বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
webmail
Mon, 12 Feb, 2018 10:12:52 AM
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
নতুন বার্তা ডটকম
টাঙ্গাইল: মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় দেওয়া হবে আজ। গত ৫ ফেব্রুয়ারি চাঞ্চল্যকর এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক, জেলার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়া।
 
ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট নাছিমুল আক্তার নাছিম বলেন, আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেছি। আশা করছি বাদীপক্ষ অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম চৌধুরী দয়াল বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। আশা করছি, আসামিরা বেকসুর খালাস পাবেন। 
 
নিহত রূপার বড়ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, যারা আমার বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে আমরা তাদের ফাঁসি দাবি করছি।
 
উল্লেখ্য, গত বছর ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকেরা ধর্ষণ করে এবং বাসেই তাকে হত্যার পর টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে মৃত দেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় তরুণী হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। 
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার দুই দিন পর রূপার বড়ভাই হাফিজুর রহমান একটি জাতীয় দৈনিকে মধুপুরে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধারের খবর দেখে মধুপুর থানায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি রক্তাক্ত লাশের ছবি ও সালোয়ার-কামিজ দেখে শনাক্ত করেন যে এই তরুণীই তার বোন। ৩১ আগস্ট রূপার মরদেহ উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।
 
এর আগে ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া রুটের ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫), হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বর্তমানে আসামিরা টাঙ্গাইল জেলহাজতে আছে।
 
গত ১৫ অক্টোবর এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরদিন ১৬ অক্টোবর মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। গত ২৩ জানুয়ারি এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। মোট ৩২ সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জন সাক্ষ্য দেন।
 
নতুনবার্তা/কিউএমএইচ
 
 

Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top
    close