খেলাট্রেন্ডিং খবরহোমপেজ স্লাইড ছবি

যেখানে ভালোবাসার অন্য নাম মাশরাফি!

খেলোয়াড়ি দক্ষতায় তার চেয়ে ভালো ক্রিকেটার পৃথিবীতে অনেক আছে! কিন্তু
তার চেয়ে ভালো মনের ক্রিকেটার পৃথিবীতে আর একজন ও নেই।
এই মূর্হূতে যদি কাউকে প্রশ্ন করেন
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যাক্তি কে? আমি নিশ্চিত! উত্তরে আসবে তার নাম। কে তিনি?
আমি বলার আগেই সবাই বুঝে গেছে আমি কার কথা বলছি? হ্যাঁ তিনি মাশরাফি বিন মূর্তজা।

তিনি দেশ সেরা বোলার কিনা তা বিতর্কের বিষয়।
ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভও তিনি নন। তিনি শুধু বল করার সময় বল করেন। মাঝে মাঝে দু একটা উইকেট পান। কখনো রান কম দেন, কখনও বা বেশি। ব্যাটেও মাঝে মাঝে দু একটা ছক্কা দেখা যায়।
কি এমন করেন তিনি! দলে তার প্রয়োজনটাই বা কি? তিনি না থাকলে এমনকি ক্ষতি দেশের ক্রিকেটের? মাশরাফি সমোলচকদের এ প্রশ্নগুলো থাকতেই পারে। কিন্তু তবুও তিনি বাংলাদেশের কোটি মানুষের ভালোবাসার অন্য নাম। দেশের মর্যাদা বৃদ্ধির যুদ্ধে তার চিরচেনা ইনজুরিকে সাথে নিয়ে চলেন তিনি। পড়ে যান আবার উঠে দাঁড়ান। টিমের সদস্যদের সাথে করে নিয়ে চলেন তিনি। সবাইকে সাথে নিয়ে দাঁড়ান, বিপদের ঢাল হয়ে দাঁড়ান। টিমমেটের ব্যথায় কাঁদেন তিনি। আর তার ব্যথায় কাঁদেন বাংলাদেশের সব মানুষ।
তাকে ভালোবেসে প্রেমিকরা ডাকে ‘ম্যাশ’, ‘বস’ কেউবা ডাকে ‘গুরু’। এতো ভালোবাসা কোথায় পেলেন তিনি? কি এমন তার জাদু? কেন মাশরাফি বলতে পাগল বাংলাদেশের সব ক্রিকেট ভক্তরা? আর তিনিই বা কেন পাগল তার ভক্তদের?
পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বেশ অনেক ক্রিকেটারকেই পেয়েছে তাদের অধিনায়ক হিসেবে। কিন্তু অধিনায়কের জন্য তার টিমমেট থেকে শুরু করে সারা দেশব্যাপী এমন ভালোবাসা বোধহয় আর কেউ পাননি তা জোর গলায় বলা যায়।
এই আবেগ তৈরিটা এমনি এমনিতেই হয়নি। পথচলা টা সহজ ছিলো না।
প্রতিবন্ধকতার হিমালয় পাড়ি দিয়ে তিনি নিজেই ভালোবাসার এক হিমালয় হয়ে গেছেন বাংলাদেশের মানুষের কাছে। তবু ইনজুরি তার পিছু ছাড়ে নি কখনো।
প্রতি বার মাশরাফি ইনজুরির সাথে লড়াই করে ফিরতেন , আর তার ডাক্তার অস্ট্রেলিয়ান ডেভিড ইয়াং চোখ কপালে তুলে বলতেন, “এ-ও কি সম্ভব!” এ ধরনের একটা ইনজুরিই তো শেষ করে দিতে পারে একজন ফাস্ট বোলারের ক্যারিয়ার! সেখানে তোমার বারবার লড়াই করে ফিরে আসার রহস্য কী?

উত্তরটা দিয়েছিলেন মাশরাফি নিজেই। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “বারবার ইনজুরি থেকে ফিরে আসার প্রেরণাও পাই সেসব বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকেই। এমনও ম্যাচ গেছে আমি হয়তো চোটের কারণে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলাম না। দুই-তিনটা বল করেই বুঝতে পারছিলাম সমস্যা হচ্ছে। তখন তাঁদের স্মরণ করেছি। নিজেকে বলেছি, ‘হাত-পায়ে গুলি লাগার পরও তাঁরা যুদ্ধ করেছিলেন কীভাবে? তোর তো একটা মাত্র লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে! দৌড়া!
এই যে হিমালয় সম ভালোবাসা
ক্রিকেটার হিসেবে তার সফলতা, অধিনায়ক হিসেবে সফলতা এর ভিত তৈরি করেছে। অধিনায়ক হিসেবেও তিনি সফল, ক্রিকেটার হিসেবেও তিনি সফল।
তার সফলতা পরিসংখ্যান দিয়ে মাপলে অবিচার করা হবে।  পরিসংখ্যান দিতে পারবে না স্পষ্ট সত্য!
তবু  ব্যাটিং আর বোলিং হিসেব করলে তিনি একজন পুরোদস্তর অলরাউন্ডার। ওয়ানডের আদিকাল থেকে এ পর্যন্ত ১০০০ রান করা এবং ১০০ উইকেট পাওয়া ক্রিকেটার কেবল মাত্র ৬০ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৩ জন। মাশরাফি ছাড়া ৩ জনের অন্য দুজন হলেন- মোহাম্মাদ রফিক ও সাকিব আল হাসান।
ক্রিকেট দিয়েই বাংলাদেশের নাম বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের তারকা তাই ক্রিকেটাররাই।
আর এ তারকাদের তারকা হলেন মাশরাফি। আসলে তারকা বললে মাশরাফির নামের সাথে অবিচার করা হবে। তিনি ক্রিকেট পাগল এ জাতির এমন এক পর্যায়ে চলে এসেছেন যে তাকে গুরু বা গ্রেট লিডার নামেই বেশি মানায়।
এই গ্রেট লিডার পর্যায়ে পৌঁছেছেন বলেই বাংলাদেশের মানুষ তার জন্য এতো পাগল। মাশরাফির জনপ্রিয়তা এজন্য মাপা যায় না ফেসবুকের লাইকে, তার পারফর্মেন্সে। তিনি পৌঁছে গেছেন মানুষের আবেগের মন্দির হৃদয়ে।

এমন একজন অধিনায়ক , এমন একজন ভালোবাসার মানুষ আর বাংলাদেশ পাবে কিনা?
এই প্রশ্নের উত্তরে জন্য চেয়ে থাকতে হবে ভবিষ্যতে।
তবে তার আগ পর্যন্ত মাশরাফি থাকবেন কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে, টিমমেটদের চিন্তা চেতনায়- তাদের ব্যাটিং ও বোলিংয়ে। মাশরাফি শুধু নাম নয়, একজন কিংবদন্তি। যে স্থানে তিনি পৌঁছেছেন সে স্থানে পৌঁছাতে পারেননি আর কোন দেশের কোন খেলোয়াড় কিংবা অধিনায়ক। বাংলাদেশ নামে অবারিত এই সবুজের দেশে ভালোবাসার সমার্থক শব্দ আজ মাশরাফি। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের সবচেয়ে কাছে মানুষ আজ মাশরাফি বিন মূর্তজার।
আজ এই মহানায়কের জন্মদিন!
শুভ জন্মদিন অধিনায়ক, নেতা!
বেঁচে থাকো আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker