বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮
Wed, 16 May, 2018 11:42:11 AM
ফাহমিদা খানম।
 
একটা জাতি যে কতো সুসভ্য জাতি তার প্রমাণ পাওয়া যায় তার কার্যকলাপে। আমরা আসলে নীচু জাতি ----না হলে একজন শিক্ষকের উপর ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও আমরা কারো উপরে চাপিয়ে নিস্তার পেতেই সচেতন থাকি। যেকোন বিষয়ে মানুষের সাথে মানুষের মতের ভিন্নতা হতেই পারে তাই বলে একজন বয়স্ক শিক্ষকের গায়ে প্রকাশ্যে মল ঢেলে জনসন্মুখে তাকে অপদস্থ যারা করেছে তারা কারা? যেসব সোনার ছেলেরা এ কাজে সহায়তা করেছে তাদের পিছনের শক্তিকে সামনে টেনে এনে একইরকম শাস্তিদান দেয়া হোক।
 
 কারা করছে এসব? কেন করছে? আমরা আর কতো মুখ বুজে এসব সহ্য করবো? মা বাবার পরেই শিক্ষকের স্থান ---আজীবন তাই শুনে এসছি। বাদশা আলমগীর আর শিক্ষকের কবিতা আমরা সবাই পড়েছি, সেসব যদি মনেপ্রাণে ধারণ করতে নাই পারি তাহলে এসব পুঁথিগত বিদ্যা পড়িয়ে লাভ কি? লাগাবেন ধুতরাগাছ আর আশা করবো আম! ব্যাপারটা কি সেরকম নয়? ইচ্ছে করে এই শিক্ষককে ছোট করে, তুচ্ছ করে, অপমানিত করে কি পেলেন আপনারা? ক্ষমতার আসনে আছেন বলেই কি যা ইচ্ছা তাই করা যাবে? কে দিয়েছে এই ক্ষমতা আপনাদের? এই লজ্জার দায়ভার পুরো জাতিকেই ভুগতে হবে নাকি সামান্য মাদ্রাসা শিক্ষক বলে তার পাশে দাঁড়াতে দ্বিধা বোধ করছেন?
 
প্রগতিশীল হবার জন্য সবাই দৌড়াই কিন্তু মানবিকতার পাশে দাঁড়াতে কিসের এতো সংকোচ আমাদের?

আত্মসমীক্ষার দিন এসছে। কাদের প্রশ্রয়ে একজন শিক্ষককে অপমানিত করা হলো। পিছনের খুঁটির দিকে তাকানো দরকার। কারা নিজেদের প্রয়োজনে এসব ছেলেদের ব্যবহার করছে?
 
এই জেনারেশনের একটা অংশ ভদ্রতাকে, বিনয়ী হওয়াকে দুর্বলতা ভাবছে কারণ তাদের শিখানো হচ্ছে পেশী শক্তি সব। এদের কাছে মায়া মমতা, ভয়, চক্ষুলজ্জা কিছুই নেই। আমরা অভিভাবকরাও দায় এড়াতে পারিনা। সন্তান কি করছে, কার সাথে মিশছে, টাকার উৎস কি --এসব নিয়ে আদৌ মাথা ঘামাই না। টাকাপয়সা পেয়েই মাবাবা খুশী, সেই টাকা কোন্ পথে, কিভাবে আসছে জানার প্রয়োজনটুকুও মনে করছিনা। কি দেখে, কি শিখে বড় হচ্ছে ওরা? এই প্রজন্মের কার্যকলাপ দেখে লজ্জায় কুকঁড়ে যাচ্ছি, স্তব্ধ হচ্ছি তবুও ভয়ে মুখ খুলতে পারছিনা।
 
জুজুরভয় এর কাছে ভীত হয়ে উট পাখির মতন মাথা গুঁজে আর কতদিন? আমাদের সন্তানেরা ভয়ংকর খেলায় জড়িয়ে যাচ্ছে দেখেও আমরা অশেষ ভালবাসা দিয়ে ওদের মাপ করে দিয়ে নিজের পায়ে কি নিজেই কুড়াল মারছি না? বেয়াড়া আব্দারের কাছে যুক্তিবাদী আর বাস্তবতা এড়িয়ে যাচ্ছি। কিসের বদলে কি পাচ্ছি --সেটা কি কেউ ভাবে? ওদের সমস্ত অন্যায়কে প্রশ্রয়দান করে, যা ইচ্ছা করার অবাধ স্বাধীনতা দিলে যে আগুনে হাত পুড়ে যাবার ভয় থাকে --সেটা কি আমরা ওদের বুঝিয়েছি!
 
আমাদের দায়িত্বজ্ঞান, শাসন থাকলে এসব ছেলেরা আগুনে ঝাঁপ দিতো না।

আমরা আসলেই পিছিয়ে পড়া জাতি, মুখ ফুটে যতোই আধুনিকতার কথা বলিনা কেন এসব নোংরা কাজ আমাদের একশত বছর পিছিয়েছে। সভ্যতার শৃঙ্খলে এ কোন প্রজন্ম তাদের গুরুকেই আঘাত করছে? এরা ন্যায় নীতির ধার ধারেনা,ভয় হয় নিজেদের বাবা মায়ের গলায় ছুরি চালাতেও দ্বিধা করবেনা। দিন দিন ওদের সংখ্যাটা বাড়ছে বলে আংতক বাড়ছে।
 
এই সংক্রমতা প্রতিরোধের জন্য কেউ নেই,কোন আদর্শ মানুষ নেই। সবাই লোভের কাছে নিজেকে বিক্রি করে দিয়েছে। খাঁটি মানুষ এখন খুব একটা চোখে পড়েনা, তাই ওরা সভ্যতার বেড়া ডিঙিয়ে শিক্ষকের উপর চড়াও হতে সাহস পায়। সভ্যতার বেড়া ডিঙাতে যারা এদের লেলিয়ে দেয় তারা আজীবন আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। আশ্চর্য হচ্ছি শিক্ষকসম্প্রদায় কি করে চুপ করে আছে? এই অমানবিক নির্মমতা বন্ধে কেউ কেন এগিয়ে আসেনি। নাকি মাদ্রাসা শিক্ষক বলে সবাই দায় এড়িয়ে চলাটাই ঠিক ভাবছি! আমাদের আগের জেনারেশান বা তার আগের জেনারেশান কিন্তু অনেকেই এই শিক্ষক ছিলেন।

সবকিছু যারা সহজমতে নিতে পারেন কেন জানি তাদের দলে নিজকে ভাবতে পারছিনা। কিছু মানুষ স্রোতে গা ভাসাতে পারেনা। শিক্ষক সম্প্রোদায় এখন উল্টো ছাত্রদের তোয়াজ করে চলে, ভয় পায়। সময়ে দাবী বলে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি কলুষযুক্ত হতো তাহলে এইদিন দেখতে হতোনা। চারপাশের এতো অনাচার, অবিচার দেখে দেখেও যারা নির্বিকার থাকেন তারা যদি শিক্ষকের জায়গায় নিজেকে অথবা নিজের বাবাকে বসায় তাহলেই দুর্ভেদ্য অংক মিলে যাবে। চুপ করে আর কতো! সময় হয়েছে রুখে দাঁড়াবার।

অন্যায়ের দায় অন্য কারো কাঁধে চাপিয়ে স্বস্তিলাভ করলেও সেখানে যে সত্যি নেই এটা আমরা বুঝি।

কিউএমএইচ

 
 

 


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top