খেলা

তিনটি ফুটবল ম্যাচ যা রূপ নিয়েছিলো যুদ্ধে !

সাকিব রহমান সিদ্দিকীঃ
ফুটবল মানে টান টান উত্তেজনা, খেলার মাঠে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। বড় দলগুলো হিমশিম খায় ছোট দলগুলোর বিপক্ষে জয় তুলে নিতে। কোনো কোনো ম্যাচের ক্ষেত্রে এই উত্তেজনা ছাপিয়ে যায় অন্য খেলাকে আর  তৈরি করে ইতিহাস। আজ এমন তিনটি খেলার কথা তুলে ধরবো যেগুলো খেলা ছাপিয়ে পরিণত হয়েছিল যুদ্ধে ।
১। ব্যাটেল অফ বরডিউ
১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল বনাম চেকোস্লোভাকিয়ার খেলাটি ব্যাটেল অফ বরডিউ নামে বিখ্যাত। হাঙ্গেরিয়ান রেফারি পল ভন হার্টস্কার বাজে রেফারিং, পাশাপাশি এই ম্যাচটিতে উভয় পক্ষের খেলোয়াররাই মারাত্মক ফাউলিং এর শিকার হয় । খেলার ত্রিশ মিনিটে ব্রাজিল ১-০ তে এগিয়ে যায় । পরবর্তীতে ৬৫ মিনিটে পেনাল্টির কিকের মাধ্যমে চেকোস্লোভাকিয়া সমতায় ফেরে । ব্রাজিলের মাচাদো এবং জেজে প্রকপিয়ো এবং চেক প্লেয়ার ইয়ান রিহাকে মারাত্মক ফাউল করার জন্য মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হয় । হাতাহাতিতে চেক খেলোয়াড় ফ্রান্টিশেক প্লানিৎস্কা এবং ফরোয়ার্ড অল্ডরিখ নেয়েদলির ডান হাত এবং ডান পা ভেঙ্গে যায় । মিডফিল্ডার জোসেফ কোশেলেকের পাকস্থলীতে আঘাত পান । ব্রাজিলের লিওনিদাস পেরাসিও সহ তিনজন খেলোয়ার আঘাত পান । খেলাটি ৯০ মিনিট এর পর আরো ৩০ মিনিট চলে । পরবর্তিতে দুই দিন পর ম্যাচটি পুনরায় অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই খেলায় ব্রাজিল ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে পৌছে যায়।
হাইলাইটসঃ https://www.youtube.com/watch?v=esBi7w-E3os&t=94s
২। ব্যাটেল অফ হাইবারী
১৯৩৪ সাল । বিশ্বকাপ ফুটবল মাত্রই শেষ হয়েছে। ইটালি বিশ্বকাপ জয়ী হিসেবে বিশ্বের সেরা ফুটবল দল । ইংল্যান্ড ফুটবলের আবিষ্কারক হিসেবে সবসময় শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার হলেও শুরুর দিকে তারা ফিফার সদস্য দেশ ছিল না । তাই তারা সবসময়ই বিশ্বকাপ নিয়ে হাসিঠাট্টা করত, টাইম পত্রিকা তো ঘোষণা দিয়েই বসল, “নামস্বর্বস্ব বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন” এমতাবস্থায় ইংল্যান্ড এবং ইটালি, হাইবারীর আর্সেনাল স্টেডিয়ামে এক প্রীতিম্যাচের আয়োজন করে । নামে প্রীতিম্যাচ হলেও ম্যাচটা হয়ে দাঁড়ায় এক বিশ্বকাপ ফাইনাল । ইটালির প্রেসিডেন্ট মুসোলিনী ঘোষণা দেন, ম্যাচটি জিততে পারলে সব প্লেয়ারকে একটি করে আলফা রোমিও গাড়ি উপহার দিবেন । খেলা শুরুর ১৫ মিনিটের মাথায় ইংল্যান্ড তিন শুন্য গোলে এগিয়ে গেলে, ইটালিয়ানরা জেতার জন্য বেপোরোয়া হয়ে উঠে। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ইটালি বেশ ভাল খেললেও ম্যাচ জিততে পারে নি । খেলাটি ৩-২ গোলে ইংল্যান্ড জিতে নেয়। ইংল্যান্ড ম্যাচটি জিতলেও ইংল্যান্ডের অধিকাংশ খেলোয়ার মারাত্মক ভাবে ইঞ্জুরড হয়। ইংলিশ অধিনায়ক ইডী হ্যাপগুডের নাক ভেঙ্গে যায়, সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড ড্রেকের চোখের নিচে কালশিটে পরে যায়, এরিক ব্রুকের হাত এবং রয় বাউডেনের গোড়ালী ভেঙে যায় । অধিনায়ক হ্যাপগুড তার আত্মজীবণীতে লেখেন, “প্রথমার্ধে ইটালিয়ানরা সামনে যা কিছু দেখছিলো তাতেই লাথি মারছিলো” পরবর্তীতে ম্যাচ জয়ের মাধ্যমে ইংলিশরা অলিখিত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে দাঁড়ায় এবং এই ম্যাচের ১১ জন প্লেয়ারকে লায়ন্স অফ হাইবারী উপাধি দেয়া হয় ।
হাইলাইটসঃ https://www.youtube.com/watch?v=yDDXlctrf0U
৩। ব্যাটেল অফ নুরেমবার্গ
২০০৬ বিশ্বকাপের নক আউট পর্ব ।মুখোমুখি পর্তুগাল আর হল্যান্ড। দুই বছর আগে ইউরোর সেমিফাইনালেও তারা মুখোমুখি হয়েছিল । সেবার স্বাগতিক পর্তুগালের কাছে হেরে হল্যান্ডকে বাড়ি ফিরতে হয়। সেই একই দলের সাথে আবার মুখোমুখি হল্যান্ড । এবারের মঞ্চ আরো বড়, কিন্তু নিয়ম একই। হারলেই বাদ। ২৩ মিনিটের মাথায় মানিশ পর্তুগালের হয়ে গোল করেন। উল্লেখ্য তিনিই ২০০৪ এ গোল করে পর্তুগালকে জেতান। খেলা শুরুর ২ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড পান ডাচ প্লেয়ার মার্ক ভন বোমেল । ৩৪ মিনিটের মাথায় আহত অবস্থায় মাঠ ছাড়তে হয় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। একে একে ১৬ টি হলুদ কার্ড এবং ৪ টি লালকার্ড দেখিয়ে ইতিহাস গড়েন রাশিয়ান রেফারী ভ্যালেন্টাইন ইভানভ। ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার ইভানভের সমালোচনা করে বলেন, “তার নিজেকেই হলুদ কার্ড দেয়া উচিত ছিল” পরবর্তিতে অবশ্য ব্ল্যাটার এ ব্যাপারে ক্ষমা চান । কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালকে দুই মিডফিল্ডার ডেকো আর কস্তিনহো কে ছাড়াই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামতে হয়। পরবর্তীতে তারা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমি ফাইনালে উঠতে পারলেও আরো দুইজন খেলোয়ার পরপর দুই ম্যাচে হলুদ কার্ড পাওয়ায় সাসপেন্ড হয় । পরবর্তীতে তারা ফ্রান্সের কাছে হেরে বসে ।
হাইলাইটসঃ https://www.youtube.com/watch?v=puFqUmWD62g

 

 

 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker