খেলা

৪-৩ গোলে জিতেও ম্যানচেস্টার সিটির বিদায়

মঞ্জুর দেওয়ান: খেলা শুরুর আগে থেকেই শঙ্কা ছিলো ম্যানচেস্টার সিটির জয় নিয়ে! কোয়ার্টার ফাইনালের গেরো খুলতে পারবে তো সিটি! নাকি গতবারের মতো এবারও খালি হাতে ফিরতে হবে! সে আশঙ্কাই বাস্তবে নিলো বুধবার রাতের ম্যাচটিতে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হোঁচট ম্যান-সিটির। পেন্ডুলামের মতো ঝুলতে থাকা ম্যাচে টটেনহ্যামের কাছে ৪-৩ গোলে জিতেও টটেনহ্যাম হটস্পারের কাছে ধরাশায়ী হলো পেপ গার্দিওলার দল! আর তাতে গতবারের মতো এবারও কোয়ার্টার ফাইনালে কপাল পুড়লো সিটিজেনদের। বাড়লো না পাওয়ার আক্ষেপ। আর ইউরোপ সেরার মুকুট থেকে এক বছরের দূরত্ব বাড়লো আগুয়েরো-স্টার্লিংদের। চ্যাম্পিয়নস লিগে এমন উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ খুব কম সময়ই দেখার সুযোগ পান ফুটবলপ্রেমীরা। পরতে পরতে রঙ বদলেছে ম্যানসিটি-টটেনহ্যাম ম্যাচের। সত্যিকার অর্থেই ম্যাচটি ঝুলেছে পেন্ডুলামের মতো। পুরো ম্যাচে সাতবার বল জালে জড়িয়েছে দু দলের খেলোয়াড়েরা।

জয়ের দাড়িপাল্লা একবার সিটির দিকে ঝুকেছে তো, পরমুহূর্তেই ঝুকেছে টটেনহ্যামের দিকে! শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে সিটি ৪-৩ গোলে জিতলেও বাদ পড়তে হয়েছে ইউরোপ সেরার মঞ্চ থেকে। প্রতিপক্ষের চেয়ে এক গোল বেশি দিয়েও অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে টটেনহ্যাম। প্রথম লেগে কোনো গোল করতে না পারাকে দায়ী করতে পারে সিটি। প্রতিপক্ষের মাঠে গোলের খাতা খুলতে ব্যর্থ হয়েছিলো গার্দিওলার শিষ্যরা। অন্যদিকে ঘরের মাঠে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলো স্পার্সরা। তাই সিটির মাঠে ৪-৩ গোলে হারলেও সিটিজেনদের মাঠে তিনটি অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় টটেনহ্যাম হটস্পার। উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে দুই দল। চার মিনিটের মধ্যেই স্কোরলাইন খুলে সিটি। রাহিম স্টার্লিংয়ের গোলে উল্লাসে ভাসে ম্যানসিটি। তবে খুব বেশি সময় হাসি ধরে রাখতে পারেনি সিটি।

সাত মিনিটে কোরিয়ান ফরোয়ার্ড সন-হিউ-মিনের গোলে সমতা আনে টটেনহ্যাম। সুযোগ সন্ধানী সিটি কিছু বুঝে উঠবার আগেই আবারো সিটির রক্ষণ ভেদ করে স্পার্স। ১০ মিনিটে সনের গোলে লিড পায় টটেনহ্যাম। সনের গোলে স্কোরলাইন ২-১ হলেও এক মিনিট পরই বার্নাডো সিলভার গোলে আবার সমতা আনে সিটি। ১১ মিনিটে সিলভার গোলে অক্সিজেন ফিরে পেলে ২১ মিনিটে আবার আঘাত হানেন রাহিম স্টার্লিং। জয়ের পাল্লা নিজেদের রেখে সাজঘরে ফিরে ম্যানচেস্টার সিটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সিটির ত্রাতা হয়ে আসেন সার্জিও আগুয়েরো। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের নৈপুণ্যে দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম হাসি হাসে সিটিজেনরা। ৫৯ মিনিটে ৪-২ গোলে সিটিকে অনেকটা জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান আগুয়েরো। তবে বুনো উল্লাসে মাতার সুযোগ ছিলোনা সিটির। এক গোল খেলেই বাদ পড়ার আশঙ্কা ছিলো আগুয়েরো-স্টার্লিংদের। গোল না খাওয়ার মানসিকতা-ই যেনো কাল হয়ে দাঁড়ায় সিটির সামনে! ৭৩ মিনিটে তাই ভিএআর প্রযুক্তির ‘ফাঁদে’ পড়ে সিটি। ইংলিশ রাইটব্যাক কাইরন ট্রিপিয়ারের নেয়া কর্নার কিক আলতো করে ছুঁয়ে যায় ফার্নান্দো ইয়োরেন্তের কোমর। আর তাতেই বল জড়িয়ে যায় জালে! স্বাভাবিক দৃষ্টিতে হ্যান্ড বল মনে হলেও ভিএআর প্রযুক্তিতে নিশ্চিত হয়; বল হাতে নয়, কোমড়েই লেগেছে। আর তাতেই কপাল পুড়ে সিটির। সেট পিস থেকে লিড নেয়া টটেনহ্যাম জয়ের ‘শর্ত’ পূরণ করলেও পিছিয়ে যায় সিটি। ৪-৩ স্কোরলাইনে গার্দিওলা শিষ্যরা আরোও গতিময় ফুটবল খেলতে শুরু করে।

কোমড় বেধে নামা সিটিকে ইনজুরি টাইমে স্বপ্ন দেখান আগুয়েরো-স্টার্লিং। যোগ করা সময়ে সিটিকে ‘মিছে’ আনন্দ উপহার দেন রাহিম স্টার্লিং। আগুয়েরোর পাস থেকে বল জালে জড়ান এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। যা দেখে উল্লাসে ফেটে পড়েন গার্দিওলা। তবে সে হাসি টটেনহ্যাম খেলোয়াড়দের ‘আবেদন’র সামনে মিলিয়ে যায়! টটেনহ্যামের খেলোয়াড়দের দাবিতে অফসাইড চেক করেন রেফারি। ঘুরে ফিরে আবার সেই ভিএআর! যার সাহায্যে অফসাইড নিশ্চিত হয় আগুয়েরোর! গোল বাতিলের সুবাদে স্কোরলাইন থেমে থাকে ওই ৪-৩ এ। গার্দিওলার উল্লাস তখন ‘ট্রান্সফার’ হয় মারিসিও পচেত্তিনোর ডেরায়!টটেনহ্যাম কোচের সাথে সাথে বুনো উল্লাসে যোগ দেয় টটেনহ্যাম সমর্থকরা। আর সিটির ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ৪-৩ গোলে হেরেও জয়ের আনন্দে মাতে স্পার্সরা!

অন্যদিকে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে লিভারপুল। পোর্তোকে ৪-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা। তুলনামূলক দূর্বল পোর্তোর মাঠে অনেকটা গোল উৎসব করেছে লিভারপুল। আর সমর্থকরা দেখেছে সালাহ-মানেদের বীরত্ব। গতবছর রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগ না জেতার আক্ষেপ ঘুচতে পারে এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সালাহ-মানে-ফিরমিনো ত্রয়ী এনে দিতে পারে অল রেডদের আরাধ্য চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker