খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

মাশরাফি নামা

মঞ্জুর দেওয়ান: তার ২০০ তম ওয়ানডে কিনা সেটা নিয়ে মতবিরোধ আছে। কিন্তু একজন ‘মাশরাফি’ কে নিয়ে কি কোন মতবিরোধ আছে? থাকার সুযোগ হয়তো নেই। মতবিরোধের অবকাশ মাশরাফি কখনো দিয়েছেন কি না সেটাও মতবিরোধ আছে! পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে জীবন শুরু করা মাশরাফি বিন মর্তুজা আজ ‘ব্র্যান্ড’ ! একটি আবেগের নাম মাশরাফি। মেধা আর হার না মানার শক্তি মাশরাফিকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম।

রবার্ট ব্রুস যেমন অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন পাহাড়ের মাকড়সা দেখে; আমাদের দেশের তরুণরা অনুপ্রাণিত হন মাশরাফি কে দেখে। এতো এতো ঘাত প্রতিঘাতের পরও একটা মানুষ কিভাবে নিজেকে এতো সুন্দরভাবে মেলে ধরতে পারেন, সেটি মাশিরাফিকে না দেখলে বুঝার উপায় ছিলোনা। যে পায়ে নিজের শরীরের ভর বয়ে নেয়া কষ্টসাধ্য, সেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বয়েছেন লড়াকু সৈনিকের মতো। সকল বাঁধাকে উপেক্ষা করে ম্যাশ ফিরেছেন। নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে দেশকে আবেগঘন অনেক মুহুর্ত উপহার দিয়েছেন।

সকল চড়াই উতরাই পেরিয়ে সম্প্রতি ২০০ তম ওয়ানডে খেলার গৌরব অর্জন করেছেন মাশরাফি। সাথে জবাব দিয়েছেন অতি সম্প্রতি শুরু হওয়া সকল সমালোচনার। কেন তাকে নিয়ে এতো মাতামাতি তার সহজ ব্যাখা দিয়েছেন মাইলফলক স্পর্শ করা এই ম্যাচে। হোম অফ ক্রিকেটের সবটুকু আলো নিজের করে নিয়েছেন ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক’ ! যেমনটি নিয়েছিলেন ম্যাশের শততম ম্যাচে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ছিলো অভাবনীয় চ্যালেঞ্জ। ১৪ বছর আগের ম্যাচটিতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিলো আধুনিক ক্রিকেটের পরাশক্তি ভারত। ২০০৪ সালে বীরেন্দর শেবাগ-সৌরভ গাঙ্গুলীদের মতো কিংবদন্তীদের নিয়ে ব্যাটিং লাইন আপ ছিলো ভারতীয়দের। তাই নিজেদের মাটিতে হলেও সর্বজয়ী দলটির বিপক্ষে খেলার ভয়ের কারণ ছিলো যথেষ্ট। তবে কালেভদ্রে জয় পাওয়া বাংলাদেশের ভয় না পাওয়া এক সেনার নাম ছিলো মাশরাফি।

ওয়ান ম্যান আর্মির মতো লড়েছিলেন ম্যাশ। ব্যাট হাতে ৩১ রান আর বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে জয় উপহার দিয়েছিলেন ম্যাশ। যা ছিলো ভারতের বিপক্ষে প্রথম জয়। ঐতিহাসিক সে ম্যাচে আপন নৈপূণ্যে নিজের শততম ম্যাচ রাঙ্গিয়েছিলেন। জিতেছিলেন ম্যাচ সেরা পুরস্কার। কাকতালীয়ভাবে যার পুনরাবৃত্তি হলো হোম অফ ক্রিকেটে। এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ নিয়ে ১২ বার ম্যাচ সেরা হলেন ম্যাশ। ১ ডজন ম্যাচ সেরার ট্রফি ঝুলিতে পুরেও অহংকারের লেশ মাত্র নেই। দেশের হয়ে খেলাকে যিনি গৌরব মনে করেন, তার কাছে ব্যক্তিগত অহংকারের কি-ই মূল্য আছে!

তবে গৌরবগাঁথা এই ম্যাচসেরার পুরস্কারের মহাত্ম মাশরাফি লুকালেও ভক্ত কূল ঠিকই জেনে গেছেন। প্রিয় ম্যাশকে হয়তো আর দাপিয়ে বেড়াতে দেখবেন না কোটি ম্যাশ ভক্ত। গুঞ্জন রয়েছে মিরপুরের মাটিতে এটাই ম্যাশের শেষ ম্যাচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শেষে দেশের মাটিতে হয়তো কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেখা যাবেনা নড়াইল এক্সপ্রেসকে। কেননা, ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পর আর মাঠে না ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্যাপ্টেন ম্যাশ। তবে বিদায় রাগিণী যেমনই হোক, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবেন ম্যাশ।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker