রোববার, ২০ আগস্ট ২০১৭
webmail
Sun, 13 Aug, 2017 12:58:09 AM
নতুন বার্তা ডেস্ক

লন্ডন: তখন সবেমাত্র গ্যাটলিনদের দৌড় শেষ হয়েছে। ৩৭.৭০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে ৪×১০০ মিটার রিলের ফাইনালে উঠেছে আমেরিকা। রিলেতে গ্যাটলিনরা বছরের দ্রুততম সময়ে শেষ করলেও, গ্যালারি অবশ্য উত্তাল এই ইভেন্টের দ্বিতীয় হিটের জন্য। আরও ভাল করে বললে উসাইন বোল্টের জন্য।

সতীর্থদের সঙ্গে জামাইকান কিংবদন্তি তখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে। ট্র্যালকে নামার অপেক্ষায়। গ্যালারির এই উন্মাদনা দেখে বোল্টের দিকে ক্যামেরা তাক করতেই, তিনি হাত দিয়ে দু’কান চেপে ধরলেন। সঙ্গে রসিকতা করতে করতে জোরে জোরে মাথা নাড়াতে থাকলেন। তবে ঠাসা গ্যালারিতে দর্শকদের চিল চিৎকারে ট্র্যািকে যে তাঁর কোনও সমস্যা হয়নি, সেটা বুঝিয়ে দিলেন দৌড় শেষ হতেই।

দৌড়ের শেষ ল্যাপে ক্যাম্পবেলের থেকে যখন বোল্টের হাতে ব্যাটন এল, তখন কিছুটা চাপে জামাইকা। একটু পিছিয়ে থেকে ফ্রান্স, চীনের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি টক্করে। অথচ বোল্ট দৌড় শুরু করতেই ফারাক স্পষ্ট। ফিনিশিং লাইনে পৌঁছোনোর আগে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নিলেন বিপক্ষদের। বাকিদের অনেকটা পেছনে ফেলে দিয়েছেন বুঝতে পেরেই রাশ টেনে নিলেন। যেন দম বাঁচিয়ে রাখলেন রাতের ফাইনালের জন্য। বিদায়ী দৌড়ে গ্যাটলিনদের চ্যালেঞ্জ ছঁুড়ে দেওয়ার জন্য। হিটে ৪×১০০ মিটার দৌড় শেষ করতে বোল্টের জামাইকা সময় নিল ৩৭.৯৫ সেকেন্ড। ৪×১০০ মিটারে এটাই বোল্টদের এই মরশুমের সেরা সময়। তাঁদের সঙ্গে ফাইনালে ওঠা বাকি তিন দল ফ্রান্স (৩৮.০৩ সেকেন্ড), চীন (৩৮.২০ সেকেন্ড) ও কানাডা (৩৮.৪৮ সেকেন্ড)। প্রথম হিট থেকে আমেরিকার সঙ্গে ফাইনালে উঠেছে গ্রেট ব্রিটেন (৩৭.৭৬ সেকেন্ড), জাপান (৩৮.২১ সেকেন্ড) ও তুরস্ক (৩৮.৪৪ সেকেন্ড)।


বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ৪×১০০ মিটারে টানা পঞ্চমবার সোনা জয়ের হাতছানি জামাইকার সামনে। যেখানে নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ গ্যাটলিন, কোলম্যানদের আমেরিকা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ মিটারে এই গ্যাটলিন এবং কোলম্যানের কাছেই হারতে হয়েছিল বোল্টকে। শেষমেশ ব্রোঞ্জেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে। ৪×১০০ মিটারে সেই আক্ষেপ মিটিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকছে এই জামাইকানের সামনে। ফলে লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফাইনালে ওঠার জন্য সতীর্থদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি জামাইকান সমর্থকদের সুখবরও শুনিয়ে রাখলেন বোল্ট। বললেন, ‘আমাদের দলের তরুণরা দারুণ করেছে। টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতিতে যেমন করেছিলাম, এখানে সেভাবেই ওরা নিজেদের মেলে ধরেছে। যদিও হিটে কিছু ভুলত্রুটি থেকে গেছে, এ কথা ঠিক। ইয়োহান ব্লেক ফাইনালে নামবে।’

ফাইনালে ওঠার পর আমেরিকার হয়ে দৌড় শুরু করা মাইকেল রজার্স তো স্পষ্টই বলে দিয়েছেন, ‘আমাদের ওপর কোনও চাপ নেই। জয়ের ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী। ফাইনালের জন্য প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখব না।’

একে হিটে গ্যাটলিনদের আমেরিকার থেকে বেশি সময় নেওয়া, তার ওপর জীবনের শেষ দৌড়। ফাইনালে ট্র্যােকে নামার আগে বোল্ট কিছুটা চাপে থাকলেও থাকতে পারেন। কিন্তু তাঁর যে মন খারাপ করবে না, সেটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন জামাইকান কিংবদন্তি। বোল্টের কথায়, ‘এই দর্শকদের থেকে যেভাবে উৎসাহ ও শক্তি পাচ্ছি, তাতে মন খারাপ হওয়া কঠিন। আমি খুব খুশি। তবে ভেতরের অনুভূতিটা বলে বোঝাতে পারব না।’ ফাইনালের ফলাফল যা–ই হোক না কেন, মানুষ বোল্ট যে অনেকটা এগিয়ে থাকবেন, সেটা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। বললেন, ‘শুধু আমার জন্য নয়, পুরো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেই দর্শকরা যে উন্মাদনা দেখিয়েছে, তাতে আমি অভিভূত।’

নতুন বার্তা/ কেকেআর


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top