শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭
webmail
Tue, 25 Jul, 2017 02:13:21 PM
নতুন বার্তা ডেস্ক
ঢাকাঃপৃথিবীর কক্ষপথ আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে৷ পুরানো, বিকল স্যাটেলাইট বা সেগুলির অংশবিশেষ ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানগুলির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে৷ তাই বিশেষজ্ঞরা এই আবর্জনা সরানোর উপর জোর দিচ্ছেন৷
 
বিশেষ করে নিম্নভাগের কক্ষপথ সক্রিয় স্যাটেলাইট ছাড়াও মহাকাশ আবর্জনায় ভরা৷ ফলে সংঘাত-সংঘর্ষের ঝুঁকি দিন-দিন বেড়েই চলেছে৷ ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সমন্বয়ক টমাস রাইটার বলেন, “এই প্রবণতা অত্যন্ত ভয়ংকর৷ পৃথিবীর কক্ষপথে বস্তুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে, ফলে সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়ছে৷ সেইসাথে ‘কেসলার সিন্ড্রোম' নামের এক ঝুঁকিও রয়েছে, যার ফলে আরও আবর্জনা সৃষ্টি হয়৷”
 
এই আবর্জনা ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে৷ বিশেষ করে যে অভিযানে মানুষও অংশ নিবে৷ রকেট বা মহাকাশযানকে পুরানো স্যাটেলাইট ও মহাকাশ আবর্জনার পাশ কাটিয়ে অত্যন্ত সরু পথ দিয়ে যেতে হবে৷ মহাকাশ সংস্থাগুলিকে চালু স্যাটেলাইটগুলিকে সর্বদা নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে৷ তা না করলে অন্য বস্তুর সাথে সেগুলির ধাক্কা লাগতে পারে৷ টমাস রাইটার বলেন, “আবর্জনার ঘনত্ব এমন মাত্রায় পৌঁছচ্ছে, যে কক্ষপথে যে কোনো স্যাটেলাইটের সাথে তাদের দ্রুত সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠছে৷ তখন আর ৪০০ থেকে ১,২০০ কিলোমিটার উচ্চতার মধ্যে নিম্ন কক্ষপথ আর ব্যবহার করা যাবে না৷ সেই পরিস্থিতি যাতে না আসে, আমাদের তা নিশ্চিত করতে হবে৷”
 
স্যাটেলাইট আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী হয়ে উঠেছে৷ যোগাযোগ, যাতায়াত, কৃষি থেকে শুরু করে জলবায়ু ও আবহাওয়া সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট আমাদের সাহায্য করে৷
 
কিন্তু সময় ও প্রযুক্তির সাথে সাথে উড়ন্ত এই সব যন্ত্র সেকেলে অথবা অকেজো হয়ে পড়ে৷ তখন নতুন স্যাটেলাইটের প্রয়োজন পড়ে৷ বিশেষজ্ঞদের দাবি – সবার আগে অকেজো স্যাটেলাইট সাফ করতে হবে৷ তারপর নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা যাবে৷ টমাস রাইটার বলেন, “স্যাটেলাইট সাধারণত ৭ থেকে ১০ বছর অথবা তার সামান্য বেশি সময় সক্রিয় থাকে৷ তারপর সেটিকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে হয়৷ সেখানে যে আবর্জনা রয়েছে, অবশ্যই তা সংগ্রহ করা উচিত৷ এ বিষয়ে অনেক আইডিয়া সত্ত্বেও কোনো সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি৷ এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আন্তর্জাতিক স্তরে যার সুরাহা হওয়া উচিত৷”
 
একটি সমাধানসূত্র এর মধ্যেই পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তা হলো পুরানো স্যাটেলাইটগুলিকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা৷ অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়ায় স্যাটেলাইটকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে আনা হয়৷ সেই যাত্রায় বিশাল মাত্রায় উত্তাপ ও গতি দেখা যায়৷ সেই চাপের মুখে স্যাটেলাইটের বাইরের অংশ পুড়ে যায়৷ তবে টাইটেনিয়ামের মতো উত্তাপ-নিরোধক উপকরণ রক্ষা পায়৷
 
বেশিরভাগ সময়ে সেগুলি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে৷ ভূমির উপর পড়ার ঘটনা খুবই বিরল৷ কিন্তু হুমকি থেকেই যায়৷-ডিডব্লিউ
 
নতুনবার্তা/কিউএমএইচ
 
 

Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top