খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

শখ থেকে পেশা তারপর মহা তারকা

এনামুল সাদিক: গলফের কালো মানিক, গলফের রাজা কিংবা সর্বকালের সেরা গলফার হিসেবে বিশ্ব সুনাম অর্জন করেছেন টাইগার উডস। এডরিক টন্ট উডস তার আসল নাম। গলফ খেলায় টাইগার উডস নামে পরিচিত পায়। একটা সময় শখ করেই গলফ খেলতেন তারপর ধীরে ধীরে মূল পেশা হিসেবে করায়ত্ব করেন।

টাইগার উডসের জন্ম ১৯৭৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায়। বাবা আর্ল উডস ভিয়েতনাম যুদ্ধের সৈনিক। আর মা কুটিডা উডস থাইল্যান্ড থেকে আসা একজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী। এই পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে বড় হয়ে উঠেছিলেন টাইগার। তবে দুই পক্ষেরই একাধিক সৎ ভাই-বোন ছিলো তার। বাবা আর্ল উডস একজন অপেশাদার গলফার ছিলেন। বাবার হাত ধরেই মাত্র দুই বছর বয়সে হাতে প্রথম গলফ স্টিক তুলে নেন টাইগার। মাত্র ৫ বছর বয়সে টাইগার তার গলফ প্রতিভা দিয়ে হৈ চৈ ফেলে দেন। তাকে নিয়ে গলফ ডাইজেস্ট ও এবিসি বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে। বিভিন্ন অপেশাদার টুর্নামেন্টে তিনি ওই বয়সেই চমক দেখাতে শুরু করেন। শিক্ষা জীবন ১৯৯৪ সালে আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি টাইগারকে গলফে বৃত্তি দিয়ে ভর্তি করে নেয় এবং সেখান থেকেই ইউনিভার্সিটিকে বহু সাফল্য উপহার দিয়ে ১৯৯৭ সালে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ করেন।

 ১২ বছর বয়সে পূর্ণাঙ্গ আকারের গলফ কোর্সে খেলা শুরু করেন তিনি। কৈশোরে একটি গলফ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তার সাথে সাক্ষাত হয় আরেক কিংবদন্তী গলফার জ্যাক নিকলাসের। আর এখানে নিকলাসের কাছ থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ পান উডস, যেটা তার ক্যারিয়ারে অনেক প্রভাব ফেলে বলে পরে টাইগারের বাবা বলেছেন। ১৫ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন হন। তখন কলেজগুলোর মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা হচ্ছিলো, কারা টাইগারকে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে পারেন। উডস স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেন। আর এই প্রতিষ্ঠানকে জেতান অনেকগুলো শিরোপা। ২০ বছর বয়সে, ১৯৯৬ সালে টাইগার উডস পেশাদার গলফার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। সাথে সাথে নাইকি ইনকর্পোরেশন ও টাইটেলিস্ট তাদের সেই সময় অবধি সবচেয়ে দামী চুক্তি করে ফেলে উডসের সাথে। বিশ্ববাজার যেন উডসের আসার অপেক্ষায় ছিলো। উডস এলেন, জিততে শুরু করলেন এবং দেখতে না দেখতে দুনিয়ার সবচেয়ে দামী অ্যাথলেটে পরিণত হলেন।

১৯৯৬ সালে স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড তাদের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ ঘোষণা করলো উডসকে। ১৯৯৭ সালে উডস নিজের প্রথম মেজর জিতলেন- দ্য মাস্টার্স। এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে শিরোপা জিতলেন তিনি। দুই মাসের মধ্যে গলফ দুনিয়ায় ঝড় তুলে বিশ্বের দ্রুততম সময়ে এক নম্বর র‌্যাংকিংয়ে পৌঁছে গেলেন। উডস তখন যা স্পর্শ করছেন, তাতেই সোনা ফলছে। ২০০০ সালে উডস টানা ছয়টি বড় টুর্নামেন্ট জিতলেন, যা ১৯৪৮ সালের পর গলফ দুনিয়ায় প্রথম দেখা গেলো। এরপর একটার পর একটা রেকর্ড করতে থাকলেন তিনি। একটার পর একটা করে ১৪টা মেজর জিতে ফেললেন। এই তালিকায় এখনও উডস অবশ্য দুই নম্বরে আছেন। এক নম্বর স্থানটা এখনও দখলে রেখেছেন ১৮ মেজর জিতে জ্যাক নিকলাস। উডস দ্য মাস্টার্স ও ইউএস পিজিএ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন চারবার করে। এই বছরের শিরোপা জয়ের সাথে সাথে উডসের পিজিএ শিরোপা সংখ্যা দাঁড়ালো ৮০টিতে। এটা সর্বকালের দ্বিতীয় সেরা। স্যাম স্নিড ৮২টি পিজিএ শিরোপা জিতে সবার ওপরে আছেন। তবে মনে রাখতে হবে, উডস আজ থেকে ৫ বছর আগেই ৭৯টি জিতে ফেলেছিলেন।

১৯৮৬ সালে অফিশিয়াল গলফ র‌্যাংকিং শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি সময়, ৬৮৩ সপ্তাহ ধরে এটার শীর্ষে ছিলেন টাইগার উডস। তার কাছাকাছি প্রতিদ্বন্দ্বী এক্ষেত্রে গ্রেগ নরম্যান; তিনি ৩৩১ সপ্তাহ শীর্ষে থাকতে পেরেছিলেন। আট বছর টাইগার উডস বছরের পুরো ৫২ সপ্তাহই র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে ছিলেন। ২০০৫ সালের জুন থেকে ২০১০ সালের অক্টোবর অবধি টানা ২৮১ সপ্তাহ র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে ছিলেন টাইগার। ক্যারিয়ারে স্রেফ পিজিএ ট্যুর থেকেই ১১ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি পুরষ্কার জিতেছেন। ফোর্বসের সেরা ধনী অ্যাথলেটের তালিকায় শীর্ষ স্থানগুলোর মধ্যেই ছিলেন লম্বা সময় ধরে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker