খেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

ক্লাব ফুটবলের সর্বশেষ

মঞ্জুর দেওয়ান: ইউরো-কোপা আমেরিকা ছাড়া জাতীয় দলের খুব বেশি খেলা দেখেন না বেশিরভাগ ফুটবল প্রেমীরা। বিশ্বকাপও আসে চার বছর পর পর। তাই দু একটা হাই ভোল্টেজ ম্যাচ ছাড়া সারাবছর ক্লাব ফুটবলেই মেতে থাকেন সবাই। আর সারা বছরের ফুটবল খোরাক যুগিয়ে থাকেন মেসি-রোনালদো আর নেইমারই। বছর দুই আগে যেখানে ফুটবলের আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলো স্পেন; নেইমার আর রোনালদো স্পেন ছাড়ার পর ফুটবলের অনেকটা ‘বিকেন্দ্রীকরণ’ হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন ফুটবল বোদ্ধারা। এই যেমন নেইমার বার্সেলোনা ছাড়ার পর অনেকটা নেইমার জ্বরে বুঁদ হয়ে ছিল ফ্রান্স। ব্রাজিলিয়ান তারকার প্যারিস আগমনের উচ্ছ্বাস কাটতে কয়েক মাস লেগেছিলো! আর নেইমারের চেয়ে বেশি ধামাকা দিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। টাকার অংকে নেইমারকে ছাড়াতে না পারলেও গোলক ধাধায় ফেলেছিলেন ফুটবল বিশ্বকে। পর্তুগিজ তারকার ইতালি আগমনের কথা বিশ্বাস করতেই ভক্তদের উল্লেখযোগ্য সময় লেগেছিলো এমনটা বলাই যায়। ফুটবলের বিকেন্দ্রীকরণের প্রভাব বেশ ভালোভাবেই পড়েছে ক্লাব ফুটবলে। চলুন জেনে নেয়া যাক ক্লাব ফুটবলের সবশেষ হালচাল!

সোনার ডিম দেয়া হাঁসকে আটকে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিলো রিয়াল মাদ্রিদ। হয়তো শেষ সময়ে এসে ঠিকমতো কদর করতে পারেনি স্প্যানিশ জায়ান্টরা। যার খেসারত এখন পর্যন্ত চুকাতে পারেনি লস ব্লাঙ্কো। টানা তিন মৌসুম উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়ে কোচের দায়িত্ব থেকে সরে যান জিনেদিন জিদান। আর জিজুর পথ ধরে রোনালদোও বিদায় জানান রিয়ালকে। তারপর থেকে ‘পথভ্রষ্ট’ রিয়াল আর পথে ফিরতে পারেনি। এই মৌসুমে ১৬ বার হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে রিয়াল। নানা নাটকীয়তার পর জিদান আবার কোচের দায়িত্ব নিলেও এখনো লাগাম ভালোমতো ধরতে পারেননি। উল্লেখযোগ্য সব শিরোপা-ই হাতছাড়া হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন লিগ থেকে বাদ পড়েছে অনেক আগেই। টেবিলের তলানিতে থেকে বার্সেলোনর লিগ জয়ও দেখতে হয়েছে শতাব্দীর সেরা ক্লাবকে। আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য কেবল মাঠে নেমেছিলো জিদান শিষ্যরা। পয়েন্ট টেবিলের তিনে থেকে লিগ শেষ করতে হয়েছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সার সাথে ১৮ পয়েন্ট ব্যবধান রেখে কবে লিগ শেষ করেছিল রিয়াল তা হয়তো মনে নেই অনেকের।

টানা দ্বিতীয়বার লা লিগা জিতে উচ্ছ্বাসে ভাসছে বার্সেলোনা। ভুল হলো; শেষ ১১ বারের আটটি লিগ টাইটেল জিতে উড়ছে কাতালানরা। স্পেন ফুটবলের মুকুট কিভাবে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে নেয়া যায় সেটিই দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন মেসি-পিকেরা। শেষ ১১ মৌসুমে আটবার লিগ শিরোপা জেতা তো আর চারটি খানি কথা না! বার্সা যেখানে ‍আট, রিয়াল সেখানে মাত্র দুই! অন্য শিরোপাটি জিতেছিলো অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। লা লিগার দৌড়ে বার্সা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে , রিয়ালের সাথে শিরোপার দূরত্ব ততো কমছে। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রিয়ালকে ছাড়িয়ে যাওয়া বার্সার কাছে সময়ের অপেক্ষা মাত্র! অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে কাতালানরা। এরইমধ্যে ফাইনাল এক পা দিয়ে রেখেছে মেসিরা। সেমিফাইনালে ঘরের মাঠে লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বার্সা। ইউরোপ সেরার মুকুট জিততে মরিয়া বার্সার সামনে রয়েছে আরোও শিরোপা জেতার সুযোগ। চ্যাম্পিয়নস লিগের সাথে সাথে কোপা দেল রে জেতার সুযোগও রয়েছে কাতালানদের। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে জিততে পারলে সোনায় সোহাগা ! তিনবার ট্রেবল জয়ের অবিশ্বাস্য কীর্তি অপেক্ষা করছে বার্সেলোনার জন্য!

ইয়ুভেন্তাসে গিয়ে সুবিধা করতে পারেননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার যে স্বপ্ন নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের রাজাকে দলে টেনেছিলো ইয়ুভেন্তাস, তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন রোনালদো। নিজেদের ৩৫ ও টানা আট নম্বর লিগ শিরোপা জিতলেও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার স্বপ্ন মাটি হয়েছে তুরিনের ওল্ড লেডিদের। কিং অব চ্যাম্পিয়নস লিগ দলে থাকলেও চ্যাম্পিয়নস লিগের জুজু কাটিয়ে উঠতে না পারা ইয়ুভে আয়াক্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে। পরবর্তী মৌসুমের জন্য অপেক্ষা ছাড়া কিছুই করার নেই তুরিনের ওল্ড লেডিদের!

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিল নিয়ে ইঁদুর-বিড়াল খেলছে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল। একবার লিভারপুল আগে যায়; এক ম্যাচ পর আবার শীর্ষে সিটি! লিভারপুল-সিটির ‘টম এন্ড জেরি’ খেলায় রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। ফলে বহুদিন পর এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগ দেখার সুযোগ পাচ্ছে ফুটবল ভক্তরা। ৩৭ ম্যাচ খেলে ৯৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে লিভারপুল। এক ম্যাচ কম খেলা সিটির পয়েন্ট ৯২। লিভারপুল শীর্ষে থাকলেও লিগ জয়ের পাল্লা সিটির দিকেই ঝুঁকে আছে। সিটি পরবর্তী দুই ম্যাচ জিতলেই শিরোপা জিতবে। অন্যদিকে শিরোপা বগলদাবা করতে হলে লিভারপুলের বাকি এক ম্যাচ তো জিততেই হবে, সাথে সিটির হার কামনায় প্রার্থনা করতে হবে!

লিগে সিটির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে এবারও শিরোপা প্রত্যাশী লিভারপুল। কিন্তু টটেনহ্যামের কাছে হেরে এবারও খালি হাতে বিদায় নিতে হয়েছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যদের। অন্যদিকে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে ঠিকই শিষ্যদের ট্র্যাকে রেখেছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। যদিও বার্সার সাথে সেমির প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হেরেছে লিভারপুল। তারপরও জয়ের পিদিম এখনো জ্বলছে। প্রিমিয়ার লিগ এবং চ্যাম্পিয়ন্স জেতার সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে অল রেডদের। সালাহ-মানে-ফিরমিনো ত্রয়ীতে ভর করে চওড়া স্বপ্ন দেখতেই পারে লিভারপুল!

শুধু ফ্রান্স না, নিজেদের বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নেইমারকে দলে টেনেছিলো প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন। কিন্তু এবার ফ্রান্সের গন্ডি-ই পেরুতে পারলো না পিএসজি ! চ্যাম্পিয়নস লিগে ‘ধারাবাহিক’ ব্যর্থতা গ্রাস করেছে। এবারতো ফ্রান্স-ই জয় করতে পারলো না পিএসজি। রেঁনের কাছে হেরে ফরাসি কাপ গচ্ছা গেছে। এবার তাই ঘরোয়া ডাবল না জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে থমাস তুখেলের শিষ্যদের। লিগ ওয়ান-ই এখন সান্ত্বনা পুরষ্কার নেইমার-এমবাপেদের।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker