শনিবার, ২২ জুলাই ২০১৭
webmail
Thu, 06 Jul, 2017 04:48:27 PM
নতুন বার্তা ডটকম ডেস্ক
রোম:সিয়েনার ‘পালিও ঘোড়দৌড়’ যেন জেমস বন্ডের ছবির সেট।ইটালির সিয়েনা শহরের পিয়াৎসা দেল কাম্পা চত্বরে বছরে দুই বার করে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন ঘোড়দৌড়ের আয়োজন করা হয়। ‘পালিও’ নামের এই ঘোড়দৌড়টি আসলে সিয়েনার বিভিন্ন পাড়ার মধ্যে প্রতিযোগিতা- চলে আসছে মধ্যযুগ থেকে৷
 
জেনে নেয়া যাক্ এর বিভিন্ন দিক্।
 
অতীতে ফিরে যাওয়া
১৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে সিয়েনার ১৭টি পাড়া ‘পালিও’-তে পরস্পরের বিরুদ্ধে ঘোড়দৌড়ে নামে প্রথমবারের মত৷ মনে হয় তার-ই স্মরণে আজও মানুষ ঘোড়দৌড়ের আগে মধ্যযুগীয় পোশাক পরে একটি শোভাযাত্রা করে৷শোভাযাত্রায় প্রত্যেক পাড়ার যে দল থাকে, তাতে একজন থাকে পতাকা হাতে; এছাড়া থাকে ঢুলি আর সেকালের নাইটদের বালকভৃত্যের সাজে কিছু লোক...
 
মানুষের ভিড়ে রেসের ঘোড়া
আসল দৌড়ের আগে বার পাঁচেক রিহার্সাল করা হয় – ঘোড়া ও সওয়ারি সহ৷ঘোড়াগুলো কিন্তু পাড়ার নিজের সম্পত্তি নয়, এমনকি তাদের বাছাই করার কাজও একটি পরিষদের হাতে৷
 
ঐতিহাসিক চত্বরে উদ্দাম ঘোড়দৌড়
শঙ্খের আকৃতির পিয়াৎসা দেল কাম্পায় ষাট হাজার মানুষ ভিড় করেন পালিও দেখতে – কিন্তু তাদের এক মুহূর্তের জন্যও অন্যমনস্ক হলে চলবে না; কেননা, দৌড় চলে মাত্র ১০০ সেকেন্ড বা প্রায় পৌনে ২ মিনিট। চুনাপাথর আর বালি মিশানো বিশ সেন্টিমিটার পুরু বিশেষ ট্র্যাকের উপর দিয়ে ঘোড়সওয়ারদের মাত্র তিনটি চক্কর দিতে হয়৷ ট্র্যাকের দৈর্ঘ হলো সাকুল্যে ৩০০ মিটার; প্রস্থে সাড়ে সাত মিটার৷
 
ভাড়া করা জকি ও জকি ভাঙানোর প্রচেষ্টা
‘ফান্তিনি’ বা জকিরাও স্থানীয় নন; তাঁদের অধিকাংশ সার্ডিনিয়ার মানুষ, পালিও-র জন্য তাঁদের ভাড়া করে আনা হয়৷ জকি ভাড়া করা কিন্তু পাড়াগুলোর কাজ; কাজেই জকি ভাঙানো বা অন্য পাড়ার জকিদের ঘুষ দিয়ে তাঁদের রেসে হারার প্রলোভন দেখানোর ঘটনা যে একেবারে ঘটে না, তা কিন্তু নয়৷ পাড়াগুলোর মধ্যেও সখ্য, বৈরিতা, সবই আছে৷ কাজেই ফুটবলের মতো পালিও-তে গট-আপ গেমের প্রথাও প্রায় এই ঘোড়দৌড়ের মতোই সুপ্রাচীন৷
 
জেমস বন্ড ছবির সেট
২০০৭ সালের ‘কোয়ান্টাম অফ সোলেস’ ছবিটি যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা মনে করতে পারবেন, বন্ড কিভাবে পালিও-র ঠিক আগে দর্শকদের ভিড়ে এক খুনিকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে৷
 
লাগামছাড়া
পালিও’র ঘোড়াগুলো লাগাম পরে থাকলেও, ঘোড়দৌড় হিসেবে পালিও’র নিয়ম-কানুন রীতিনীতি হলো – পালিও’র কোনো নিয়ম-কানুন বা রীতিনীতি নেই: অন্য ঘোড়ার পথ আটকে দেওয়া কিংবা তাকে চেপে দেওয়া, এ সবই চলে৷ তবে কোনো সওয়ারিকে তাঁর ঘোড়া থেকে ঠেলে ফেলে দিলে চলবে না৷ অর্থাৎ পালিও যেন পোলো আর রাগবির একটা জংলী সংমিশ্রণ! তার দাম দেয় চারপেয়ে জীবগুলো৷ ১৯৭০ সাল থেকে এ পর্যন্ত পালিওয় মোট ৫০টি ঘোড়া প্রাণ হারিয়েছে৷
 
সওয়ারির চেয়ে ঘোড়ার কদর বেশি
তার প্রমাণ হলো এই যে, কোনো পাড়ার ঘোড়া সবার আগে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছালেই সেই পাড়া জিতেছে, বলে ধরে নেওয়া হবে – তা সেই ঘোড়ার সওয়ারি যদি মাঝপথে মাটিতে পড়ে গিয়েও থাকেন, তাতেও কোনো ক্ষতি নেই৷
 
২০১৭-র প্রথম পালিও-তে জিতেছে ‘জিরাফ’ পাড়া
গত ২ জুলাই এর প্রথম পালিও’তে ‘জিরাফ’ পাড়ার সওয়ারি জোনাতান বার্তোলেত্তি প্রথম স্থান অধিকার করেন৷ মনে রাখবেন, পালিও’তে দ্বিতীয় হওয়াটা সবার শেষে পৌঁছনোর অর্থাৎ লাস্ট হওয়ার চেয়েও বেশি লজ্জার! কাজেই এ বছরের প্রথম পালিও’তে যদি ডিগবাজি খেয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে ১৭ আগস্টের দ্বিতীয় পালিও’তে প্রথম হবার চেষ্টা করতে পারেন৷- দি গার্ডিয়ান।
 
নতুনবার্তা/কিউএমএইচ

Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top