খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

কেমন আছেন আশরাফুল?

এনামুল সাদিক: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বড় বড় জয় যে মানুষটির হাত ধরে এসেছিল সেই মানুষটি হলো কোটি মানুষের আবেগ মোহাম্মদ আশরাফুল। প্রখ্যাত বাংলা ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফত তাকে ‘আশার ফুল’ বলে ডাকতেন। তার কারণটাও স্পষ্ট, আজ থেকে ১৪-১৫ বছর পূর্বে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এত সুদিন ছিল না। যখন বাইশ গজ ক্রিজে বাংলাদেশ দলের একের পর এক উইকেট পতন হতো তখন আশার ফুল হয়ে পুরো বাংলাদেশকে ধরে রাখতো বাইশ গজের ক্রিজে। চার ছক্কার বাহারি শটে মাতিয়ে রাখতো পুরো স্টেডিয়াম। বাংলাদেশের প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় মাইক বাজিয়ে শোনা হতো তার খেলার ধারা বিবরণী। সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে তার নামটা এখনো ঝলমলে ইতিহাসের পাতায়।
ছিলেন বাংলাদেশ দলের মোটামুটি সফল অধিনায়ক। অনেক বিখ্যাত সাবেক ক্রিকেটারা আশরাফুলকে লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকারের সাথে তুলনা করতেন। কিন্তু একটি কঠিন ভুলে ধপ করে নিবে যায় বাংলাদেশের সেই আশার প্রদীপটি।
  যখন পরিপূর্ণ ফুল হয়ে সুবাস ছড়াচ্ছিল সমগ্র ক্রিকেট মাঠে তখনি ঝরে পরতে লাগল সেই ফুলের পাঁপড়িগুলো। হাতাশা আর মনোকষ্টে ভেঙে পড়লো আশরাফ ভক্তরা। তবু পথ চেয়ে আছে আশরাফুল একদিন লাল সবুজ জার্সিতে আবারো ফিরবে। গত আগস্টে সব নিষেধাজ্ঞা ওঠে যাওয়ার পর মোহাম্মদ আশরাফুল স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলে ফিরবেন। এত দ্রুত বাংলাদেশ দলে ফেরা আদৌ সম্ভব? তাঁর যুক্তি ছিল নভেম্বরে বিসিএলে ভালো খেলার পর যদি জানুয়ারিতে বিপিএলেও ভালো খেলেন। অসম্ভব কিছু নয়। আশরাফুল আসলে নিজেকে ফের চেনাতে বিপিএলকেই বেছে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই টুর্নামেন্ট তাঁর কাটল হতাশায়। বিপিএল টিভিতে সম্প্রচার হয়, মানুষের চোখ থাকে এই টুর্নামেন্টে। তাঁর ধারণা ছিল বিপিএলে ভালো খেললে দলে ফেরাটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু আশরাফুলের হলো তিক্ত অভিজ্ঞতা।
৫ জানুয়ারি রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৩ রান করার পর পরের ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে করলেন ২২। এর পর আর সুযোগ পেলেন না। তাঁর জায়গায় খেললেন ইয়াসির আলী। চট্টগ্রামের এ তরুণ ব্যাটসম্যান এত ভালো খেললেন যে আশরাফুলকে আর ফেরানোর প্রয়োজন মনে করেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। চিটাগং টিম ম্যানেজমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। ফ্র্যাঞ্চাইজি দলেই মিনহাজুলের বিবেচনায় আসেননি আশরাফুল, জাতীয় দলে কীভাবে ফিরবেন? গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন আশরাফুল। কিন্তু জাতীয় দলে ফেরার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। কারণ তখন জাতীয় দল থেকে নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি। তবে সামনের বিপিএলে ভালো কিছু করে আবার আলোচনায় ফিরতে চান এ ক্রিকেটার, ‘নিষেধাজ্ঞা না থাকলে প্রিমিয়ার লীগে পাঁচটি সেঞ্চুরি নিয়ে হয়তোবা অনেক আলোচনা হতো। এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে গতবারের মত এত উজ্জ্বল ইনিংস খেলতে পারেনি। কেবল অভিজ্ঞতার জোরেই আশরাফুলকে এখনো অনেকে ক্রিকেট আইকন হিসেবে বিবেচনা করে। খুব শিগগিরই বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি ক্রিকেটারে সুদিন ফিরে আসুক, সেটা কোটি আশরাফুল ভক্তদের চাওয়া।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker