন্ম না হলে হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, লালনের হারিয়ে যাওয়া গানগুলো আমার নতুন করে জন্ম হতো না। এই জাদুকরের জন্ম না হলে, হিমুর মত পাগলাটে কোনো চরিত্র বাংলার তরুণ সমাজ নিজের মধ্যে খুঁজে বেড়াতো না। কেউ কখনো নিজেকে হিমুর মত ভাবতে শিখতে পারতো না। এই জাদুকরের জন্ম না হলে, মানুষগুলো তার প্রিয় মানুষের মাঝে রূপাকে খোঁজার চেষ্টা করতো না। এই জাদুকরের জন্ম না হলে, বাংলার তরুণ সমাজ জোৎস্না দেখার মাঝে নতুন কোন প্রাণ খুঁজে পেতো না। বৃষ্টিতে ভিজে মনের হাহাকারের অভিব্যক্তি তাড়িত করতো না। কদম ফুলের মাঝে অন্যরকম এক ভালবাসার চাহনি ফুটে উঠতো না।

এই জাদুকরের জন্ম না হলে, মিসির আলীর মত রহস্যময় কোন চরিত্রের জন্ম হতো না। গল্প-উপন্যাসে রহস্যের এক ধারার সৃষ্টিও হয়তো সম্ভব হতো না। এই জাদুকরের জন্ম হলে, শুভ্রর মত শুভ্রতায় ঘেরা সাদা চরিত্রের কোন মানবের দেখা মিলতো না। যেখানে মানুষ পবিত্রতার ছোঁয়া খুঁজে বেড়াতো।

এই জাদুকরের জন্ম না হলে, মানুষজন ত্রিমাত্রিক প্রেমের গল্প গুলোতে নিজের প্রেমকে খুঁজে পেতো না। আসলে এই জাদুকরের জন্ম না হলে, বাঙলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাসই নতুন করে লেখা সম্ভব হতো না। একজন মঞ্চের জাদুকর জানে চোখের ম্যাজিক দেখানোর কৌশল, আর এই লোকটি জানে মানুষের মনের সাথে জাদু করার কৌশল। তোমাকে নিয়ে কিছু বলতে গেলে তোমার নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন হয় না। শুধু ‘জাদুকর’ বললেই তুমি মানুষের চোখে ভেসে উঠো। এটাই বুঝি তোমার স্বার্থকতা। শুভ জন্মদিন জাদুকর।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker