শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭
webmail
Sun, 13 Aug, 2017 02:56:07 PM
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
নতুন বার্তা ডটকম
সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিচ্ছে হাওরবাসীর বুকে। গোটা হাওর এলাকার পরিবেশ ক্রমশ অসহনীয় ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
 
ভাটির দেশ ছেড়ে এখন পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে। মানুষ আর পশু এক সঙ্গে বসবাস করছে।  সম্প্রতি বোরো ফসল হানির কষ্ট ধাক্কা সামলিয়ে ওঠতে না ওঠতেই দ্বিতীয় দফায় তলি গেছে রোপা আমন। এতে স্বাভাবিক ভাবেই কৃষক খাদ্য সংকটে পতিত হয়েছেন।
 
তাদের ঘরে এখন ধান চাল কিছুই নেই। বাড়ির চারদিকে পানি আর পানি । ঘরেও প্রবেশ করছে  বন্যার পানি। চুলায় আগুন জ্বালাতে পারছেন না। নিচ্ছেন অন্যের সাহায্য সহযোগিতা। ত্রাণের জন্য চলছে হাহাকার। 
 
হাওরের মানুষের মধ্যে এখন শুধুই বাঁচার আকুতি। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
 
বারবার বন্যার কারণে গোখাদ্যের  সংকট তীব্র আকার ধারন করেছে। বন্যায় বেসরকারি হিসেবে  ভেসে গেছে চার শতাধিক পুকুরের মাছ। এছাড়া ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমির রোপা আমন ও ১৫ হেক্টর সবজি নষ্ট হয়ে গেছে এতে ১৫ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। 
 
৮৯৩ টি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  ২য় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।  ৪০ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পানি প্রবেশ করেছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে কয়েক লাখ মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছেন।  জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস জানায়,  ৯ লাখ ৯২ হাজার ৬৫০টি গরু, ৫৫০৫ মহিষ ,  ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬০২ ছাগল, ৮৫ হাজার ৬০৪ভেড়া, ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৩ হাঁস, ২৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬৩০ টি  মোরগ মুরগি রয়েছে।
 
 জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জানান, দুই দফা বন্যায় গোবাদি পশুর খাদ্য সংকট তীব্র করেছে। তবে বন্যার কারণে গবাদি পশুর মৃত্যুর কোন খবর তারা পাননি। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, শংকর রঞ্জন দাস বলেন,  জেলার ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করার জন্য কাজ চলছে।  জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার  প্রত্যেক উপজেলায় ১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 
 
নতুন বার্তা/কেএফ
 
 
 
 

Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top