চলতি হাওয়াজাতীয়

‘ধর্ষণ রুখে দেবই’

আরিফুল আলম জুয়েল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার মজনু সাত দিনের রিমান্ডে! মজনু কে, এটা নিশ্চয় নতুন করে বলার কিছু নেই, সামাজিক মাধ্যমের কল্যানে সবাই জানেন। আমার কথা এখানে অন্য জায়গায়- অনেকেই মজনুকে দেখে বিশ্বাস করতে পারছে না সে যে ধর্ষক, তার পক্ষে এ কাজ করা নাকি কোনভাবেই সম্ভব না, তার শারিরীক গঠন বা তার চেহেরা নাকি এর সাথে যায় না, এটা নাকি নতুন নাটক! মূল ঘটনাটা সংক্ষেপে বলে নেই- গত ৫ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী রাজধানীর কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড থেকে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে গলফ ক্লাবসংলগ্ন স্থানে পৌঁছান। এ সময় আসামি মজনু তাঁকে পেছন থেকে গলা ধরে মাটিতে ফেলে দেন। তাঁর গলা চিপে ধরেন। ছাত্রী চিৎকার করতে গেলে মজনু তাঁকে কিলঘুষি মারেন। ভয়ভীতি দেখান। ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে গেলে তাঁকে ধর্ষণ করেন আসামি মজনু। এ হচ্ছে ঘটনা।

এবার আসি যারা বলছে-মজনুর পক্ষে এটা করা সম্ভব না, তাদেরকে নিয়ে দুটো কথা বলবো। যদিও তারা মজনু ভাল মানুষ এটা বলছে না। মজনু খারাপ, গাঁজা খায়, নেশা করে, ছিনতাই করে এসব ঠিকই আছে, কিন্তু তাদের ধারণা মজনু চিকন-চাকন, শরীরে শক্তি নেই, উচ্চতা নেই- তাই সে চাইলেও ধর্ষনের মত কাজটি করতে পারবে না! এসব লোকজনকে আমার প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, ধর্ষক আসলে কেমন হয়? দেখতে তার মধ্যে কী কী বিশেষত্ব থাকে? কান কি দুটোর জায়গায় তিনটা থাকে? মুখভর্তি লোম থাকে? হাতের আঙুল ছয়টা করে হয়? নাকি প্রতিটা ধর্ষকই ছয় ফুটের ওপরে লম্বা হয়, পেটানো চেহারার অধিকারী হয়, তাদের মাসল কিলবিল করতে থাকে- এরকম কিছু? মেয়েটি নিজে তাকে সনাক্ত করেছে, অন্যান্য জিনিসপত্র ও পাওয়া গেছে, মেয়েটির মোবাইল ও পাওয়া গেছে, মজনু নিজে স্বীকার করেছে- তারপরও আমরা মানতে রাজী না! মজনু নাকি ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধীদের নিয়মিত ধর্ষণ করতো- সেটা জেনেও আমরা মজনু পারবে না বলছি!

আমাদের মধ্যে খুব বড়সড় সমস্যা আছে। জঙ্গী নিব্রাস যখন অস্ত্র হাতে নিয়ে হোলি আর্টিজানে গুণে গুণে মানুষ মেরেছিল, তখন কেউ কেউ তার ওপরে ‘ক্রাশ’ খেয়েছিল, এত সুন্দর ছেলে জঙ্গী হতে পারে কীনা, এমন প্রশ্ন তুলেছিল! যেন কেউ দেখতে ভালো হলে তার মনটাও ফুলের মতো পবিত্র হবে! এখন আবার মজনুকে ধর্ষক হিসেবে মেনে নিতে অনেকের আপত্তি। যেন পাঁচ ফুট চার ইঞ্জি উচ্চতার একটা লোক কাউকে ধর্ষণ করার ক্ষমতা রাখে না, ধর্ষণ করতে হলে ছয়ফুট লম্বা, মাসলওয়ালা, হৃষ্টপুষ্ট হওয়া লাগে!

এই অসুস্থ মানসিকতার লোকগুলো আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে, একই বাতাসে আমরা শ্বাস নিচ্ছি, এটা ভাবতেই অস্বস্তি লাগছে প্রচণ্ড। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে দুই হাত নেই এরকম একজন মানুষ মুখে ছোট একটা ব্যানার নিয়ে তার মনের কথা বলছে- ‘ধর্ষণ রুখে দেবই’!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker