খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম আসরের বৃত্তান্ত

মঞ্জুর দেওয়ান: বিশ্বকাপ ফুটবল। কোটি মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। চার বছর বিরতিতে ফিরে আসা মেগা শো নিয়ে উৎসাহের কমতি থাকেনা ক্রীড়ামোদী বিশ্ববাসীর। খেলাধুলা পছন্দ করেন কিন্তু ফুটবল পছন্দ করেন না এমন মানুষ হাতে গোনা কয়েক জন হবে হয়তো। আর বিশ্বকাপ ফুটবল দেখেন না এমন কাউকে পাওয়া যাবেনা সেটা মোটামুটি হলফ করেই বলা যায়! অনুসন্ধান বলছে, ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখেছে ৫৬২ মিলিয়ন দর্শক। কমপক্ষে ২০ মিনিট খেলা দেখেছেন এমন দর্শকের সংখ্যা ৭০০ মিলিয়ন। পাবলিক প্লেসে কিংবা বাসায় শখের বসে দেখেছেন এমন দর্শকের সংখ্যা চোখ কপালে উঠার মতো। ১ বিলিয়ন দর্শকের চোখ ছিল ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে।

জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এ আসরটি শুরুতে এতো জনপ্রিয় ছিলোনা। অথচ বিশেষ এক উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া আয়োজনটি এখন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। আসুন জেনে নিই বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম আসরের বৃত্তান্ত।

১৯৩০ সালে উরুগুয়ের স্বাধীনতার শতবর্ষ উপলক্ষে প্রথম বিশ্বকাপের আসর বসেছিল। ১৯২৯ সালে বার্সেলোনা সেমিনারে উরুগুয়েকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয়া হয়। যোগ্য দল হিসেবেই উরুগুয়েকে এর দায়িত্ব দিয়েছিল ফিফা। কেননা, ১৯২৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ফুটবল শিরোপা জিতেছিল লাতিন আমেরিকার দেশটি। তাই বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে উরুগুয়ের আগ্রহ ছিল তুলনামূলক বেশি।

প্রথম বিশ্বকাপে কোন বাছাইপর্ব ছিলোনা। তাই লাতিন এবং ইউরোপের সকল দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আসরটিতে। তবে ভ্রমণের খরচ আর যাতায়াতের সময় বিবেচনা করে অনেক খ্যাতনামা দলই এতে অংশ নেয়নি। ১৯৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ছিল অংশগ্রহণের নিবন্ধন করার শেষ দিন। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পেরু, প্যারাগুয়ে, চিলি, বলিভিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সময়মত নিবন্ধন করলেও আটলান্টিক মহাসাগরের ওপার প্রান্তের দেশগুলো নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন করতে পারেনি। যদিও প্রতিযোগিতা শুরুর দুইমাস আগে পর্যন্ত ইউরোপের কোন দেশই আনুষ্ঠানিক ভাবে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়নি। ফিফার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে ও উরুগুয়ে সরকার ইউরোপীয় দলগুলির যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের প্রস্তাব দেন। শেষ পর্যন্ত বেলজিয়াম, ফ্রান্স, রোমানিয়া ও যুগোস্লাভিয়া অংশগ্রহণ করতে সম্মতি দেয়। আমেরিকার ৯ টি ও ইউরোপের ৪ টি দল নিয়ে শুরু হয় ১৩ দলের প্রথম বিশ্বকাপ যাত্রা। ১৩ জুলাই থেকে মাঠে গড়ায় আনকোরা বিশ্বকাপ! চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে সবগুলো খেলা অনুষ্ঠিত হয় দেশটির রাজধানী মোন্তেবিদেওতে।

যেহেতু কোন বাছাইপর্ব ছিলোনা সে অর্থে উদ্বোধনী ম্যাচটিই ছিলো বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম ম্যাচ। ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচটিতে মেক্সিকোকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। প্রথম বিশ্বকাপে গোল করার গৌরব অর্জন করেন ফ্রান্সের লুসিয়েন লরেন্ত। গ্রুপ পর্বের যুদ্ধ শেষে সেমিফাইনালে কাকতালীয় স্কোরলাইন দেখেছে উরুগুয়ে বিশ্বকাপ।

প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনার সামর্থ্যের প্রকাশ ঘটে দ্বিতীয়ার্ধে। মার্কিনদের ৬-১ গোলে উড়িয়ে দেয় আলবিসেলেস্তে স্কোয়াড়! দ্বিতীয় সেমিফাইনালের কাকতালীয়ভাবে প্রথমটির সাথে মিলে যায়। যুগোস্লাভিয়া ও স্বাগতিক উরুগুয়ের ম্যাচটিও নিষ্পত্তি হয় ৬-১ গোলে।
ফাইনাল নিয়ে আলাদা উদ্দীপনা ছিল। ১৯২৮ সালের অলিম্পিকের মতো উরুগুয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে। ৩০ জুলাই রাজধানীর এস্তাদিও সেন্তেনারিওতে বসে ফাইনালের মহাযজ্ঞ। ৯৩ হাজার দর্শকের জয়োধ্বনিতে মুখরিত হয় এস্তাদিও সেন্তেনারিও। অপেক্ষারত দর্শকদের অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ করে দেয় ফাইনালে অংশ নেয়া দুই দল। কার বল দিয়ে খেলা হবে এ নিয়ে ঝগড়া বেধে যায়। পরে ফিফার হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত হয়, দুই অর্ধে দুই দলের বল দিয়ে খেলা হবে। প্রথম অর্ধে খেলা হয় আর্জেন্টিনার বল দিয়ে। প্রথম অর্ধে ২-১ গোলে পিছিয়ে থেকে নিজেদের বল দিয়ে দ্বিতীয় অর্ধ শুরু করে উরুগুয়ে। ৪-২ গোলের জয় দিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কীর্তি গড়ে লা সেলেস্তে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker