সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭
webmail
Mon, 19 Jun, 2017 08:03:07 PM
নতুন বার্তা ডটকম ডেস্ক
ঢাকা: অসংখ্য কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে আর সেই সঙ্গে বাড়ছে ‘মহাকাশের আবর্জনা'ও, ভাঙা, বাতিল ও অকেজো স্যাটেলাইট ও রকেটের টুকরো, যেগুলোকে মহাকাশ থেকে সরানো দরকার৷ কিন্তু কীভাবে সম্ভব?
 
আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র আইএসএস ঘণ্টায় ২৮,০০০ কিলোমিটার গতিতে গত ১৪ বছর ধরে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে – ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪০০ কিলোমিটার উচ্চতায়৷ কেপলারের একটি আস্তরণ ইএসএসকে মাইক্রো-মেটিওরয়েটের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে বাঁচাচ্ছে৷ কিন্তু যেসব নভোচররা মাসের পর মাস মহাকাশযানটিতে কাটান, তাঁদের পক্ষে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো মহাকাশের ‘ডেব্রিস' বা ‘স্ক্র্যাপ', অর্থাৎ বাতিল বা অকেজো স্যাটেলাইটের টুকরো৷
 
আইএসএস তীব্র গতিতে মহাশূন্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, আবার মহাকাশের আবর্জনা'র গতি রোধ করার জন্য বাতাসের প্রতিরোধ পর্যন্ত নেই৷ কাজেই ধাক্কা লাগলে যে কী ঘটতে পারে, তা সহজেই কল্পনীয়। অতি ক্ষুদ্র ধাতব টুকরোগুলোও মহাকাশযানের বহিরাবরণে বড় বড় বিপজ্জনক ফুটো করে দিতে পারে৷
 
অ্যাস্ট্রো-ফিজিসিস্ট ড. হাউকে ফিডলারের মতে, ‘‘রকেটের বিভিন্ন নিঃশেষিত পর্যায় অথবা অকেজো স্যাটেলাইটগুলোকে সরাতে না পারলে, কোনো-না-কোনো সময় এই ‘মহাকাশ আবর্জনার' পরিমাণ মারাত্মক রকম বেড়ে যাবে৷ আপাতত প্রায় ২৮,০০০ এ ধরণের ধাতব টুকরো ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু ভবিষ্যতে এমন দাঁড়াতে পারে যে, স্যাটেলাইটকে কক্ষপথে রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে৷''
 
কৃত্রিম উপগ্রহগুলি একটা জালের মতো পৃথিবীকে জড়িয়ে রেখেছে – মাধ্যাকর্ষণের ফলে তাদের বা পৃথিবীর এ বাঁধন থেকে মুক্তি নেই৷ মোবাইল টেলিফোন থেকে শুরু করে জিপিএস বা টেলিভিশন– সব কিছু চলে এই স্যাটেলাইটগুলির কল্যাণে৷
 
‘মহাকাশ আবর্জনা' সরানোর পন্থা’
একটি উপায় হলো বাতিল স্যাটেলাইটগুলোকে টেনে নিয়ে যাওয়া৷ এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যেসব অকেজো স্যাটেলাইট মহাকাশে অযথা ঘুরপাক খাচ্ছে, তাদের আবার কোনো এক দিকে ঠেলা বা চালানো যাবে৷ ড. ফিডলার জানালেন, ‘‘জিও-স্টেটশনারি স্যাটেলাইটটির নাকের ডগায় নল লাগিয়ে সেটিতে এমনভাবে জ্বালানি ভরা হবে যে, তাকে আবার চালানো সম্ভব হবে৷''
 
পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তা কাজ করে বলে দেখা গেছে৷ বিশেষ করে টেলিভিশনের স্যাটেলাইটগুলোকে নিয়ন্ত্রিতভাবে সরানো যাবে৷ লক্ষ্য হলো, স্যাটেলাইটগুলিকে আরো বেশ কয়েক বছর ধরে বহাল রাখা৷ আর কিছু করা সম্ভব না হলে, শুধু তখনই স্যাটেলাইটটিকে ভূপৃষ্ঠের দিকে টেনে নিয়ে আসা হবে৷
 
ড. ফিডলার বললেন, ‘‘আর যেটা করতে হবে, সেটা হলো, ‘ডেওস' অভিযানের জন্য একটা সি্ম্যুলেশন৷ ডেওস হলো একটি টেন্ট্যাকল বা সাঁড়াশি৷ এই সাঁড়াশি হাত দিয়ে নড়বড়ে স্যাটেলাইটটিকে ধরে, আগে তাকে স্থিতিশীল করতে হবে – তারপর তার ভূপৃষ্ঠে পতনের ব্যবস্থা করতে হবে৷''
 
ষদি কোনো স্যাটেলাইট মহাকাশে দুর্ঘটনায় পড়ে, তবে তাকেও এভাবে ধরা ও মেরামত করা যাবে কিংবা কক্ষপথ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে৷ অর্থাৎ এ ধরণের স্যাটেলাইট কক্ষপথ থেকে সরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীর উপর আছড়ে পড়ে বিপদ সৃষ্টি করতে পারবে না৷ আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের মহাকাশচারীরাও আর কিছুটা স্বস্তির সঙ্গে কাজ করতে পারবেন৷-
নাসা।
 
নতুনবার্তা/কিউ এম আর
 

Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top