খেলা

আমরা কেন পদকহীন?

নাসরিন জাহান লুনা: ২০১৮ এশিয়ান গেমসের  ১৮তম আসরটি ১৮ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার দুটি প্রধান শহর  জাকার্তা ও দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের রাজধানী পালেম্বংয়ে অনুষ্ঠিত হয় । এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৪৫ এবং প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিলো প্রায় ১১৩০০ জন। এশিয়ান গেমসে ১৪টি ডিসিপ্লিনে অংশগ্রহণ করেছিলো বাংলাদেশ। দলগত খেলায় বাংলাদেশ অংশ নিয়েছে ফুটবল (পুরুষ), হকি (পুরুষ), কাবাডি (পুরুষ ও নারী), বীচ ভলিবল ও বাস্কেটবলে। ব্যক্তিগত ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশ ক্রীড়াবিদরা অংশ নিয়েছেন অ্যাথলেটিক্স, আরচ্যারি, গলফ, শ্যুটিং, সুইমিং, ভারোত্তলন, ব্রীজ, রেসলিং এবং রোইংয়ে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এশিয়ান গেমস ২০১৮ আসরে বাংলাদেশের হকি দল পাকিস্তানের কাছে ৫-০ গোলে হারার পর  পদক পাওয়ার আশা শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। স্বর্ণ, রুপা দূরে থাক এমন কি কোন ব্রোঞ্জ পদকও ভাগ্যে জোটেনি বাংলাদেশের।

১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ প্রথম এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়। এরপর প্রথম পদকটি আসে ১৯৮৬ সালে। সিউলের সেই আসরে মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে প্রথম পদক এসেছিল। বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন মোশাররফ।

এর পরের সাতটি আসরে একটি পদক হলেও পেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এবার কোনো পদক পায়নি বাংলাদেশের কোনো ক্রীড়াবিদ। খেলাধুলায় এমন বিপর্যয় মেনে নেওয়া সত্যিই অনেক বেশি লজ্জার।

জাকার্তা-পালেমবাংয়ের আসরে শনিবার প্রতিযোগিতার সপ্তম দিনে জিবিকে স্টেডিয়ামে ছেলেদের ৪০০ মিটারের কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ৫০ দশমিক ৯৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে ২৮ প্রতিযোগীর মধ্যে ২৭তম হন তালেব। নিজের হিটে ছয় প্রতিযোগীর মধ্যে ষষ্ঠ হন বাংলাদেশের এই অ্যাথলেট।

 

মেয়েদের বিভাগে ৫৭ দশমিক ১৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন সুমী। তিন নম্বর হিটে ছয় প্রতিযোগীর মধ্যে চতুর্থ হওয়া এই অ্যাথলেট সব মিলিয়ে ১৮ প্রতিযোগীর মধ্যে ১৪তম হন।

জিবিকে আর্চারি ফিল্ডে মেয়েদের দলীয় রিকার্ভে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে জাপানের প্রতিযোগীর কাছে ৬-২ পয়েন্টে হারে নাসরিন আক্তার, ইতি খাতুন ও বিউটি রায়ে গড়া বাংলাদেশ দল। ছেলেদের ইভেন্টেও একই ব্যবধানে মঙ্গোলিয়ার কাছে হারে এনামুল হক, ইব্রাহিম শেখ ও রোমান সানায় গড়া দল।

পন্দক ইন্দাহ গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবে তিন রাউন্ড মিলিয়ে সোনিয়া আক্তার ২৪ শট বেশি খেলে ৩৩তম এবং লিজা আক্তার ৩৭ শট বেশি খেলে ৩৫তম স্থানে ছিলেন।

ছেলেদের বিভাগে পারের চেয়ে ২০ শট বেশি খেলে মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন ও মোহাম্মদ শফিক বাখা আরও একজনের সঙ্গে যৌথভাবে ছিলেন ৫৭তম স্থানে। পারের চেয়ে ২১ শট বেশি খেলে মোহাম্মদ ফরহাদ যৌথভাবে ৬০তম এবং পারের চেয়ে ২২ শট বেশি খেলে মোহাম্মদ সম্রাট শিকদার ৬২তম স্থানে ছিলেন।

অপরদিকে, ২০১৬ এর এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত মাবিয়া আক্তার সীমান্ত চলতি এশিয়ান গেমসে  এ ভারোত্তোলক অংশ নিয়েছিলেন। এবারের আসরে খুঁজে পাওয়া যায়নি তার আলোকছটা। ১৭৮ কেজি ওজন তুলে ৬ প্রতিযোগির মধ্যে ষষ্ঠ হয়েছেন তিনি। যা কোন ভাবেই তার কাছ থেকে আশা করেনি বাংলাদেশ।

এভাবেই একে একে প্রতিটি ডিসিপ্লিনে পরাজয় বরণ করেছে বাংলাদেশ, যা এই আধুনিকায়নে কিছুতেই কাম্য হতে পারেনা। এই ১৬ কোটি জনগনের দেশে আমরা কেন পদকহীন থাকবো? এই বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কি একবার ও নজর দিয়েছেন?

 

 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker