জাতীয়হোমপেজ স্লাইড ছবি

অনন্ত শূন্যতায় ভালো থাকুন হে বীর যোদ্ধা

শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশেই চলে গেলেন করোনার সঙ্গে লড়াই করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ও কার্ডিওলোজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মঈন উদ্দিন। আজ ভোর ৪:৩০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নে জন্ম নেয়া এ কর্মবীর ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। এই শোক সংবাদের জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না কেউ। এক বুক আশা নিয়ে সবার মতো বসে ছিলাম লড়াই শেষে তিনি ফিরে আসবেন।

করোনা আক্রান্ত ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বরিসও তো আইসিইউ থেকে ফিরলেন। কিন্তু আপনি ভুল দেশে জন্মেছিলেন— এমন কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। এই দেশ, দেশের মানুষ আপনাকে ডাক্তার বানিয়েছে। কৃতজ্ঞচিত্তে সে কথাই মনে রাখতেন। জীবন দিয়েও প্রমাণ করলেন। গলদ আমাদের সিস্টেমে। ব্যবস্থাপনায়। সিলেট থেকে ঢাকা নেয়ার পথে একটা এয়ার এম্বুলেন্স ম্যানেজ হলো না আপনার জন্য। লালফিতায় আটকে গেল সব।

ক্রিটিক্যাল অবস্থায় দীর্ঘ যাত্রাপথ পাড়ি দিয়ে সড়ক পথেই নিয়ে যেতে হলো। হেলিকপ্টার ম্যানেজ হলেই আপনি বেঁচে যেতেন সে কথা বলছি না। কিন্তু দেশের মানুষ জানত একজন মানবিক ডাক্তার বীরের মর্যাদায় রাষ্ট্রের সহানুভূতি পাচ্ছেন। এদেশের আকাশে অজস্র হেলিকপ্টার উড়বে কিন্তু এমন মানবিক একজন ডাক্তার সহসা আর পাবে না।

দায়ীদের অভিসম্পাত দেওয়ারও তো আজ ভাষা নেই। চাইনা তাদের পরিণতি আরও করুণ হোক। নিকুচি করি তাদের দেখানো অজুহাত— পদমর্যাদার। ভাবতেই পারছি না আর দেখা হবে না মঈন ভাই। এই শোকবিহ্বল সকালে আপনি আর জানবেন না কত অজস্র মানুষ আপনার জন্য কাঁদছে, অশ্রুপাত করছে। কত অজস্র মানুষের মন জয় করেছিলেন আপনি আপনার হৃদয়ের ঔদার্যে, সেবায়, মহানুভবতায়, আন্তরিকতায়।

স্বপ্নে আর সংগ্রামে গড়া জীবন এভাবে অকাল অশ্রুতে শেষ হওয়ার কথা ছিল না। আপনার দু’টি অবুঝ সন্তান, সহধর্মিণী আর স্বজনের আর্তনাদে ভারী হয়ে আছে আকাশ। বড়ো অসময়ে বিদায় নিলেন হে বীর। নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে জান্নাতে সর্বোচ্চ সম্মান দিবেন কারণ আপনি মানুষকে ভালোবাসতেন। তারাশঙ্করের কবি উপন্যাসের সেই বহুল উদ্ধৃত কথাটিই আজ বারবার মনে পড়ছে, “হায়! জীবন এতো ছোটো কেনে এই ভুবনে?”

লেখক: আলমগীর শাহরিয়ার

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker