খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

ক্রিকেটের যত সেরা ধারাভাষ্যকার

এনামুল সাদিক: একটা সময় যারা ক্রিকেট মাঠে চার ছক্কার বাহারি শটে কিংবা দুর্দান্ত বোলিং স্পেলে আনন্দের হৈ-হুল্লোড়ে মাতিয়ে রাখতো পুরো গ্যালারি। তাদের অনেকে আজ ধারাভাষ্যকার হিসেবে পেয়েছে আরো জনপ্রিয়তা। কন্ঠ এখন তাদের প্রধান পেশা। বর্তমান ক্রিকেটকে ধারাভাষ্যকার ছাড়া কল্পনা করা যায়না। খেলা চলাকালীন সময়ে প্রচার মাধ্যমে খেলার সার্বিক অবস্থা দর্শকদের জন্য বোধগম্য ও আকর্ষণীয়ভাবে পর্যালোচনাকে ধারাভাষ্য বলা হয়ে থাকে। ১৯২২ সালে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নিউ সাউথ ওয়েলসের দুইটি দলের ম্যাচে লেন ওয়াটের হাত ধরে ধারাবিবরণী শব্দটি ক্রিকেটের সাথে যুক্ত হয়েছে। তবে ১৯২৫ সালের পরের ক্রিকেট ম্যাচগুলোতো বর্তমান সময়ের মতো প্রত্যেকটি বলের ধারাবিবরণী দেয়া শুরু করেন ধারাভাষ্যকাররা। সাবলীল বাচনভঙ্গি ও বোধগম্য ক্রিকেট ধারাবিবরণী দিয়ে যারা বর্তমান সময়ের অন্যতম তারকা এবং সেরা ধারাভাষ্যকার, তাদের মধ্য থেকে সেরা কয়েকজন ক্রিকেট ধারাভাষ্যকারের পরিচয় তুলে ধরা হলো এই লেখায়।

মার্ক টেইলর: বর্তমানে নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার বলা হয় মার্ক টেইলরকে। বর্তমানে তিনি নাইন নেটওয়ার্কে ক্রিকেট ধারাভাষ্যকাররূপে কাজ করছেন। সাইমন ও’ডনেলের সাথে দ্য ক্রিকেট শো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণসহ ফুজিৎসু এয়ার-কন্ডিশনারের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব নিয়োজিত রয়েছেন মার্ক টেলর।

২৭ অক্টোবর, ১৯৬৪ সালে নিউ সাউথ ওয়লসের লিটনে জন্মগ্রহণ করেন সাবেক এই বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা। টাবি বা টাবস ডাকনামে পরিচিত মার্ক টেলর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অধিনায়কেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া দলের একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার ও উত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বৈশ্বিক পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর অধিনায়কত্ব ছিল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও অত্যন্ত কার্যকরী। কিন্তু তুলনামূলকভাবে একদিনের আন্তর্জাতিকে তিনি তেমন সফলতা লাভ করতে পারেননি। তবে ধারাভাষ্যকার হিসেবে ক্রিকেট ভক্তদের মনে গেঁথে গেছেন তাড়াতাড়ি।

মাইকেল হোন্ডিং:  ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ও বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা মাইকেল হোল্ডিং । তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা দ্রুতগতির বোলারদের একজনরূপে গণ্য করা হয়। বোলিং ক্রিজে শান্ত ভঙ্গীমায় অগ্রসর হওয়ার প্রেক্ষিতে আম্পায়ারগণ তাঁকে হুইস্পায়ারিং ডেথ ডাকনামে ভূষিত করেন।

তাঁর বোলিং ভঙ্গীমা অত্যন্ত মসৃণ ও দ্রুত এবং তিনি তাঁর (৬ ফুট ১ ⁄ ২ ইঞ্চি দীর্ঘ উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে পীচে বৃহৎ আকারের বাউন্স প্রদানে সক্ষম ছিলেন। ১৯৭৭ সালে উইজডেন কর্তৃপক্ষ তাঁকে বর্ষসেরা ক্রিকেটাররূপে ঘোষণা করে। ৯ মে, ২০১৩ তারিখ বৃহস্পতিবার মাইকেল হোল্ডিং সম্মানসূচক ডিগ্রী লাভ করেন ও পূর্ব লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তাঁকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। জুন, ১৯৮৮ সালে জামাইকান স্ট্যাম্পেও তাঁকে তুলে ধরা হয়। ধারাভাষ্যকার হিসেবেও জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। হোল্ডিং তার যুক্তিনির্ভর ধারাবিবরণীর জন্যেই অন্য ধারাভাষ্যকারদের তুলনায় অনন্য। স্কাই স্পোর্টসের সাথে প্রায় ১৫ বছর ধরে হোল্ডিংয়ের ধারাবিবরণীর চুক্তি রয়েছে৷ ক্রিকেট ধারাভাষ্যে হোল্ডিংয়ের কণ্ঠকে অন্যতম সেরা কণ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

হার্শা ভোগলে: খেলোয়াড় থেকে ধারাভাষ্যকার নয়,সরাসরি ধারাভাষ্যকার হিসেবেই পরিচিত পেয়েছেন হার্শা ভোগলে। হার্শা যখন হায়দ্রাবাদ বাস করতেন তখন অল ইন্ডিয়া রেডিওতে মাত্র ১৯ বছর বয়সে একজন ভাষ্যকার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯১-৯২ সালে প্রথম ভারতীয় ভাষ্যকার হিসেবে তিনি ১৯৯২ ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে ভারতের ক্রিকেট সিরিজের সময় অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন দ্বারা আমন্ত্রণ পান। ১৯৬১ সালে ১৯ জুলাই তিনি হায়দ্রাবাদে একটি মারাঠি ভাষাভাষী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

ডেভিড লয়েড:  ১৮ মার্চ, ১৯৪৭ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের অ্যাক্রিংটনে জন্মগ্রহণ করেন ইংল্যান্ডের এই সাবেক ক্রিকেটার । ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ‘বাম্বল’ ডাকনামে পরিচিত লয়েড কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলে খেলেন। দলে তিনি বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলাসহ বামহাতে স্পিন বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন।

এছাড়াও তিনি অ্যাক্রিংটন স্ট্যানলি দলের পক্ষে অর্ধ-পেশাদার ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ করেন। খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আম্পায়ারের দায়িত্বে মনোনিবেশ ঘটান। এছাড়াও তিনি ল্যাঙ্কাশায়ার ও ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ শেষে ইংল্যান্ড দলের কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। পরবর্তীতে টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার ছিলেন। বর্তমানে তিনি স্কাই স্পোর্টসে ধারাভাষ্যে নিয়োজিত। এছাড়াও তিনি লেখক, সাংবাদিক ও কলাম লেখক হিসেবে পরিচিত। তবে ধারাভাষ্যকার হিসেবেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত লাভ করেছেন

মাইক হেসম্যান: ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবে ততটা নাম কুড়াতে পারেননি মাইক হেসম্যান। তবে খেলাটা ছাড়ার পর যখন ধারাভাষ্যকার হিসেবে ক্রিকেটেই থেকে গেলেন, তখন ঠিকই নিজের প্রাপ্য সম্মানটা পেয়ে গেলেন মাইক হেসম্যান। বর্তমানে হেসম্যান একাধারে ধারাভাষ্যকার এবং ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছেন বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে।

স্থায়ীভাবে চুক্তিবদ্ধ আছেন ইএসপিএন ইন্টারন্যাশনাল, টেন স্পোর্টস ও সুপার স্পোর্টসের সাথে। এছাড়া হেসম্যান প্রায় ১০ বছর ধরে সুপার স্পোর্টসের ‘এক্সট্রা কাভার’ নামের একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন। তবে ২০০৬ সালের পর এই অনুষ্ঠান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন হেসম্যান। ধারাবিবরণী হেসম্যানের এতোটাই নেশা হয়ে গিয়েছিলো যে, এর কারণে তিনি নিজের পৈতৃক নিবাস ত্যাগ করে মায়ামিতে বসবাস শুরু করেছিলেন। সেখানে তার চুক্তি ছিলো অ্যালেন স্ট্যানফোর্ড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে। তবে সেই প্রতিষ্ঠানের অপেশাদারি আচরণের কারণে তিন বছর পর সেই চুক্তি থেকে তিনি ইস্তফা দেন।

 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker