বুধবার, ২৮ জুন ২০১৭
webmail
Sun, 01 Mar, 2015 09:39:21 AM
বরগুনা প্রতিনিধি
নতুন বার্তা ডটকম

বরগুনা:  জন্মসনদ অনলাইনে না দেয়ায় ইউপি সচিব মারধর ও কোরিয়ান ট্রেনিং শিক্ষককে লাঞ্চিত করেছে বরগুনার জেলার পাথরঘাটা থানার মিযানুর রহমান নামের এক ছাত্র।  সোমবার রাতে পাথরঘাটা থানার ‘পরিষদ’ নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মিযানুরের অভিযোগ-জন্মসনদ অনলাইনে না দেয়ায় কোরিয়া যাওয়ার ভিসা বাতিল হয়েছে। থানা নির্বাহী অফিস থেকে আমার জন্ম সনদটি অনলাইনে দিতে বললেও ইউপি সচিব দেন নাই। তিনি আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি বলেছেন-জন্ম সনদের কপি অনলাইনে দেয়া হয়েছে।

জানাগেছে, দীর্ঘ দিন কোরিয়া যাওয়ার জন্য মিযানুর লটারী ধরে আসছিলেন। ২০১৩ সালে লটারী পেয়ে যান। এর ২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইট নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কোরিয়ান দূতাবাস যখন তার কাগজপত্র চেক করতে যান-তখন অনলাইনে শিক্ষাগত যোগ্যতার ও জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি অনলাইনে না পেয়ে ভিসা বাতিল করে।

পরে মিযানুর শিক্ষা বোর্ডে গেলে তারা জানান ১৯৯৮ সালের সনদের কপি অনলাইনে অন্তর্ভূক্ত করা হয় নি। এরপরে শিক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে সত্যায়িত করা হলে তা গ্রহণ করেন কোরিয়ান দূতাবাস। কিন্তু জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি অনলাইনে না পাওয়ায় আবারো ভিসা বাতিল করে।

ইউপি সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সব এলাকার সনদ অনলাইনে দেয়া হয় নাই। সম্পূর্ণ এলাকার সনদ অনলাইনে দিতে আরো ৫/৬ মাস লেগে যাবে। মাঝখান থেকে একটি দিলে সিরিয়াল করতে সমস্যা হবে।

এঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে মিযানুর বেশ কয়েকজন লোক নিয়ে ইউপি সচিবকে মারধর করেন। কোরিয়ান ট্রেনিং শিক্ষক সবকিছু না জানানো তাকেও লাঞ্চিত করেন মিযানুর।

মিযানুর জানান, গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার জন্য মালয়েশিয়া এয়ার লাইন্সে ফ্লাইট নির্ধারণ করা ছিল। সে লক্ষে পরিবারের সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যাবতীয় কেনা কাটা সম্পন্ন করে ১৭ তারিখ বিকেল বেলা boesel এর ব্রিফিং এ অংশ নিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। বাসে বসেই আমার ব্যক্তিগত একাউন্ট ও boesel এর ওয়েবসাইটে চেক করে দেখতে পাই ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এরপরে বোয়েসেলে ফোন করলে জানানো হয়-ভিসা ঠিক আছে। কিন্তু সরাসরি বোয়েসেলে গিয়ে জানতে পারি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। কি কারনে বাতিল হয়েছে জানতে চাইলে জানানো হয়-এসএসসি-এইসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট ও জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেটের কপি অনলাইনে নেই।

উল্লেখ্য, মিযানুর ১০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে EPS cbt পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের মধ্যে ১৬৪ নম্বর পেয়ে পাস করেন। এরপরে স্কীল টেষ্ট পরীক্ষায় ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৫৬ পান। দীর্ঘ আট বছর ধরে কোরিয়া যাওয়ার জন্য চেষ্টা করলেও লটারীতে না হওয়ায় যেতে পারছিলেন না। ২০১৩ সালে এসে লটারীতে টিকে যান মিযানুর। কিন্তু অনলাইনে জন্মসনদ না থাকায় কোরিয়া যেতে পারলেন না তিনি।

নতুন বার্তা/নিমা
 


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top