খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

গ্যারেথ বেল কিংবা একজন দূর্ভাগা রাজপুত্র!

মঞ্জুর দেওয়ান: “কঠোর পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে সব জয় করা সম্ভব” ; এই কথাটি সব ক্ষেত্রে ঠিক নয়। দিনশেষে ভাগ্য বলতে একটি ব্যাপার থেকেই যায়। নাহলে কি গ্যারেথ বেলের অমন ‘অভাগা’ জীবন কাটাতে হয়! বিশ্বখ্যাত ফুটবলার হয়েও বিশ্ব মঞ্চে খেলার সুযোগ পাননা! নিজেকে মেলে ধরার অধরা সাধ নিয়েই কাটিয়ে দিতে হয় একটার পর একটা বিশ্বকাপ! কিংবা ইনজুরি বাধায় মাঠের বাইরে থাকতে হয় দিনের পর দিন! একটি বারও দলকে বিশ্ব মঞ্চে তুলতে না পারার দুঃখ বেলকেও হয়তো কম যন্ত্রণা দেয়না। কিন্তু নির্মম সত্যকে মেনে নেয়া ছাড়া কিছু করারও থাকেনা! এখন পর্যন্ত ২১বার মাঠে গড়িয়েছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। এরমধ্যে মাত্র একবার বিশ্বকাপে অংশ নিতে পেরেছে ওয়েলস।
১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপের স্মৃতি হয়তো মুছে গেছে ওয়েলসের ফুটবল ভক্তদের মন থেকে। গুগলের দ্বারস্থ না হলে বুঝে উঠা মুশকিল; বেলের দেশের বিশ্বকাপ সফলতা কি! একবারের বিশ্বকাপ রোমাঞ্চে কি অবস্থান ছিলো ওয়েলসের। ৬০ বছরের বেশি সময় কেটে গেছে, ওয়েলস বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ হতে পারেনা। গ্যারেথ বেলকে নিয়ে বিশ্বকাপের চওড়া স্বপ্ন দেখলেও তার বিন্দুমাত্র পূরণ করতে পারেনি তিনি। গ্রেট ব্রিটেনের ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে জন্ম নেয়া বেল আলোচনায় আসেন ইংলিশ ক্লাব টটেনহামে খেলার সময়। ইংলিশ ক্লাবটিতে থাকাকালীন ফর্মের তুঙ্গে ছিলেন ওয়েলস তারকা। বেলের ফুটবল নৈপুণ্যে এতোটাই মুগ্ধ হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ; রেকর্ড দাম দিয়ে সান্তিয়াগো-বার্না-ব্যু তে উড়িয়ে আনা হয় ইংলিশ ম্যানকে। ২০১৩ সালে টটেনহ্যাম থেকে ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড ট্রান্সফার ফি তে রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখান বেল। দলবদলের পরে ‘হানড্রেড মিলিয়ন ম্যান’ তকমা গায়ে সেটে যায় বেলের। কেননা, প্রায় ১০ কোটি পাউন্ডের এই ট্রান্সফার বেলকে ইতিহাসের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
৬ বছরের চুক্তিতে লস ব্ল্যাঙ্কোদের সার্ভিস দিতে এখনো রয়ে গেছেন সান্তিয়াগো বার্না ব্যু তে। বেলের শক্তি, গতি সামর্থ্য নিয়ে যতবার প্রশ্ন উঠেছে তার চেয়ে বেশিবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। সমালোচকের থেকেও সুনাম কুড়িয়েছেন এই তারকা ফুটবলার। বিশেষ করে গতিময় ফুটবল খেলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ৬ ফিট ১ ইঞ্চি উচ্চতার এই ফুটবলার। গতির কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে বার্সেলোনার বিপক্ষে সেদিনের সে গোল। স্পিন্টার সাদৃশ্য বেলের সে দৌড় চোখে লেগে থাকবে বহুদিন। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের ধাক্কা খেয়ে মাঠের বাইরে থেকে উঠে এসে গোল করেছিলেন বেল।
অপ্রতিরোধ্য বেলের গোল দেখে উসাইন বোল্ট বলেছিলেন, ফুটবলারদের মধ্যে বেলের গতি সবচেয়ে বেশি! দূরপাল্লার শট থেকে গোল করা, ফ্রি কিকে গোল কিপারকে পরাস্থ করা কিংবা প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে ঘোল খাওয়ানোর জন্য বেলকে অনেক বেশি সময় মনে রাখবেন ফুটবলপ্রেমীরা। এতো ঝড়, এতো গতি তুলেও পুরোপুরি সফল ফুটবলার হতে পারছেন না বেল। তবে ক্লাব ক্যারিয়ারে সফলতার ছোঁয়া পেয়েছেন এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। ২০০৬ সালে সাউদাম্পটন দিয়ে সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু করা বেল একবছর পরই ঠিকানা বদল করেন। ২০০৭ সালে যোগ দেন টটেনহ্যামে। ২০১৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদে অভিষেকের আগে টটেনহ্যামের হয়ে ১৪৬ ম্যাচে ৪২ গোল করেন ড্রাগন তারকা।
রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেয়ার পর অনেক ইনজুরি বাধা এসেছে। কিন্তু সেগুলো থেকে ’ওভারকাম’ করে সক্ষমতাও
দেখিয়েছেন। ১৪৪ ম্যাচে ৭৬ গোলই যার সুন্দর সমীকরণ ! ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো চলে যাওয়ার পর রিয়াল মাদ্রিদের হাল ধরেছেন। রিয়ালকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। চার চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার পালক আছে বেলের মুকুটে। একটি লা লিগা টাইটেল, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, তিনটি ইউয়েফা সুপার কাপের শিরোপাসহ অনেক শিরোপা জিতেছেন বেল। প্রিমিয়ার লিগে থাকাকালীন ’প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ হয়েছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে ইংলিশ লিগ কাপ জিতেছিলেন বেল। কিন্তু এতো এতো অর্জনের পরও দেশের জার্সিতে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকেন বেল। ওয়ান ম্যান আর্মি হয়ে দেশের হয়ে বড় কোন অর্জন এনে দিতে ব্যর্থ। দেশের জার্সি গায়ে দিলেই নিস্প্রভ হয়ে যান গতি দানব! ৭৪ ম্যাচে ৩১ গোল করলেও যথেষ্ট হয়নি ওয়েলসের জন্য। ১৯৫৮ সালের পর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দূর্ভাগা বেলের ওয়েলস। তাই টিভিতে বসেই সতীর্থদের উল্লাস দেখেন গ্যারেথ ফ্র্যাঙ্ক বেল!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker