জাতীয়হোমপেজ স্লাইড ছবি

ভাষা আন্দোলনে অসামান্য অবদান রাখা চার নারী

‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ দাবির আন্দোলনে সহযোদ্ধা হয়ে ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন নারীরা ও। পাকিস্তান আর্মি ও পুলিশের তাক করা বন্দুকের নলকে উপেক্ষা করে ভাষার দাবির মিছিলগুলোতে ছিলেন তারা সামনের কাতারে। নারীরা রাতে লুকিয়ে ভাষার দাবির বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত পোস্টার একেছেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে নারীরাই পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙে। আসুন জেনে আসি ভাষা আন্দোলনে অসামান্য অবদান রাখা তেমন চার নারী ভাষা সৈনিকের গল্প।

রওশন আরা বাচ্চু: তিনি ১৭ ডিসেম্বর ১৯৩২ সালে সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার উছলাপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় রওশন আরা বাচ্চু ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ২১ ফেব্রুয়ারিতে যে সকল ছাত্র নেতারা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার পক্ষে ছিলেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি জনমত সমর্থনের জন্যও ব্যাপক চেষ্টা করেন। তার অনুপ্রেরণায় ইডেন মহিলা কলেজ এবং বাংলাবাজার বালিকা বিদ্যালয় এর ছাত্রীদের সংগঠিত করে আমতলার সমাবেশ স্থলে নিয়ে আসেন। এখান থেকেই ছাত্রনেতারা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন। তারা ব্যারিকেড টপকিয়ে মিছিল নিয়ে এগুনোর চেষ্টা করেন। রওশন আরা বাচ্চু তার দলের সবাইকে নিয়ে পুলিশের তৈরি ব্যারিকেড ভেঙ্গে ফেলেন। এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে দেয়। এতে নিহত ও আহত হন অনেকে। রওশন আরা বাচ্চুও ছিলেন এমন আহতদের একজন।

হালিমা খাতুন: এই ভাষা সৈনিক বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি নর্দার্ন কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষায় পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি মহান ভাষা আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তাকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের অগ্রপথিক হিসেবে গণ্য করা হয়। ভাষা আন্দোলনে অনন্য অবদানের জন্য ২০১৯ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। হালিমা খাতুন ছিলেন একাধারে ভাষা সৈনিক, ছড়াকার, ছোটগল্পকার, কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক।

চেমন আরা: ১৯৩৫ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের চান্দগাঁও উপজেলার মৌলবী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন চেমন আরা। তিনি একজন ভাষা সৈনিক। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় ইডেন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী থাকাবস্থায় স্বামী শাহেদ আলীর অনুপ্রেরণা ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন। চেমন আরা ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে গঠিত ‘পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস’ নামে সাংস্কৃতিক সংগঠনে ১৯৪৮ সালে যোগ দেন। এ সংগঠনের নেতৃত্বে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেন। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা শহীদ বরকতের রক্তাক্ত শার্ট নিয়ে যে মিছিল বের করে তাতে তিনিও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

শরিফা খাতুন: ভাষা সৈনিক শরিফা খাতুন ফেনী মহকুমার শশ্মদি ইউনিয়নের জাহানপুর গ্রামে ৬ ডিসেম্বর ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। শরিফা খাতুন হলেন একাধারে একজন ভাষা সৈনিক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজকর্মী। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণার দাবীতে আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির সকালবেলায় তিনি ১৪৪ ধারা অমান্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় চলে যান এবং ভাষা আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেন। স্কুলের ছাত্রী থাকাকালীন ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের দু’একটি মিছিলেও তিনি অংশ নেন। ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০১৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker