রাজনীতি

‘সতর্ক’ থাকার নির্দেশ ছাত্রলীগকে

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিবেশ যে কোনো মুল্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রলীগকে নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

একই সঙ্গে কারও উস্কানিতে কান না দিয়ে ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ভাতৃপ্রতীম এই সংগঠনের নেতাদের।

পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক অরাজক পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগ জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড থেকে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের জরুরি বৈঠকে এসব নির্দেশ দেওয়া হয়।

সন্ধ্যা ছয়টা থেকে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘন্টার এই বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রলীগের পক্ষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকার বিভিন্ন শাখা নেতারা যোগ দেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নিদের্শে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠকে সাতটি বেসরকারি কলেজকে ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভূক্তি ও এর ফলে পক্ষ-বিপক্ষের আন্দোলন, ঢাবি উপাচার্যের কার্য্যালয় ভাংচুর ও তাকে লাঞ্ছিত করা এবং ভিসিকে উদ্ধার করতে গিয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ছাত্রনেতাদের বক্তব্য শোনেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখাসহ বিভিন্ন শাখার নেতারা বক্তৃতা করেন।

বৈঠকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা অভিযোগ করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তথাকথিত আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতীশীল পরিবেশ সৃষ্টি ও সরকারকে বিব্রত করার জন্যই ঢাবি ক্যাম্পাসে আন্দোলন করছে কতিপয় ছাত্র সংগঠন। আসলে নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলা এবং নির্বাচনের আগ মুহূর্তে শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করতে চায়।

তারা বলেন, ছাত্রলীগকে নিয়ে গণমাধ্যমও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। ছাত্রলীগ কোনো হামলার সঙ্গে জড়িত হয়নি। বরং ঢাবি উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গিয়ে তাদের আক্রমণের শিকার হয়েছে। এখনো অনেক ছাত্রলীগ কর্মী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাম ছাত্র সংগঠনগুলো অন্যদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক সাংবাদিকদের বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একটি মহল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ২৩ জানুয়ারি ঢাবি ক্যাম্পাসের ঘটনাটি পরিকল্পিত। বিভিন্ন বাম ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে বহিরাগতরা সেখানে গিয়েছিল। তারা ভাংচুর ও ভিসিকে অবরুদ্ধ রেখেছিল। তারা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যে যেকোনো অঘটন সেদিন তারা ঘটাতো। এ অবস্থায় ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে ভিসিকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে। এছাড়া যেকোনো পরিস্থিতিতে ঢাবিসহ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেকোনো মূল্যে শান্তি বজায় রাখতে হবে। এজন্য ছাত্রলীগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাকাঙিক্ষত ঘটনার জন্য ছাত্রলীগের নেতাদের নিয়ে বসেছিলেন। তাদের বক্তব্য শুনে তারা নিদের্শ দিয়েছেন, কারো উস্কানিতে কান না দিতে। কারণ আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানামুখী ষড়যন্ত্র হতে পারে। তাই ক্যাম্পাসে অরাজক পরিস্থিতির পাঁয়তারা হতে পারে। যে ঘটনা ঘটেছে তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে যদি ছাত্রলীগও জড়িত থাকে তাহলে তাদেরও শাস্তি পেতে হবে।

বৈঠক সুত্র আরও জানায়, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ঢাবির পরিস্থিতি ছাড়াও ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলন নিয়ে কথা বলেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা। তারা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার উদ্দেশ্যে বলেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এই মুহুর্তে ছাত্রলীগের সম্মেলন করাটা কতটা যুক্তিযুক্ত হচ্ছে? তা আওয়ামী লীগকে ভেবে দেখতে হবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই সম্মেলন করা হলে দলের জন্যই ভাল। তবে নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) চাইলে তারা সম্মেলন করতে প্রস্তুত। নেত্রীর কথাই শেষ কথা। তবে যদি নির্ধারিত তারিখ ৩১ মার্চ সম্মেলন হয়, তাহলে ম্যাচিউরিটি সম্পন্ন নেতৃত্ব যেন উঠে আসেন- সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই নয়, অন্যান্য নেতৃত্বের বিষয়টিও দেখতে হবে। যেন নতুন নেতৃত্ব আগামী নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারেন।

এ সময় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতা ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে বলেন, ছাত্রলীগ নেতাদের এই বক্তব্য দলীয় ফোরামে আলোচনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। তবে এই মুহূর্তে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করতে যা যা করণীয় তা ছাত্রলীগ নেতাদেরই করতে হবে। যে কোনো পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ঐকব্যবদ্ধ থাকার নির্দেশও দেন তারা।

নতুন বার্তা/কেকে

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker