খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

রোনালদো এবং তারা প্রেমিকারা!

মঞ্জুর দেওয়ান: কতো ধরনের স্বভাবই না থাকে মানুষের। কারোও প্রচুর অর্থ উপার্জনের শখ। কারোও দামী জামাকাপড় পরার শখ। কেউ কেউ আবার ঘুরে বেড়াতে চান পৃথিবীর আনাচে কানাচে। তবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ‘শখ’ একটু ভিন্ন। অনেকের কাছে যা নীতিহীনও বটে! কারণ একটা মানুষের নিয়মিত বিরতিতে মেয়ে বন্ধু বদলানো হয়তো অনেকেই মেনে নিবেন না। প্রেম-ভালোবাসা ব্যক্তিগত ব্যাপার হলেও তারকাদের জীবনে ভক্তদের হস্তক্ষেপ এখন হরহামেশাই ঘটে।

পছন্দের তারকা কার সাথে প্রেম করবে সেটি ঠিক করে দেয়ার দায়িত্বও যেন ভক্তের! না হলে রোনালদোর প্রেম লীলা নিয়ে এতো আলোচনা-সমালোচনা হতো না! একজন ’প্রেমিক’ পুরুষকে এভাবে ধুঁয়ে দিতেন না সবাই। বিশেষ করে রোনালদোর ‘অ্যান্টি’ সমর্থকরা যেভাবে পঁচাতে থাকেন; রোনালদো ভক্তদের কাছে তা মেনে নেয়া দায়। ফ্যাশন দুনিয়া চষে বেড়ানো রোনালদোর গাড়ি প্রেমের কথা প্রায় সবাই জানেন। হালের ফেরারি, ল্যাম্বরগিনি থেকে শুরু করে সব ধরনের গাড়িই আছে রোনালদোর সংগ্রহে। নতুনত্বই যেন রোনালদোকে আকর্ষণ করে। যার কারণে খুব বেশি সময় মন টিকে না এক জিনিসে। শুধু জিনিস না, বেশি সময় মন টিকেনা এক নারীর অন্তরে! সমালোচকরা অভিযোগ করে বলেন, জামা-কাপড়ের মতো প্রেমিকা বদলান রোনালদো। এই কথাটি আসলে অনেকাংশেই সত্য। নিচে রোনালদোর ’প্রেমিকাগণ’ এর তালিকা দেখলেই ধারণা পরিস্কার হবে।

মডেল জগতের মানুষকেই হয়তো বেশি পছন্দ সিআরসেভেনের। এখন পর্যন্ত যাদের সাথে মন দেয়া নেয়া চলেছে তাদের বেশির ভাগই গ্ল্যামার দুনিয়ার। বিশ্বের সব সুপার মডেলদের সাথে প্রণয় হয়েছিলো বিশ্বসেরা এই ফুটবলারের। কিম কারদাশিয়ান, প্যারিস হিলটন, ইরিনা শায়াখের মতো সুপার মডেলের সাথে সম্পর্ক ছিলো পাঁচবারেরর বর্ষসেরা এই ফুটবলারের। তারকাখ্যাতি পাবার আগে থেকেই বিশ্বসেরা সব মডেলদের সাথে সম্পর্কে জড়ান রোনালদো। জনশ্রুতি আছে ২০০২ সালে পর্তুগিজ মডেল ক্যারিনা ফিরোর সাথে ভাব ছিলো রোনালদোর।

ফিরো-ই প্রথম নারী যার সাথে রোনালদো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতেন। এমনকি মিডিয়ার সামনেও! একবছর ঘুরতেই পরিচিত হন জর্ডানা জার্ডেলের সাথে। ২০০৩ সালে এই ব্রাজিলিয়ান মডেলের সাথেই ডেট করেছেন সিআরসেভেন। স্প্যানিশ মডেল নেরেইডা গালার্দো এসেছিলেন ২০০৮ এর শুরুর দিকে। বেশ কয়েকটি ছুটি কাটানোর পরই হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে নেরেইডার প্রেম! এক মাসেরও কম সময় স্থায়ী ছিলো স্প্যানিশ সুন্দরীর প্রেম। এরপরই যে যার পথে ফিরে যান! ২০০৭ সালে প্রণয় ছিলো বলিউড সুন্দরী বিপাশা বসুর সাথেও। তবে খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি সম্পর্ক। জল বেশিদূর গড়াবার আগেই থেমে গেছে স্রোত। শেষ পর্যন্ত মন ধরে রাখতে পারলে উপমহাদেশের জামাই-ই হয়তো হয়ে যেতেন রোনালদো! তা হবার আগেই একইবছর ব্রিটিশ সুপার মডেল জেমা আতকিনসনের সাথে সম্পর্কে জড়ান রোনালদো। ভেঙ্গে যায় বিপাশা-রোনালদোকে নিয়ে পাপারাজ্জিদের আগ্রহ! 

২০০৯ সাল ছিলো রোনালদোর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। কেননা এ বছরই স্বপ্নের রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। যোগ দেয়ার পরই জুটে যায় মার্কিন সুন্দরী প্যারিস হিলটন। সাবেক প্রেমিক ডগ রেইনহাডট এর সাথে ব্রেক আপ করে রোনালদোকে বেছে নেন প্যারিস। রোনালদোকে সঠিক চয়েস মনে করলেও অঙ্কুরে বিনাস হয়েছিলো সে প্রেম। কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ব্রেক আপ হয় প্যারিস-রোনালদোর। আর ২০১০ এ চলে আসেন কিম কারদাশিয়ান! এক বছর বিরতিতে দুই সুপার মডেলের সাথে মিলেছেন ’নারী সঙ্গ প্রিয়’ রোনালদো!

জামা-কাপড়ের মতো প্রেমিকা বদলানো তকমাটা দূর হতে বসেছিলো ইরিনা শায়াখ আসার পর। রুশ মডেলের সাথেই সবচেয়ে বেশি সময় ছিলেন রোনালদো। ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ইরিনার সাথে কাটিয়েছেন তিনি। ভক্তরা ইরিনা শায়াখের সাথেই শেষ দেখতে চেয়েছিলেন রোনালদোর। কিন্তু দিনশেষে তা হয়নি। ব্রেকআপ কাণ্ড পেয়ে বসলো পর্তুগিজ তারকাকে! ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় রুশ সুন্দরির সাথেও। ইরিনার সাথে ছাড়াছাড়ির পর খুব বেশিদিন একা থাকতে হয়নি রোনালদোকে। 

লুসিয়া ভিয়ালোন নামক এক স্প্যানিশ টিভি রিপোর্টার জুটে যায়। যার সাথে বেশ কয়েকটি ছবিতেও দেখা যায় পর্তুগিজ অধিনায়ককে। তবে ভিয়ালোনের সাথেও সম্পর্ক চুকে যায়। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সিনেমাটিক কায়দায় প্রেমে পড়েছেন পর্তুগিজ যুবরাজ। স্পেনের ‘গুচি’র দোকানে শপিংয়ের সময় সেলসম্যান জর্জিনা রদ্রিগেজের প্রেমে আটকে পড়েন রোনালদো। ফোন নাম্বার দেয়া নেয়া থেকে প্রণয় হয় দুজনের। তারপর থেকেই গাট বাধা হয়ে যায়। জমজ সন্তানের জন্ম দিয়ে রোনালদোর পরিবারে আনন্দের আলো ছড়িয়েছেন। সম্পর্ক চিরস্থায়ী করার জন্য বেশকিছুদিন আগে জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছেন বিশ্বসেরা এ ফুটবলার। কে জানে, হয়তো এই বিয়ের মাধ্যমেই রোনালদোর মেয়ে বন্ধু তালিকার ইতি ঘটবে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker