খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

কুমিল্লার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথ পরিক্রমা

মঞ্জুর দেওয়ান: অবশেষে মাসব্যাপী মহাযজ্ঞের পর্দা নামলো। যে মহাযজ্ঞে নতুন করে ইতিহাস গড়লো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে খোদাই করে লিখলো নিজেদের নাম। যে জয়ে নিজেকে অতিমানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন তামিম ইকবাল। একবারও ফাইনাল খেলতে না পারার আক্ষেপ ঘুচালেন দেশসেরা এই ওপেনার। টুর্নামেন্টের আগে যেমনটি কথা দিয়েছিলেন। কথার হেরফের তো করলেনই না, বরং কথার তুলনায় একটু বেশিই উপহার দিলেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ফাইনালে যাওয়ার পর তামিমের প্রতিজ্ঞা নিয়ে সরগরম ছিলো গণমাধ্যম।
কেননা, ভিক্টোরিয়ান্স কর্তৃপক্ষকে তামিম ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। যার সুন্দর ইতি টেনেছেন রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে। প্রতিজ্ঞা পূরণ করে লোটাস কামালের দলকে স্বপ্নের ফাইনালে নিয়ে যান তামিম। স্বপ্নের ফাইনাল বলা নিয়ে আপনার দ্বিমত থাকার কথা নয়। কেননা, বিগত ছয় আসরের মধ্যে এটাই তামিমের প্রথম ফাইনাল ! দূর্ভাগা তামিমের এর আগে ফাইনাল খেলার সৌভাগ্য হয়নি। মারকুটে এই ব্যাটসম্যানের প্রথম ফাইনাল এটি; ভাবা যায় ! তবে ফাইনালে পৌঁছানোও সহজ ছিলোনা। পারি দিতে হয়েছে বন্ধুর পথ। শুরুটা ভালো হলেও মাঝে বাদ পড়ার সম্ভাবনাও ছিলো ! চলুন জেনে নিই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ষষ্ঠ আসরের শিরোপা জয়ের পথচলার শুরু থেকে শেষ।
সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে জয় দিয়ে আসর শুরু করেছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। চার উইকেটের জয় দিয়ে সিজন শুরু, টনিক হিসেবে কাজ করেনি দ্বিতীয় ম্যাচেই। জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে তো পারেন-ই-নি; উল্টো কম রানের লজ্জা পেয়েছিল কুমিল্লা। মাশরাফির বোলিং তোপে ৬৩ রানে গুটিয়ে যায় ইমরুল কায়েসের দল। চার উইকেট নিয়ে কুমিল্লার নাকের ডগায় ছড়ি ঘুরিয়েছিল ক্যাপ্টেন ম্যাশ। নয় উইকেটের হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল তাঁরা। পরের ম্যাচেই অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় ভিক্টোরিয়ান্স। রাজশাহী কিংসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ট্র্যাকে ফিরে তামিমরা। এবারের আসরে কুমিল্লা যতবারই খেই হারিয়েছে সিলেট তাদের ‘বন্ধু’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্ভবত এ আসরের জুতসই প্রতিপক্ষ ছিলো সিলেট সিক্সার্স। ডেভিড ওয়ার্নারদের বিপক্ষে বরাবর ভালো খেলেছে কুমিল্লা। দ্বিতীয় দেখায়ও তাই নাস্তানুবাদ সিলেট। মেহেদি হাসানের আগুনে বোলিয়ে পুড়ে যায় সিলেট সিক্সাসের কুমিল্লা বধের স্বপ্ন। ওয়ার্নার, নিকোলাস পুরান, আন্দ্রে ফ্লেচার, সাব্বির রহমানদের মতো টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট গুটিয়ে যায় ১৫ ওভার শেষ হবার আগেই! সিক্সার্সদের ইনিংস থামে মাত্র ৬৮ রানে। সহজ টার্গেটে মাত্র ২ উইকেট খরচ করে কুমিল্লা। পরের ম্যাচেও বাজিমাত। পূণ্যভূমি সিলেটে চলতে থাকে কুমিল্লার জয়রথ। এবারের আসরের সবচেয়ে ব্যর্থ দল খুলনা টাইটানস ১৮১ রানের পাহাড় গড়লেও সে পাহাড় টপকে যায় কুমিল্লা। ৩ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় ভিক্টোরিয়ান্স। 
তবে সিলেট ত্যাগ করেই হারের মুখ দেখে তামিমরা। বোলিং নির্ভর রাজশাহীর কাছে হেরে যায়। হার থেকে জয়ে ফিরতে প্রত্যাবর্তনটিও হয় ঘাম ঝড়ানো। ঢাকা ফিরে ঢাকার বিপক্ষে ৭ রানের জয় দিয়ে ‘আসল’ ট্র্যাকে আসে কুমিল্লা। আরেক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ঢাকাকে ১ রানে হারিয়ে প্লে অফের দিকে এগিয়ে যায় কুমিল্লা। কিন্তু রংপুরের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার সম্ভবনা দানা বাঁধতে শুরু করে। আবরো অল্প পুঁজিতে আটকে যায় কোচ সালাহউদ্দিনের দল। ৭২ রানে আটকে যায় কুমিল্লার ইনিংস। তবে প্লে অফ নিশ্চিতের ম্যাচে রংপুরকে ধরাশয়ী করে কুমিল্লা। রংপুরের দেয়া ১৬৫ রানের টার্গেটকে কতো সহজেই না পার করে এভিন লুইস, এনামুল বিজয়রা। ডি ভিলিয়ার্স, হেলস বিহীন রংপুরকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে একবারের চ্যাম্পিয়নরা। আর গতকাল রাতে ঢাকাকে হারিয়ে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন বনে যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। শিরোপা পুনরুদ্ধার করে আনন্দ মিছিলে যোগ দেয় টিম কুমিল্লা।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker