জাতীয়হোমপেজ স্লাইড ছবি

বিদ্যানন্দ : মানুষের সেবায় যাদের আনন্দ

আরিফুল আলম জুয়েল: বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের কথা তো সবাই জানেন। তাদের কার্যক্রমগুলো সবই প্রশংসার দাবীদার। কি করেনি তারা, এবারের বইমেলায় একটি স্টল ও দিয়েছে! অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ৭৭ নম্বর স্টলে গেলেই পাবেন বিদ্যানন্দকে! এবার বই বিক্রিতে এক্সচেঞ্জ অফার দিচ্ছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। পুরাতন ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল বা ওষুধের বিনিময়ে বিদ্যানন্দের স্টল থেকে বই কিনতে পারছেন সাধারণ পাঠকরা।

অফারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যানন্দের স্টলটিও সাজানো হয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে। ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া পরিত্যক্ত বোতল, পুরাতন খবরের কাগজ, নির্বাচনী পোস্টার, অব্যবহৃত ইলেকট্রনিকসের যন্ত্রপাতি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দিয়ে সাজানো হয়েছে এ স্টল। পেছনের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মানুষ ও জলজ প্রাণীদের ওপর প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাবের চিত্র। কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী পোস্টার দিয়ে তারা খাতা বানিয়েছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী ব্যানার দিয়ে তারা ব্যাগ ও বানিয়ে দিয়েছে শিশুদের।

আরো আছে, ইতোমধ্যেই তারা সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মধ্যে ১ টাকায় আহার, ১ টাকায় চিকিৎসা ও গর্ভবতী নারীদের জন্য ১ গ্লাস দুধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এসব কাজের মধ্যেই ৫ টাকায় স্যানিটারি প্যাড কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা। ভবিষ্যতে বস্তিগুলোতে স্যানিটারি প্যাডের ভেন্ডিং ম্যাশিন বসানোর ইচ্ছার কথা ও তারা জানালেন। বস্তিগুলোতে মেয়েরা ৫ টাকার বিনিময়ে নিজেরাই ভেন্ডিং ম্যাশিন থেকে প্যাড সংগ্রহ করবেন।

এবার শেষ করবো ২০১৭ সালের একটি ঘটনা দিয়ে- যার সাথে জড়িত রয়েছে বিদ্যানন্দ। এদেরকে দেখলেই মনে হয়, ইচ্ছে করলেই পারা যায়। তারা পেরেছে! আপনি আমি ইচ্ছে করলেই কিন্তু পারি। কেন যে ইচ্ছেটা আমাদের করে না, সেটা বিরাট প্রশ্ন! রয়েই যাবে আজীবন? যারা ফুটপাতে থাকে, মা-বাবা নেই, খাবার নেই, ঘুমানোর জায়গা নেই, ফুটপাথের জীবন তাঁদের, খোলা আকাশের নীচে ধুলাবালিতে রাত কাটে এতিম শিশুদের! কেউবা ভিক্ষা করে আর কেউ কাগজ কুড়িয়ে রাতের আহার জোগাড় করে।

ঢাকার জৌলুশ বিয়ের আয়োজনে এঁদের দেখা মিলে বাসি খাবার সংগ্রহের লাইনে, গার্ডের লাঠির আগে আগে। ঠিক তাদেরকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল রাজধানীর এক বিয়ের আয়োজনে। নব দম্পতির আমন্ত্রণে তারা দখল করেছিল বিশেষ অতিথির আসনগুলো, স্বপ্নপুরনের মুহূর্তগুলোতে। আরো কিছু কাজ করা হয়েছিল, নির্ধারিত শিশুদের চুল-নখ কেটে গোসল করিয়ে দেয়া হয়েছিল নতুন পোশাক। সে পোশাকে সেজে তারা হাজির হয়েছিল বিয়েতে, কনের সাথে স্টেজে উঠে ছবিও উঠিয়েছে, পেট পুরে খেয়েছে। নিজেরা নিজেরা মজা করেছে, হয়তো আর কোনদিন তাদের ভাগ্যে এমন একটি সন্ধ্যা আসবে না।

এমন একটি সন্ধ্যা তাদেরকে আমরা চাইলে সহজে অনেকভাবেই দিতে পারি, কিন্তু সহজ হলেও আমরা যে কঠিন!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker