ক্রিকেটে বিপর্যস্ত শিক্ষা ও অর্থনীতি | opinion | natunbarta.com | Top Online Newspaper in Bangladesh
শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৭
webmail
Sat, 14 Jan, 2017 06:39:20 PM
দ্বীন ইসলাম

খেলাধুলা শরীরিক ব্যায়ামের অন্তর্ভূক্ত। শুধু তাই নয় খেলাধুলা অবসর বিনোদনের একটি অন্যতম উৎস। আর এটা সুস্বাস্থ্য গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব দিক বিবেচনা করেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয় রাখা হয়েছে এবং এর পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়ে থাকে। কিন্তু ক্রিকেট খেলাটা বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যেকোনো দেশের শিশু থেকে শুরু করে শীর্ষ মহল পর্যন্ত উন্মাদ হয়ে পড়েছেন। আর এ অবস্থাটা বিশেষ করে লক্ষ্য করা যায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। সম্ভবত বাংলাদেশের অবস্থান এর শীর্ষে।

বর্তমানে আমাদের দেশে ক্রিকেটের উম্মাদনা সবচেয়ে বেশি। শিশু থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিবর্গ পর্যন্ত ক্রিকেটে উম্মাদ। অথচ ক্রিকেট বর্তমানে কোন বিনোদন বা শারীরিক ব্যায়ামের মধ্যে নাই। বরং রীতিমতো এটা সংস্কৃতিক ধ্বংস থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা, শিল্পসহ সব ক্ষেত্রে এক বিশাল ধ্বংসের কারণ। যা বিশ্ব বিবেককেও উন্মাদ করে তুলেছে।

প্রত্যেকটি ক্রিকেট ম্যাচ ও সিরিজ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। যে কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে, পড়ালেখা বাদ দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভির সামনে বসে থাকে।

বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে কোথাও টিভি, কোথাও কম্পিউটারে, কোথাও মোবাইল সেটে খেলা দেখার মহোৎসব চলে। ভাটাপরে সরকারি অফিসে, শিল্প কারখানা তথা উৎপাদান মুখী প্রতিষ্ঠানের কাজে। আবার গ্যালারিতে থাকা লোকগুলোও বিভিন্ন সেক্টর থেকে আসা। যে সব সেক্টর থেকে ওই লোকগুলো আসে, সে সব প্রতিষ্ঠানে কাজের গতি অনেকাংশে হ্রাস পায়।

একমাত্র ক্রিকেট খেলায়ই বেশি সময় অতিবাহিত হয়। সব দেশের সরকারও এর পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে। বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ ভিআইপি লাউঞ্জ বসে খেলা দেখেন আর ভোগান্তিতে পড়েন তাদের অফিসে কাজে আসা হাজারো মানুষ।

আমার সোনার বাংলাদেশের অবস্থা আরো বেগতিক। সাধারণ জনতা থেকে শুরু করে এমপি ও মন্ত্রী পর্যন্ত একই অবস্থা। যা দেশের শিল্প, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অথচ উন্নত দেশসমূহ এমনকি খোদ মার্কিনযুক্ত রাষ্ট্র ক্রিকেটের বিপক্ষে। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন ক্রিকেট অনেক সময় ও অর্থের অপচয় হয়। যা দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কিন্তু আমাদের উন্নয়নশীল দেশ? এখানে মানুষ ক্রিকেটের জন্য এতটা পাগল যে, খাওয়া-দাওয়াও বাদ দিতে পারে। সারা রাত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, পুলিশের পিটুনি খেয়েও ক্রিকেটের টিকিট সংগ্রহ করতে পারা যেন বিশ্বজয়ের সমান তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতীদের জন্য। কী আছের এর পেছনে? যে যুবক-তরুণরা এভাবে সময় নষ্ট করছেন, তাদেরকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো হলে একদিনে লাখো ঘণ্টা সময় দেশের উন্নয়নে ব্যয় হতে পারতো নয়কি? যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অনেক বেশি অবদান রাখতে পারতো। কিন্তু তা কি কেউ কখনো ভাবেন? অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় না। বরং এর মধ্যে সবাইকে ডুবিয়ে রাখতেই সব আয়োজন সব মহলে।

আমরা অনেকটাই emotional fool ,যা গ্লারিতে অবস্থানরত দর্শকদের উচ্ছাস থেকে বোঝা যায়। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ ক্রিকেটের সব ম্যাচ টিভিতে দেখায় না। অথচ আমাদের দেশে সংসদ অধিবেশন ও সংবাদ বাদ দিয়ে অথবা সংক্ষিপ্ত করে একমাত্র সরকারি টেলিভিশনে (বিটিভি) খেলা দেখানো হয় এবং একমাত্র বিটিভিই সব স্থান থেকে সাধারণ মানুষ দেখতে পারে।ফলে সাধারণ মানুষ সংসদ অধিবেশন ও সংবাদ দেখা থেকে বঞ্চিত হয়।

যেখানে দেশের প্রায় দেড় লক্ষ বেসরকারি শিক্ষক বহু বছর ধরে বিনাবেতনে পাঠদান করছেন। তাদের সংসারে তিন বেলা খাবার জুটছে না। জুটছে না ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া ও ওষুধের খরচ। সেখানে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে খেলার পেছনে।
 
তাছাড়াও আমরা এতটাই বোকা যে, কোনো দেশের অভ্যান্তরীণ খেলার (যেমন-বিপিএল, আইপিএল) ক্ষেত্রে দেখা যায় বিভিন্ন বিভাগে-বিভাগে বা প্রদেশে প্রদেশে খেলার সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে প্লেয়ার ভাড়া করা হয়। নিজের দেশের বিভিন্ন বিভাগ/প্রদেশের মধ্যে প্রীতি ম্যাচ খেরার মাধ্যমে নতুন প্লেয়ার তৈরি করা যায়, তৈরি হয় বা সুপ্ত প্রতিভা বিকষিত হয়। অথচ বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে প্লেয়ার ভাড়া করে দেশের মধ্যে হার জিত কেনা এটা কোনো সুস্থ মস্তিস্কের কাজ হতে পারে না।

তাই সংশ্লিষ্ট সকলের বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত এবং এখনই পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। এ ক্ষেত্রে সব খেলা বিটিভিতে বা স্যাটালাইট চ্যানেলে না দেখানো ও সর্বোচ্চ বিশ (২০) ওভারের খেলার আয়োজন করা ইত্যাদি। আশা করছি জাতীয় স্বার্থে সুব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(লেখক: শিক্ষক, লেখক ও কবি। [email protected]। এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, নতুন বার্তা ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।)


নতুন বার্তা/এইচএস
 


Print
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ


শিরোনাম
Top