মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮
Fri, 23 Feb, 2018 02:48:11 PM
ফাহমিদা খানম
ক্ষমতা কি কিছু মানুষ কে উন্মাদ করে দেয়? অন্য মানুষ কে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে শেখায়! ক্ষমতার আসনে বসামাত্রই মানুষের চেহারা বদলে যায় কেন? প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ভিতরের পশুস্বভাব মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। সভ্যতা, মানবিকতা গায়ে থেকে খুলে ঝাঁপিয়ে পড়তে এক মুহুর্ত দেরী করে না।
 
আজকাল আমাদের সবাইর সহন ক্ষমতা আশ্চর্যরকম কমে গেছে। কেন? শুনতে পাই দেশে নাকি কতো কি নিয়ে জরিপ করা হয়, এটা নিয়ে কেউ কেন ভাবেনা? ক্ষমতায় থাকলেই অহংকার আমাদের আষ্ঠেপৃষ্ঠে চেপে ধরে, সবাইকে বড় তুচ্ছ মনে হয়। আমি ভুল ----এটা কেউ বলতেই পারবেনা। আমার ভিতরের ক্ষমতাই আমার ভিতরে পৈশাচিকতার জন্ম দিয়েছে! তাই আমি ছাড়া আর সব ভুল।
 
কিছুদিন আগে ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কের হোয়াইট হল কমিউনিটি সেন্টারে ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনা অনেকেই টিভি আর পেপারে দেখেছি, শুনেছি। ব্যস আমাদের কাজ শুধু এটুকুই, ওরা যেহেতু আমার কেউ নয় তাই আহা বলে সমবেদনা ছাড়া আর কি করার আছে! কেন গায়ে পড়ে উটকো ঝামেলায় নিজেকে জড়াবো আমি!!!
 
ক্ষমতা কিছু কিছু মানুষের ভিতরের মানবিকতাকে ধ্বংস করে দিয়েছে তাই মদ্যপ হয়ে গাড়ি চালানো অপরাধ মনে হয়নি। যেকোন একটা উপলক্ষ পেলেই উপরের খোলস খুলে ভিতরের আদিমতা বেরিয়ে আসে এসব ক্ষমতাবল মানুষের, রক্তেই সুপ্ত হয়েছিল উপবাসী হয়ে তাই নিজ ক্ষমতা দেখানোর সুযোগ পাওয়ামাত্রই এক কণাও ছাড় দিতে রাজি না। এতো সহজে, তুচ্ছ কারণে মানুষ মারা যায়!! এতো তুচ্ছ জীবন! এ কোন যুগ! এ কোন সভ্যতা! যাদের উপর জোর চলে তাদের নিপীড়ন করে এতো আনন্দ! ক্ষমতা কি পৈশাচী শক্তি যে, মানুষের ভিতরের সব বোধ নষ্ট করে দেয়?
 
সাধারণ তুচ্ছ একটা ব্যাপার নিয়ে যে মানুষ নির্মমতায় মেতে উঠেছিল ----- সে যে মানব সন্তান ভাবতেই কষ্ট হয়। এতো সামান্য, তুচ্ছ কারণে আজকাল খুন হয় যে এসবে আজকাল আর কেউ অবাক হয়না। একবারমাত্র নিজেকে যদি আমরা সেই জায়গায় চিন্তা করি -----তাহলেই কিন্তু অংক মিলে যাবে। আজ ওরা, কাল আমি বা আপনি। যে মেয়েটি নতুন জীবন শুরু করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছিলো ----আমৃত্যু তাকে এই কষ্ট বহন করতে হবে, তার বিয়েতে এসেই তার ফুফার জান চলে গেছে। মেয়েটির বাবামায়ের কথা মনে হয়-----মেয়ের বিদায়বেলা কি হতে কি হয়ে গেলো! সদ্য স্বামীহারা মেয়েটির ফুফুর কথা মনে হয়-----সুদূর ইটালি থেকে ভাইয়ের মেয়ের বিয়েতে দেশে এসেছিলো । জানিনা সে পরিবার এখন কেমন আছে! আজীবন তাদের এই শোক বহন করে বাঁচতে হবে। আচ্ছা একইরকম কোন ঘটনা যদি আমার প্রিয় কারো জীবনে ঘটে আমি কি করবো? শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবো? এতে এতো অবিচার, অনাচার দেখে দেখেও আমার চোখ সয়ে যায়না কেন? আজকাল নিজেকেই বরং অপরাধী মনে হয়, আট/দশটা মানুষের মতো সব মেনে নিতে পারছিনা বলে।
 
শুঁয়োপোকা খোলস ছেড়ে বর্ণিল প্রজাপতি হয় আর মানুষ কোমল অনুভূতি হারিয়ে কোথায় যাচ্ছে! এতো এতো বইয়ের ভারে শিশুদের শৈশবকাল নষ্ট করে ওদের অনুভূতিহীন করে আমরাই কি ওদের ক্ষতি করছিনা! একদিনে মানুষ বদলায় না। আজকাল চারদিকে তাকিয়ে আমার মনে হয় নৈতিকতা, মুল্যবোধের উপরে শিক্ষা দরকার, খুব বেশী দরকার। জিপিএ-৫ এর চেয়ে সঠিক মানুষ বানানো জরুরী।
 
অপরাধবোধ থেকেই হয়তো অন্যকে ঘায়েল করার মতো নিষ্ঠুরতার জন্ম হয়। আজকাল খুন, রাহাজানি খুব সাধারণ ঘটনা তাই হয়তো আমাদের অনুভূতিগুলো ভোঁতা হয়ে গেছে, নির্বিকার হয়ে আমরা পরেরদিনের খবরের জন্য অপেক্ষা করি মাত্র। কোনকিছু আমাদের দাগ কাটে না, প্রতিবাদী হতে সাহস যোগায় না।
আর কতো মুখ বুঝে এসব দেখতে হবে!
 
নতুনবার্তা/কিউএমএইচ
 
 

Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top