খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

ফুটবল যুবরাজের ছেলেবেলা

মঞ্জুর দেওয়ান: কঠোর পরিশ্রম আর আত্মত্যাগের মাধ্যমে সফলতার কতটা উঁচুতে উঠা যায়, তার বিরল দৃষ্টান্ত রেখেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের মাদেইরো দ্বীপপুঞ্জের ফুসাল শহরের সাধারণ এক পরিবারে জন্ম নেয়া রোনালদো আজ বিশ্ব ফুটবলের মহারথী! সারা পৃথিবীর মানুষকে যিনি সম্মোহিত করে রাখেন এক অদ্ভুত মায়ায়। ‘পুরো শরীর’ দিয়ে ফুটবল খেলার আরেক নাম রোনালদো! বিলাসবহুল জীবনের কারণের অনেক ফ্যাশন সচেতন মানুষ তার নিয়মিত খোঁজ নিয়ে থাকেন। সাফল্যের শীর্ষে থাকা রোনালদোর ছেলেবেলা এখনকার মতো বিলাসবহুল ছিলোনা। আর দশটা ছেলের চেয়ে রোনালদোর পথ ছিলো বন্ধুর। গলি থেকে উঠে আসা এক শিশু তিলে তিলে নিজেকে গড়েছেন। খেলেছেন বিশ্বের সেরা সেরা সব ফুটবল ক্লাবে। সম্ভাব্য সব শিরোপাকে বগলদাবা করেছেন এই তারকা ফুটবলার। হারানোর আগেই নিজেকে ফিনিক্স পাখির মতো আবিষ্কার করেছেন। আজকে থাকছে ফুটবলের এ ফিনিক্স পাখির ছেলেবেলার গল্প।

অবিশ্বাস্য শোনালেও এটাই সত্যি, রোনালদোর ছেলেবেলা ছিলো দারিদ্রে ভরা। বাবা হোসে দিনিস ছিলেন পৌরসভার মালি। বাগানের কাজের পাশাপাশি ফুটবল ক্লাব আন্দোরিনহায় নামের একটি ফুটবল ক্লাবের হয়ে টুকটাক কাজ করে দিতেন। মা দোলারেস ছিলেন রাঁধুনি। অন্যের বাসায় রান্না করে যার দিন কাটতো। অভাবের সংসারে হোসে দিনিসের মদ্য নেশা সংসারে আরোও অশান্তি বয়ে আনতো। ফুটবল পাগল ছেলেকে ফুটবল খেলার প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনে দিতে ব্যর্থ ছিলেন রোনালদোর বাবা। তারপরও রোনালদোর স্বপ্নযাত্রা ব্যহত হয়নি।

শুধু ভালোলাগা থেকে ফুটবল খেলা শুরু করেছিলেন রোনালদো। খেলার ছলে ফুটবলের প্রতি এতোটাই সখ্যতা গড়ে উঠেছিলো যে, আজ তিনি ফুটবল বিশ্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফুটবল নিয়ে আলোচনা করলেই চলে আসে পর্তুগিজ মহাতারকার নাম। জনশ্রুতি আছে, রোনালদোর বাবা তৎকালীন  মার্কিন অভিনেতা ও প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের ভক্ত ছিলেন। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামের সাথে মিল রেখে রোনালদো নাম রেখেছেন। সিআরসেভেন এর খালার দেয়া ক্রিস্টিয়ানো আর বাবার দেয়া রোনালদো মিলে আজ তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

যে বিখ্যাত লোকের নামের সাথে মিল রেখে তার বাবা রোনালদো নাম রেখেছেন, তার চেয়ে নিজেকে কয়েকগুণ ছাড়িয়ে গেছেন তা’তে কারোও সন্দেহ থাকার কথা নয়। নিজেকে ফুটবলের এক নক্ষত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দস সান্তোস অ্যাভেইরো। তর্ক সাপেক্ষে রোনালদোকেই ইতিহাসের সেরা ফুটবলার দাবী করেন অনেকে। ভালো খেলতে না পারলে অথবা গোল না পেলে রাগে ক্ষোভে ফেটে পরতেন রোনালদো। মাঠে তাকে নিয়ে কেউ মজা করলে কান্না করে দিতেন তিনি। তার দেয়া পাসে গোল না হলে কান্না করতেন। যার কারণে সবাই রোনালদোকে ক্রাই বেবি  ডাকতেন।

বাড়িতে গিয়েও রোনালদো ছিলেন আলাদা। খাবার দাবারের প্রতি রোনালদোর এতো চাওয়া ছিলোনা। কোনো কারণে দুঃখ নামক বস্তুটি গ্রাস করলে, হাতের হাছে ফুটবল পেলে সব কষ্ট ভুলে যেতেন। রোনালদো এতোটাই ফুটবলের মোহে পড়েছিলেন যে, ঘুমানোর সময় ফুটবলকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতেন। ১১ বছর বয়স পর্যন্ত ফুটবল নিয়ে রোনালদোর বিশেষ কোন উদ্দেশ্য ছিলোনা। চাচাতো-মামাতো ভাইদের দেখাদেখিতে ফুটবল খেলতেন তিনি। একসময় মাদেইরোর একটি জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব ন্যাসিওনালে নাম লেখান রোনালদো। 

১০ বছরের এক শিশুর ‘অশিশুসুলভ’ খেলা নজর কাড়ে অনেকের। ফলশ্রুতিতে পর্তুগালের অন্যতম সেরা ক্লাব স্পোর্টিং লিসবনে খেলার সুযোগ পান তিনি। মূলত সেখান থেকেই স্বপ্ন পূরণের দিকে ধাবিত হন রোনালদো৷ লিসবনের কারিকুরি মন কাড়ে কিংবদন্তি ফুটবল কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের। জুহরি চোখে সেদিন রোনালদোকে দেখেছিলেন ফার্গি। কাল বিলম্ব না করে পর্তুগাল থেকে ইংল্যান্ডে উড়িয়ে আনেন রোনালদোকে। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ফুটবল বিধাতা দু’হাত ভরে দিয়েছেন পর্তুগিজ যুবরাজকে। 

ইংল্যান্ড জয় করে উড়ে আসেন শতাব্দীর সেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে। হয়ে উঠেন ক্লাব ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। সম্ভাব্য সব রেকর্ড গড়ে ইতি টানেন রিয়াল ক্যারিয়ারের। রোমান সাম্রাজ্যের অধিপতি হতে যুদ্ধে নেমেছেন পর্তুগিজ তারকা। এ যেন এক যোদ্ধার সাম্রাজ্য বিজয়ের নেশা! ইংল্যান্ড, স্পেনের পর ইতালি বিজয়ের পালা! বয়স ৩০ পার হয়েছে অনেকদিন হলো; এখন সময়ের সাথে নিজেকে কতটা মানিয়ে নিতে পারেন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker