খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

আইপিএল এর ভিতর বাহির

মাহমুদুর রহমান: নতুন ধারার ক্রিকেটের এক যুগ একটা সময় ছিল, যখন আমরা দেখতাম বিশ্বকাপ ছাড়া অন্যান্য সময় কোন দেশের জাতীয় দলের বিরুদ্ধে অন্য দেশের ফুটবল ম্যাচ তেমন একটা হতো না। বরং খেলা হতো নানা দেশের খেলোয়াড়ের মিশ্রণে তৈরি ক্লাবের সঙ্গে অন্য ক্লাবের। কিন্তু ক্রিকেটে এমন কিছু ছিল না। ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেটে কিছু ক্লাব ভিত্তিক খেলার চল থাকলেও তা সেখানেও তেমন জনপ্রিয় ছিল না। সময়টা ২০০৭। ভারতে জি বিনোদন গ্রুপের অর্থায়নে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগ (আইসিএল) শুরু হয়। ক্লাব ফুটবলের আদলে সাজানো এই আসরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কিংবা আইসিসি, কারোই অনুমোদন ছিল না।

পরবর্তীতে ওই বছরেই আইসিএল এবং সেখানে অংশগ্রহণকারী সকল খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু শুরু হওয়া আর নিষিদ্ধ হওয়ার মাঝের সময়টুকুতেই ক্রিকেটের এই নতুন ধারা, অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর ভালো লেগে যায়। মূলত এর পূর্বে ক্রিকেট ছিল পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচ কিংবা পঞ্চাশ ওভারের একদিনের ম্যাচ। এতো দীর্ঘ সময়ের খেলা ক্লাব ফর্মে করা সহজ ছিল না। বিশ ওভারের ম্যাচ অর্থাৎ টি-২০ শুরু হওয়ার পর সেটি সহজ হয়ে যায়। আইসিএল নিষিদ্ধ করার পর ভারতীয় ব্যবসায়ী ও ক্রিকেট নির্বাহি পরিচালক ললিত মোদী এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের যুগ্ম সিদ্ধান্তে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) শুরু করা হয়।

প্রাথমিক ভাবে ভারতের আটটি শহরের নামে আটটি দল গঠন করা হয় এবং দলগুলো ফ্রাঞ্চাইজ ভিত্তিতে মালিকানা দেওয়া হয়। প্রথম আসর থেকেই তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে আইপিএল। ক্রিকেটে নতুন ধারণা সংযোজনের পাশাপাশি এই আসরে মানুষের আগ্রহের আরেকটি কারণ ছিল দলগুলোর ফ্রাঞ্চাইজ হয়েছিলেন বলিউডের নায়ক নায়িকা কিংবা বিখ্যাত ব্যবসায়ী তথা তারকা ঘরানার মানুষেরা। যেমন শুরুর আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিক ছিলেন শাহরুখ খান-জুহি চাওলা, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবে প্রীতি জিন্তা, রাজস্থান রয়্যালসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর শিল্পা শেঠি। নায়ক নায়িকা কিংবা আম্বানি পরিবারের মতো ব্যবসায়ী পরিবারের অন্তর্ভুক্তির কারণে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ কথা যেমন সত্য, তেমনি ভিন্ন দেশের খেলোয়াড় একই দলে খেলার বিষয়টিও ক্রিকেট দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিল।

অর্থাৎ ২০০৮ সালের শুরুর আসর থেকেই আইপিএল মাতিয়েছে দর্শকদের। টি-২০ ক্রিকেটে আইপিএল একটি চমৎকার সংযোজন কিন্তু এ নিয়ে বিতর্কেরও শেষ নেই। তারকা-ব্যবসায়ীর সরাসরি সংযোগ, ৪/৬ রানে চিয়ারলিডার তথা নর্তকীর নাচ প্রথমেই বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে ম্যাচ/স্পট ফিক্সিং প্রভৃতি অভিযোগ ওঠে। নতুন কয়েকটি দলের অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত দুর্নীতি কিছুটা প্রমাণিত হয়। সে সমস্যা নিয়ে শেষ পর্যন্ত ললিতকুমার মোদী আইপিএল থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। এতোকিছুর পরও টিকে আছে আইপিএল। কেবল টিকেই নেই, দাপটের সঙ্গে ক্রিকেট দুনিয়ায় রাজত্ব করে চলেছে। আইপিএলের হাত ধরে ক্রিকেটে সংযোজিত হয়েছে নতুন কিছু ধারণা, নিয়ম। এমনকি ক্রিকেটকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে পাচ্ছি আমরা। এই লীগকে দারুণ ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে মানুষের আরও কাছে নিয়ে যাওয়াও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং আইপিএল কমিটি সফল।

কেবল তা-ই নয় নানা দলের খেলোয়াড় একসঙ্গে খেলার ফলে পারস্পরিক সমঝোতার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারত থেকে বেরিয়ে এসেছে নতুন কিছু সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়। আইপিএল-কে অনেকে নিছক ব্যবসার মাধ্যম বলে মনে করেন অনেকে। কিন্তু ভালো মন্দ মিলে আইপিএল হয়ে উঠেছে বিনোদনের দারুণ একটি মাধ্যম। প্রতি বছর এপ্রিল-মে মাসে এই আসর অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৯ এর আসর বর্তমানে চলমান। এবারের আইপিএলে অংশ নিচ্ছে আটটি দল।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker