রাজনীতি

খালেদার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে জাতি উদ্বিগ্ন

ঢাকা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় রায়কে কেন্দ্র করে পুরো জাতি আজ উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ। বিএনপি মনে করে, এটা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য এবং সকলের অংশগ্রহণে ‌অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নষ্ট করার জন্য এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র।”

শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, “গত ২৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে বিবাদীপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য হঠাৎ সমাপ্ত ঘোষণা করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবীদের মতে, এমন ঘটনা শুধু অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক নয়, রহস্যজনক। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জাতীয় নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার জন্য দ্রুত রায় ঘোষণা-তা সেই অপচেষ্টা অংশগুলোই দেশবাসী মনে করে। সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে গত কয়েকদিন ধরে সরকারের মন্ত্রীগণ এবং বিশেষ দূত (জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ) এই মামলার রায় এবং তার পরবর্তী সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়ে সরকার এবং সরকারি দলের বিভিন্ন প্রস্তুতির কথা যে ভাষায় বলে চলেছেন তাতে প্রমাণিত হয় যে মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকলেও তার রায় কী হবে তা সরকার এবং সরকারি দলের জানা আছে বলেই মনে হয়।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে জাল-জালিয়াতি করে বিচারের নামে প্রহসন এবং বিরোধীপক্ষকে দমন করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করার একটি নোংরা দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে যাচ্ছে। বিচার বিভাগ এবং আইনের শাসন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের এমন আচরণে দেশের জনগণ আজ ক্ষুব্ধ এবং ক্রুদ্ধ। একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেটা জাতি আশা করছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সকলের অংশগ্রহণে সেটাকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্র বলে আমরা মনে করি।”

তিনি বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখার জন্য দ্রুত রায় ঘোষণা, সেই অপচেষ্টার অংশ।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা থেকে খালেদা জিয়াসহ কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক ‍উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে সরকারের আইন-আদালতের নিয়মনীতির বিরুদ্ধ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এ ব্যাপারে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে বিচারের নামে সরকারি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া আহ্বান জানাচ্ছে।” শেষে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখিত বক্তব্য শেষ করেন মির্জা ফখরুল।

এর আগে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ শেষ হয়েছে। আদালত আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ঘোষণা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের জজ ড. আখতারুজ্জামান এই দিন নির্ধারণ করেন। এই পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া আজ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করলেন।

নতুন বার্তা/এ্মআর

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker