বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৭
webmail
Tue, 22 Nov, 2016 07:21:42 PM
মেহেদী হোসাইন

বুঝলাম, মুসলিম জাতি খুব অসহায়। তাদের কোনো উপায় নেই, গতি নেই। তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানালাম। তারপর...। এই তারপরের আর কোনো শেষ নেই শুরু নেই। কারণ এর কতকটার জন্য আমি/আপনিও দায়ী। না হলে আমি/আপনি নিজেদের দায়িত্ব একটি সেক্যুলার যন্ত্রের হাতে তুলে দিতাম না।

রোহিঙ্গা শব্দের আগে কতগুলো শব্দ যোগ হয় জানেন তো বোধহয়। অবহেলিত, নিপীড়িত, অসহায়। এর জন্য কিন্তু বাংলাদেশ ও বার্মার প্রশাসন দায়ী নয়। তাদের দায়িত্ব হচ্ছে চোখ বন্ধ করে স্বকর্তব্য পালন করা আর সেটা যার গোলামি করেই হোক না কেন, যে তন্ত্র-মন্ত্রের পোশাক পরেই হোক না কেন। আর এ উদ্দেশ্যে তারা সফল যে তারা আমাকে/আপনাকে এই দিকে টেনে আনতে পেরেছে। আরো বড় কোনো দিকে মুভ করার সুযোগ দেয়নি।

প্রথমত, সমস্যাটা ১৯৪৭-এর পরে শুরু হলেও আমি/আপনার বোধোদয় হলো সম্ভবত গত ১৫ বছরে। গত ১৫ বছর যারা তাদের নিয়ে কাজ করেছে তারা কারা, আপনি কি তাদের সাথে ছিলেন, তারা কি উদ্দেশ্যে কাজ করেছে জানেন ??? (সবাই নয়)।

দ্বিতীয় কথাটা হচ্ছে, যে দোহাই (মানবতা বলুন আর মুসলমানিত্ব) দিয়ে আজ পাশে দাঁড়ানোর জন্য জাতিসংঘ, মায়ানমার বা বাংলাদেশকে অনুরোধ করছি তারা কি আদৌ আপনার মূল্যবোধে বিশ্বাস করে, আপনার মতামত গ্রাহ্য করে; যদিও হাস্যকর শুনায়। তারা তো সেটাই করবে যেটা তাদের জন্য লাভজনক, তাই নয় কি?

তৃতীয়ত, আমি আগেও বলেছি আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা হচ্ছে এত দিনের জমানো সমস্যার ফলাফল যা আমাদেরকে সমস্যার গোড়ায় হাত দিতে দিবে না। যার নমুনা হচ্ছে আমি/আপনি এখন প্রতিবাদমুখর। পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে কাতর। পাশ্চাত্য উদাহরণ নিয়ে আসতে পারঙ্গম। নিজের ধর্মের উদারতা প্রকাশে এককাঠি সরস। কিন্তু আমাদের মধ্যে তাদের উপস্থিতি নিয়ে আপনি প্রশ্নবিদ্ধ যারা বলবে ‘কী’ থেকে ‘কি’ হচ্ছে, অথবা যারা নিজেদের কর্তব্য নিয়েই সন্দিহান।

আমি/আপনি চাই এই ধরনের লোকেরা কোনো একপক্ষ নিক এবং সত্য/মিথ্যার দ্বন্দ্বে অংশ নিক।কিন্তু সবকিছু আমার/আপনার চোখের বাইরে আর কানের অগোচরে হবে।

চতুর্থত, আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে: ‘আমি বলতে চাচ্ছি যে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের মার খাওয়াই ধর্তব্য, আর আমাদের মেনে নেয়া কর্তব্য’. উত্তর হচ্ছে, ‘হ্যাঁ ও না’।
 
হ্যাঁ, এই অর্থে যে আমি আপনি কতটুকু অসহায় এটা বুঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মধ্যে দিয়ে। আমি/আপনি নতুন বিশ্বব্যবস্থা বোঝার ক্ষেত্রে যে এখনো কতটা পিছিয়ে ও নিজনিজ দায়িত্বে কতটুকু ব্যক্তিমুখী তা এই ঘটনায় প্রমাণিত। যে রকম পরিস্থিতি এই দেশের ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও ভোগ করে।

না, এই অর্থে যে সব কিছুরই একটা সমাপ্তি আছে। এটা যদি আমরা এখন বের করতে না পারি তবে কখন? আর যদি বাঙাল মুল্লুকের মুসলমানদের এটা বোধগম্য না হয় তবে ‘মগের মুল্লুক’ হতে ‘মঘাদের মুল্লুক’ হতে সময় লাগবে না।

লেখক: মেহেদী হোসাইন, আন্তঃধর্মীয় সংস্কৃতি গবেষক, সমাজ বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র, হুম্বোল্ড বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানি

এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, নতুন বার্তা ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।
 


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top