শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
webmail
Mon, 20 Mar, 2017 11:40:47 AM
নতুন বার্তা ডেস্ক

দুবাই: পকেটে ৬টি ডাবলস গ্র্যান্ড স্ল্যাম। রোজগার প্রায় ৬০ লক্ষ ডলার। মিলখা সিংহ, মেরি কমের পর তারও বায়োপিক হবে বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি ভারতের সফলতম মহিলা টেনিস খেলোয়াড় সানিয়া মির্জা। সম্প্রতি কাতার ওপেন চলাকালীন আত্মজীবনী, বলিউড, লিঙ্গবৈষম্য-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি একটি বিদেশি সংবাদপত্রের সামনে মুখ খুলেছিলেন ৩০ বছর বয়সি তারকা।

আত্মজীবনী কেন

এস এগেনস্ট অড্স’ শেষ করতে আট বছর সময় লেগেছে। আসলে আমাকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ভাল-মন্দ অনেক কিছুই লেখা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ফ্যানেরা আমার সম্পর্কে জেনেছেন পরোক্ষ সূত্র থেকে। সেকারণেই আমার মনে হয়েছে, তাঁদের জন্য কিছু লেখা উচিত। তবে মূল উদ্দেশ্য, উপমহাদেশের হবু টেনিস তারকাদের উৎসাহ দেওয়া। প্রধানত মেয়েদের।

বলিউডের প্রভাবআমাদের ক্রীড়া সংস্কৃতি ক্রিকেট নির্ভর। অন্যান্য খেলা সমর্থন কিংবা সাহায্য পায় না। অলিম্পক্স, এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমসের দু’মাস আগে থেকে মনে হয় কিছু একটা হচ্ছে। তারপর যে কে সেই। কিন্তু ক্রিকেটের বাইরেও তো আমাদের দেশে তারকা আছে! বলিউডের সিনেমাগুলি তৈরি হয়েছে বলেই লোকে সেই তারকাদের চিনতে পেরেছে।
 

সানিয়াকে নিয়ে সিনেমা

কথাবার্তা চলছে। কিছু চূড়ান্ত হয়নি। তবে আমার ব্যক্তিগত জীবনে এমন কিছু কিছু ঘটনা রয়েছে, যেগুলি পুরোপুরিই আমার ব্যক্তিগত। সেগুলি আমি কখনওই প্রকাশ করব না। আত্মজীবনীতেও সেগুলি নেই।

তারকার সংকট

মুসলিম, অ-মুসলিমটা বিষয় নয়। ভারত থেকে মহিলা টেনিস খেলোয়াড়ই উঠে আসছে না। এটা উপমহাদেশের সামাজিক সমস্যা। আসলে আমরা চাই মেয়েরা ফরসা হোক, রান্না শিখুক এবং বিয়ে করে সংসার করুক। ছ’বছর বয়স থেকে বেশিরভাগ মেয়ের জীবনই এরকম। আমার অভিজ্ঞতাও তাই।

লিঙ্গবৈষম্যের ছবি

রাষ্ট্রপুঞ্জের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসাবে আমি দেখেছি, লিঙ্গবৈষম্যের সমস্যা গোটা পৃথিবীতে রয়েছে। সেরিনা উইলিয়ামসকে এখনও প্রশ্ন শুনতে হয়, তিনি কীভাবে সেরা মহিলা টেনিস তারকা হলেন। কিন্তু ঘটনা হল, শুধু মহিলা নয়, সেরিনা সম্ভবত সেরা টেনিস খেলোয়াড়। আমাকেও অনেক ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। মনে রাখতে হবে, আমরা পুরুষশাসিত সমাজে বসবাস করি। লড়াই না করলে এই বৈষম্য দূর করা যাবে না।

অ্যাকাডেমি নিয়ে ভাবনা

আমি নিজের সেরাটা নিংড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। খুদেদের থেকে আগামী দিনের তারকা তুলে আনতে চাই। তাই তিন থেকে আট বছর বয়সিদের নিয়ে ট্রেনিং শুরু করছি। এখন অবশ্য সুযোগ-সুবিধা কিছুটা বেড়েছে। আমি যখন খেলা শুরু করেছি তখন হাতে গোনা কয়েকটা টেনিস কোর্ট ছিল। বেশিরভাগ কোর্টই তৈরি হতো গোবর লেপে।
 
এখন লক্ষ্য

কোর্টে লড়াই করতে ভালবাসি। প্রতিটি ম্যাচে সেই লড়াই চালিয়ে যেতে চাই। সে গ্র্যান্ড স্ল্যামই হোক বা অন্য কোনও প্রতিযোগিতা। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই চাপ যতদিন উপভোগ করতে পারব ততদিনই খেলে যেতে চাই।

নতুন বার্তা/এমআর


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top
    close