রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮
Thu, 05 Apr, 2018 12:12:25 AM
রোনালদোর বাইসাইকেল কিক
নতুন বার্তা ডেস্ক

শিল্প অথবা রূপকথা। বিস্ময় কিংবা বেনজির। ঠিক কী নামে ওই মুহূর্তটিকে ডাকা যায়, তা এখনও হাতড়ে বেড়াচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। এখনও যেন ঘোর লেগে আছে আপামর ফুটবলপ্রেমীদের চোখে। আসলে ফুটবলের দুনিয়ায় যখন এরকম অলৌকিক মুহূর্তের জন্ম হয়, তখন কোনও ভেদাভেদ থাকে না। সমর্থকদের বিভাজনের দেওয়াল ব্যর্থ হয়ে পড়ে। জেগে থাকে শুধু ফুটবল। গোল অনেকেই করেন। কিন্তু খুব কমজনই পারেন এই ফুটবল পৃথিবীকে একার ক্ষমতায় ঈশ্বরিকভাবে সংঘবদ্ধ করে তুলতে। নিঃসন্দেহে সেই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাই ভোল্টেজ ম্যাচ। একটা বাই সাইকেল কিক। স্কোর বোর্ডে একটা সংখ্যার আগমন। তবে তিনি রোনাল্ডো বলেই এই ঘটনাকে কেবলমাত্র সেটুকুই হয়ে থাকতে দিলেন না। দিয়ে দিলেন রূপকথার মর্যাদা। দিয়ে দিলেন অনন্ত চর্চার সম্ভাবনা। গোল তো গোলই, তবে যে সৌন্দর্য তাতে লেখা থাকল, তা গোলের অধিক। ফুটবলের ইতিহাসে আসলে তা একখানা নতুন পাতারই সংযোজন।



জুভেন্টাসের বিরুদ্ধে এক গোলে এগিয়েই ছিল রিয়াল। ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া ছিলেন মার্সেলোরা। দানি কারভাহালের চিপ ক্রস যখন রোনাদোর দিকে উড়ে আসছে, তখন তিন কাঠির নিচে জায়গা নিয়ে নিয়েছিলেন জুভেন্তাস গোলরক্ষক বুফোঁ। পোড়খাওয়া বুফোঁ আঁচ করেছিলেন, কিছু একটা ঘটতে চলেছে। আন্দাজ করেছিলেন, বল পায়ে নামিয়ে গোলের লক্ষ্যে ঝাঁপাবেন রোনাদো। কিন্তু বড় খেলোয়াড় বুঝি তাঁরাই হন, যারা ফুটবল দুনিয়ার সব ছক এলেমোলো করে দিতে পারেন। এমনকী বিপক্ষের তুখড় মস্তিষ্কের ফুটবলারকেও মুহূর্তের জন্য হতভম্ব করে দিতে পারেন। এক্ষেত্রেও হল তাই। বুফোঁর হিসেব এলোমেলো করেই শূন্যে শরীর ছুড়ে দিলেন রোনাল্ডো। কিপারকে কি একঝলক দেখেছিলেন?  হয়তো বা, কিংবা নয়। বোঝার উপায় নেই। চোখের পলকে বাইসাইকেল কিকে বল গিয়ে জড়াল জালে। নড়ার সময় পেলেন না বুফোঁ। যখন ঘোর ভাঙল ততক্ষণে গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছে। এমন গোলের সাক্ষী থাকার সৌভাগ্য তো সচরাচর হয় না।



ফুটবল বিশ্ব এমন গোল যে দেখেনি তা নয়। যাঁর সঙ্গে রোনাল্ডোর তুলনায় গোটা দুনিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা দ্বিধাবিভক্ত, সেই মেসিও এরকম গোল করেছেন। কিন্তু রোনাল্ডোর গোল মানেই সেখানে মিশে থাকে এক অনবদ্য অ্যাটিটিউড। একটা ছক ভাঙা তছনছ করা ঝড়ের আবহ তিনি তৈরি করে দেন, যা বেসামাল করে তোলে তাঁর অনুগামীদের। উদ্বেলিত হন রিয়ালের তারকারা। তবে এই গোলটি যেন তার থেকেও বেশি কিছু। এমনকী জুভেন্টাসের ফ্যানরাও স্বীকার করছেন, ফুটবল ইতিহাসের এই ঐশ্বরিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছেন তারা। মেসিভক্তরাও ইতিউতি জানাতে শুরু করেছেন, ফুটবলের ভগবান একজন হলেও, অলৌকিক ঘটাতে পারেন রোনাদোও। এইটাই বোধহয় এই গোলের সার্থকতা। এরপর থেকে আবার দুই দলের সমর্থনে বিভাজন চলবে। মেসি বনাম রোনাল্ডো নিয়ে চর্চায় সরগরম হবে বিশ্ব। কিন্তু ওই যে কয়েক মুহূর্তের বিমূঢ় বিস্ময়, ওই যে কয়েক মুহূর্ত সকলে এক হয়ে থাকা, এটাই ফুটবেলর দান। ফুটবল দেবতার দূত হয়ে রোনাদোরাই তা ফেরি করতে পারেন।

নতুন বার্তা/কেকে


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top