শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান সমস্যা ও করণীয় | opinion | natunbarta.com | Top Online Newspaper in Bangladesh
মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
webmail
Tue, 20 Dec, 2016 07:26:50 PM
দ্বীন ইসলাম

দেশের ৯০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী লেখা-পড়া করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (এমপিওভুক্ত ও ননএমপিও)। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার (সরকারি হিসাব মতে) বৈধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে এমপিও হয়নি। অবশ্য বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় সাড়ে আট হাজার। যদিও এ সব প্রতিষ্ঠান সরকারের অনুমোদন ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত।

ফলে ওই সস নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা বছরের পর বছর অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন। বন্ধ হচ্ছে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া, বিনা চিকিৎসায় তাদের বৃদ্ধ পিতা-মাতা।

একই অবস্থা চলছে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৩.১১.২০১১ এর কালো পরিপত্রের ফাঁদে পড়া কম্পিউটার (আইসিটি)সহ অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার শিক্ষকরা। তবে মফস্বল এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক বেশি।

এ জন্য দায়ী কারা?
নিশ্চয়ই স্বীকৃতি ও অনুমোদন প্রদানকারী দপ্তর সমূহ। কারণ তারা অর্থের (উৎকোচের) বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিষ্ঠানের আধা কিলোমিটার দূরত্বকে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দেখিয়েছেন। আর কম জনবসতির স্থানকে ঘন-জনবসতির দেখিয়েছেন। অনেক পরিদর্শন কর্তকর্তা অফিসে বসেই অর্থের বিনিময়ে তাদের পরিদর্শন কর্ম সম্পাদন করেন। যদি একটি ফাযিল মাদরাসার হিসেবই ধরা হয়- সেখানে মাসিক প্রায় ছয় লাখ টাকা স্যালারি দিতে হয় সরকারের। তাহলে বছরে স্যালারি বাবদ ব্যয় হয় (৬*১২)=৭২ লাখ টাকা। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বই (অবশ্য অনেক বই প্রতিবছর অপচয় হয়), উপবৃত্তি প্রদান, উপজেলা-জেলা-বিভাগীয় শিক্ষা অফিস, মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খরচসহ সরকারের বছরে প্রায় কোটি টাকা খরচ হয় একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য।

এখন বিবেচনার বিষয় হলো- এরকম একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৮ম, ১০ম, আলিম ও ফাযিল পাবলিক পরীক্ষায় কতজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ও কৃতকার্য হয়। অর্থাৎ সরকারের কোটি টাকা বিনিয়োগের ফলাফল কী?

দেখা যায়, ১০/১২ জন শিক্ষার্থী বা তার কম/বেশি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। আর পাসের হার ১০/১২ শতাংশ বা তারও নিচে।

এমন ফলাফলের পর সরকারের শিক্ষামন্ত্রণালয় ওই প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করে। প্রতিষ্ঠান জবাব প্রদান করে। আর অনেক সময় অর্থের বিনিময়ে তা ধামাচাপা দেয়া হয়। এ অবস্থা শুধু মাদরাসায়, তা নয়। শূন্য ফলাফলের বা ১০ জনের কম পাসের ঘটনা বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজও হয়।

অবশ্য শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে ২০ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে থাকতে হবে এবং ১০ জন পাস করাতে হবে। নচেৎ প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল হবে। এটাও অন্যায়। শিক্ষকদের এমপিও কেন বাতিল হবে? বরং বিবেচনা করা দরকার যেন নির্ধারিত দূরত্বে ও জনবসতি বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের স্বীকৃতি ও অনুমোদন দেয়া হয়েছে কিনা?

কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অতি সহজে সরকার এ সব সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে।
প্রথমত- অনুমোদন ও  স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা।
দ্বিতীয়ত- বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ করা।

তৃতীয়ত- যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতি ক্লাসে কমপক্ষে ৩০ জন শিক্ষার্থী নিশ্চিত করতে পারবে না, স্থান বিবেচনায় ওই সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও শিক্ষক-কর্মচারী পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং ওই সব প্রতিষ্ঠানের খাস জমি ও ভবন বিক্রি অথবা ইজারা দেয়া অথবা বিভিন্ন এনজিও, সরকারি, বেসরকারি অফিস অথবা কোয়টার হিসেবে ব্যবহার করা।

তাছাড়া যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো এমপিও বিহীন সে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেক শিক্ষক কর্মচারী অন্যত্র এমপিওভুক্ত। যাদের নতুন প্রতিষ্ঠানে (নন-এমপিও) এমপিও দিতে সরকারে কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। বাকিদের জন্য কিছু অর্থের দরকার। আবার নিয়োগ বন্ধ করে, সমন্বয় করলে অর্থ প্রয়োজন হবে না। এতে সরকারের অর্থের চেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আন্তরিকতা বেশি কাজ করবে।

আবার সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করলে সরকারের আরো বেশি আর্থিকভাবে লাভবান হবে। কেননা জেলা শহর, বিভাগীয় শহর ও রাজধানী শহরের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের মাসিক আয় কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। যা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ভাউচার ও শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে অতিরিক্ত বেতনের মাধ্যমে খরচ করে থাকে। সরকার ওই টাকা রাজস্ব খাতে নিলে তাতে সব বেসরকারি (এমপিওভুক্ত) শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা প্রদান করলে সম্ভবত সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে না।

তাছাড়া চলমান (প্রক্রিয়াধীন) শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বিকল্প নাই। কারণ চলমান (প্রক্রিয়াধীন) শিক্ষানীতিতে ১ম থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক, ৯ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক এবং ডিগ্রি (পাস) এবং অনার্স থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত উচ্চ শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে চলমান (প্রক্রিয়াধীন) শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ মূখ্য ভূমিকা পালন করবে। কারণ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করলে শিক্ষক ও কর্মচারী বদলি করা যাবে বা সমন্বয় করা যাবে। এতে সরকারের পক্ষে চলমান (প্রক্রিয়াধীন) শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন অনেক সহজ হবে।
    
‍লেখক: শিক্ষক, লেখক ও কবি। এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, নতুন বার্তা ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।)


Print
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ


শিরোনাম
Top